Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১২ অক্টোবর, ২০২৬
১২ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১২ অক্টোবর, ২০২৬
১২ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> বিশেষ প্রতিবেদন

নিরাপত্তায় এলাহি আয়োজনের পরও নির্বাচনে সহিংসতার শঙ্কা কেন?

আরমান ভূঁইয়া

আরমান ভূঁইয়া

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১০: ৩৪
নিরাপত্তায় এলাহি আয়োজনের পরও নির্বাচনে সহিংসতার শঙ্কা কেন?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা সামনে এনেছে সরকার। শুধু সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্যই প্রায় ৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই এলাহি আয়োজনের পরও নির্বাচনে সহিংসতার শঙ্কা কাটছে না।

Advertisement

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে দেশের রাজনীতি, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এক সংবেদনশীল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে সহিংসতা, ভয়ভীতি ও প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা কাটছে না ভোটারদের মধ্যে।

নির্বাচনের পর কী অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের জন্য?bd

ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি

প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সারা দেশের প্রায় ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬ হাজার ৫৫২টি কেন্দ্রে আগে থেকেই ক্যামেরা রয়েছে। অবশিষ্ট কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ২১ হাজার ৯৪৬টি কেন্দ্রকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে নতুন করে সিসিটিভি স্থাপনের জন্য সরকার ৭১ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। মঙ্গলবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, প্রতিটি কেন্দ্রে ন্যূনতম ছয়টি ক্যামেরা থাকবে, যার মাধ্যমে ভোট গ্রহণ, ব্যালট বাক্স সংরক্ষণ ও কেন্দ্রের ভেতরের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। এই ফুটেজ জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে মনিটরিং করা হবে। এটি দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা উদ্যোগ।

বডি ওর্ন ক্যামেরা

নির্বাচনী নিরাপত্তায় এবার নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে পুলিশের বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের মাধ্যমে। পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অন্তত ২৫ হাজার কেন্দ্রে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ফলে ভোটকেন্দ্রে কী ঘটছে, পুলিশ কীভাবে দায়িত্ব পালন করছে–সবকিছুই রেকর্ডে থাকবে।

এআই দিয়ে তৈরি প্রতীকী ছবি
এআই দিয়ে তৈরি প্রতীকী ছবি

পুলিশ সদর দপ্তরের এই কর্মকর্তা বলেন, “এই ব্যবস্থা একদিকে পুলিশের জবাবদিহি বাড়াবে, অন্যদিকে অপপ্রচার ও মিথ্যা অভিযোগ যাচাইয়ে সহায়ক হবে।”

মাঠে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোট ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন সদস্য মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর ১ লাখ, নৌবাহিনীর ৫ হাজার, বিমানবাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০ জন, পুলিশের ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৩ জন এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি বিজিবি, র‍্যাব, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরাও নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে।

গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন থাকবে এবং প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করবে।

নির্বাচন ঘিরে ‘টার্গেট কিলিং’ আতঙ্ক, গানম্যান কি যথেষ্ট?gunman db(1)

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের নিরাপত্তা

পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, সারা দেশে প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৬ হাজার কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ (ঝুঁকিপূর্ণ) এবং প্রায় ৮ হাজার কেন্দ্রকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ (অতি ঝুঁকিপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন পরে এগুলোকে দুই ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছে–গুরুত্বপূর্ণ ও অতি গুরুত্বপূর্ণ।

জাননো হয়, অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হবে, থাকবে অতিরিক্ত মোবাইল টিম, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর টহল। এসব কেন্দ্রে নজরদারি থাকবে তুলনামূলকভাবে বেশি।

রাজধানীতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা

ঢাকা মহানগরীতে ২ হাজার ১৩১টি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় মোতায়েন থাকবে প্রায় ২৫ হাজার পুলিশ সদস্য। প্রতিটি কেন্দ্রে অস্ত্রধারী পুলিশ ও আনসার সদস্য থাকবে। প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিদেশি পর্যবেক্ষক ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের উপস্থিতির কারণে রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।

‘কেন্দ্র দখল সহজ নয়’

অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম চরচাকে বলেন, “কেন্দ্র দখল করা এত সোজা বিষয় নয়। প্রতিটি কেন্দ্রে আনসার, পুলিশ, মোবাইল পার্টি (যানবাহনসহ অথবা যানবাহনবিহীন দুই-তিনজনের ছোট টহল দল) থাকবে। বিজিবি ও সেনাবাহিনী থাকবে টহলে। কোথাও সমস্যা হলেই ভোট বন্ধ করে দেওয়া হবে। কেন্দ্র দখল করে কারও লাভ নেই।”

রফিকুল ইসলাম বলেন, ছোটখাটো ভয়ভীতি বা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হতে পারে। তবে কেন্দ্র দখলের মতো বড় কিছু ঘটার আশঙ্কা কম।

ধরাছোঁয়ার বাইরে জেল পালানো ৭১৬ জনkashim pur-edt

রাজনীতিকদের শঙ্কা

তবে পুলিশের এই আশ্বাসে আস্থা রাখতে পারছেন না অনেক বিরোধী প্রার্থী। ঢাকা-৮ আসনে এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এখন দলীয় রূপ নিয়েছে। তার ভাষ্য, “একদিকে জনগণ, আরেকদিকে এস্টাবলিশমেন্ট। জনগণের নিরাপত্তা রাষ্ট্র দিতে না পারলে জনগণ নিজেদের নিরাপত্তা নিজেরাই নিশ্চিত করবে।”

তার এই বক্তব্য নির্বাচনী পরিবেশে আস্থার সংকটের বিষয়টি সামনে এনেছে। তিনি বলেন, “জনগণ, ভোটার কিংবা একজন প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু রাষ্ট্রীয় বাহিনী যদি কোনো দলের বাহিনীর মতো আচরণ করে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে না। এই বাস্তবতা থেকেই আমাদের মধ্যে গভীর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সে কারণেই আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নিজেদের নিরাপত্তার প্রস্তুতি নিচ্ছি। রাষ্ট্র যদি আমাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণ নিজেরাই নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাধ্য হবে।

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুও। তিনি ফেনী-২ আসন থেকে ১০-দলীয় জোটের প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করছেন। সম্প্রতি ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ টকশোতে মঞ্জু বলেন, “বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই ভঙ্গুর ও নাজুক অবস্থা। হাদি হত্যা থেকে শুরু করে অস্ত্র উদ্ধারে গিয়ে র‍্যাব সদস্যদের মৃত্যু বলে দেয় সুস্থ নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।”

একই অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম বলেন, “বর্তমানে সবাই নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। আমার আসনে কর্মীদের বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। প্রশাসন দিয়ে তাদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।”

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী রেহা কবির সিগমা বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ নেই। তিনি এবং তার কর্মীদের নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তবুও প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি বজায় থাকলে ভোটের পরিবেশের পাশাপাশি ভোটারও শঙ্কায় থাকবে।

শঙ্কা রয়েছে ভোটারদের মধ্যেও

ঢাকা-১২ আসনের স্থানীয় বাসিন্দা সোলাইমান মজুমদার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সফটওয়্যার বিভাগে চাকরি করেন। তিনি বলেন, “বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই খারাপ অবস্থায় রয়েছে। প্রশাসনের দুর্বলতার সুযোগে রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও অপরাধীরা প্রকাশ্যে অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। ভোটকেন্দ্রে যেতে গেলে নিরাপত্তা থাকবে কি না, সেটা নিয়েই সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক রয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ না হলে সাধারণ মানুষ ভোট দিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।”

সদ্য শিক্ষা জীবন শেষ করে কর্মজীবন শুরু করেছেন ঢাকা-১৪ আসনের ভোটার হুমাইরা নূর। আরও কয়েকবছর আগে ভোটার তালিকায় যুক্ত হলেও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রথম ভোট দিতে চান। তবে সাম্প্রতিক খুন, হামলা আর গোলাগুলির সংবাদে নির্বাচন সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে হুমাইরা বলেন, “ভোটের দিন কেন্দ্র পর্যন্ত নিরাপদে যাওয়া যাবে তো? আবার নিরপেক্ষভাবে ভোট দিতে পারব কি না, সেটাও বড় প্রশ্ন। আইনশৃঙ্খলা ঠিক না থাকলে নারীদের জন্য ভোট দেওয়া আরও কঠিন হবে।”

রাজধানীর তেজগাঁওয়ের বাসিন্দা সানাউল গানী বলেন, "নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক সহিংসতা, দখলদারি আর হুমকির ঘটনা আমরা আগেও দেখেছি, এখনও দেখছি। বিগত কয়েকটি নির্বাচনে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ছিল না। এখনো যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শক্ত অবস্থানে না থাকে, তাহলে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হবে না। আমরা চাই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, যেখানে ভয়ভীতি ছাড়া ভোট দিতে পারব।”

দেশজুড়ে গুলি-কোপাকুপি, প্রথম ৭ দিনেই ২০ খুনখুন

নিরাপত্তা বিশ্লেষকের সতর্কতা

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) ড. নাঈম আশফাক চৌধুরী মনে করেন, বাহিনীর সংখ্যা বা প্রযুক্তি যতই বাড়ানো হোক, সমন্বয় ও অংশগ্রহণ ছাড়া নিরাপত্তা টেকসই হবে না। তিনি বলেন, “দেশি-বিদেশি চক্রের হুমকি মূল্যায়ন জরুরি। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করে গ্রাসরুট পর্যায়ে নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।”

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র। ছবি: চরচা
দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র। ছবি: চরচা

তার মতে, নির্বাচন কমিশনের লিড রোল আরও দৃশ্যমান হওয়া উচিত এবং সরকারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে বাধ্য করার ক্ষেত্রে কমিশনকে আরও সক্রিয় হতে হবে।

আস্থাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান নির্বাচনী নিরাপত্তা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো আস্থার ঘাটতি। প্রযুক্তি, জনবল ও পরিকল্পনার পরিমাণ অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি হলেও নিরপেক্ষতা ও বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট নানা পক্ষ বলছে, আসন্ন নির্বাচন ঘিরে রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতি ব্যাপক ও বহুমাত্রিক হলেও এই প্রস্তুতি জনগণের আস্থা অর্জনে কতটা সফল হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। শেষ পর্যন্ত ভোটের দিন মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, বাহিনীর নিরপেক্ষ আচরণ এবং নির্বাচন কমিশনের কার্যকর নেতৃত্বই নির্ধারণ করবে–এই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হবে, নাকি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেবে।

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) নুরুল হুদা বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে যেসব শঙ্কা ও আলোচনা হচ্ছে, সেগুলো নিশ্চয়ই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ‘অ্যালার্ট’ হিসেবে রয়েছে এবং বিভিন্ন জায়গায় ঘটে যাওয়া ঘটনা ও আশঙ্কার বিষয়গুলো তারা নজরে রাখছে বলেই ধরে নিতে হবে। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একটি বড় ধাক্কা খেয়েছে। এত বড় ঘটনার পর অল্প সময়ের মধ্যে কোনো দেশেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পূর্ণ পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। এ বাস্তবতায় বাহিনী বর্তমানে যতটুকু কাজ করতে পারছে, তার চেয়ে বেশি করা সম্ভব বলে আমি মনে করি না।”

তার মতে, এমন একটি বিপর্যয়ের পর প্রশাসনিক কাঠামো ও কার্যপদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আসার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি। অনেক কিছু আগের মতোই চলছে। তাই নির্বাচন সামনে রেখে অযৌক্তিক প্রত্যাশা না করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ জোরদার, সময়মতো তথ্য আদান-প্রদান এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

বিষয়: সেনাবাহিনীনিরাপত্তানির্বাচনপুলিশবাংলাদেশ সেনাবাহিনীগণভোটত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনভোটনিরাপত্তারক্ষী
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    সাজেক ভ্যালিতে পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

  • ২

    রিয়াদ বিমানবন্দরে শনিবারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২৪ বাংলাদেশি আহত

  • ৩

    সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে আবার হামলা, টার্মিনালে আগুন

  • ৪

    রাশিয়া-ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ট্রাম্পের, বিস্মিত জেলেনস্কি

  • ৫

    ইউপি নির্বাচন: জানুয়ারি থেকে শুরু পাঁচ ধাপের ভোট

সম্পর্কিত
  • ইউপি নির্বাচন: জানুয়ারি থেকে শুরু পাঁচ ধাপের ভোট

    ইউপি নির্বাচন: জানুয়ারি থেকে শুরু পাঁচ ধাপের ভোট

    আগামী জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রথম ধাপের ভোট আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জুনের মধ্যে পাঁচ ধাপে দেশের প্রায় ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি। এর মধ্যে রমজানের আগে অন্তত তিন ধাপে

  • তিস্তার রূপ পরিবর্তনে আতঙ্কে চরাঞ্চলের কৃষকরা

    তিস্তার রূপ পরিবর্তনে আতঙ্কে চরাঞ্চলের কৃষকরা

    তিস্তার পানি কখনো বাড়ছে, আবার কখনো কমছে। এতে রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারী জেলার চরাঞ্চলের কৃষকরা পাকা ধান নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন। ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগমুহূর্তে পানি বেড়ে গেলে নিচু জমির পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের। কৃষি বিভাগ থেকে অবশ্য আগাম জ

  • দেশীয় ব্যবস্থাপনায় লাভজনক এনসিটি, তবু কেন ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা?

    দেশীয় ব্যবস্থাপনায় লাভজনক এনসিটি, তবু কেন ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা?

    চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় কনটেইনার টার্মিনাল নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, আন্তর্জাতিক মানের এই অপারেটরের মাধ্যমে টার্মিনাল পরিচালিত হলে বাড়বে দক্ষতা, কমবে জাহাজের অবস্থানকাল এবং আয় বাড়বে বন্দরের।

  • বার বার হয় দাম নির্ধারণ, তবু এলপি গ্যাস মেলে না কেন

    বার বার হয় দাম নির্ধারণ, তবু এলপি গ্যাস মেলে না কেন

    রাজধানীর দোকানে দোকানে ঘুরে এলপি গ্যাস পাচ্ছেন না ক্রেতারা। কোনো দোকানে পাওয়া গেলে তার জন্য গুনতে হচ্ছে কমপক্ষে দুই হাজার ৪০০ টাকা। সরকার নির্ধারিত দাম এক হাজার ৮৩৭ টাকা। অভিযোগ ছিল, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাড়তি দামে বিক্রি করা হয় এলপি গ্যাস। যদিও তখন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, স