Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২৬ অক্টোবর, ২০২৬
২৬ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২৬ অক্টোবর, ২০২৬
২৬ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> বিশেষ প্রতিবেদন

সরকারি সিকিউরিটিজে ঝুঁকছে ব্যাংকগুলো, শঙ্কা কোথায়?

রেজাউল করিম

রেজাউল করিম

প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১: ৫৬
সরকারি সিকিউরিটিজে ঝুঁকছে ব্যাংকগুলো, শঙ্কা কোথায়?
প্রতীকী ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে দেশের ব্যাংকগুলো। খেলাপি ঋণের ঝুঁকি এবং বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা কম থাকায় ব্যাংকগুলোর কাছে এসব সিকিউরিটিজ ধীরে ধীরে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। এতে তুলনামূলক নিরাপদ আয়ের সুযোগ তৈরি হলেও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ও নতুন বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ব্যাংকের জন্য লাভজনক হলেও দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনীতির জন্য এ প্রবণতা উদ্বেগজনক।

Advertisement

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকগুলোর সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ দাঁড়ায় চার লাখ চার হাজার ৯৩১ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে এ বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল দুই লাখ ৯৯ হাজার এক কোটি টাকা। সে হিসাবে, এক বছরে ব্যাংকগুলোর সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ বেড়েছে ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ। একই সময়ে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমেছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

অন্যদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষে সরকারি সিকিউরিটিজে মোট বিনিয়োগ দাঁড়ায় সাত লাখ ৯৫ হাজার ৩৫৯ কোটি টাকা। আগের অর্থবছর, অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষে এ পরিমাণ ছিল ছয় লাখ ৯৩ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা। সে হিসাবে, এক অর্থবছরে মোট বিনিয়োগ বেড়েছে এক লাখ এক হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা। ব্যক্তি পর্যায়ে বিনিয়োগ কমলেও ব্যাংক, বিমা কোম্পানি ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির কারণে মোট বিনিয়োগ বেড়েছে।

ব্যাংকগুলো কেন সরকারি সিকিউরিটিজ কিনছে?

সরকার বাজেট ঘাটতি মেটাতে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে ঋণ নেয়। ব্যাংকগুলো এসব সিকিউরিটিজ কিনলে সরকার অর্থ পায়। বিনিময়ে ব্যাংক নির্ধারিত হারে সুদ পায় এবং মেয়াদ শেষে মূল টাকা ফেরত পায়। বেসরকারি খাতে ঋণ দেওয়ার তুলনায় এতে ঋণখেলাপির ঝুঁকি কম থাকায় ব্যাংকগুলো একে তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে।

বেসরকারি খাতে ঋণ দিলে গ্রাহকের ব্যবসায়ীক ঝুঁকি ও ঋণ পরিশোধের অনিশ্চয়তা থাকে। তাই সেই খাত থেকে ব্যাংকের কত টাকা আয় হবে তা জানা যায় না। অন্যদিকে, সরকারি সিকিউরিটিজ থেকে সম্ভাব্য আয় সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা পাওয়া যায়। অর্থাৎ সরকারি সিকিউরিটিজে টাকা হারানোর ভয় যেমন থাকে না তেমনি কত টাকা আয় হবে সেটাও আগে থেকে জানা যায়। তাই ব্যাংকগুলো এই খাতে বিনিয়োগে ঝুঁকছে বলে জানাচ্ছেন অর্থনীতি ও ব্যাংককাররা।

ব্যাংকের সিএসআর: টাকা কোথায় যায়, নীতিমালা থাকলেও মানছে কতটা? csr

এ প্রসঙ্গে পূবালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মনজুরুর রহমান চরচাকে বলেন, “সরকার মূলত ঋণ নিয়েই দেশ চালাচ্ছে। সরকার যখন নেবে তখন অন্য ঋণ গ্রহীতারা ঋণ পাবে না। তখন বেসরকারি খাতে ঋণ কমবে।”

মনজুরুর আরও বলেন, “সরকার যেমন ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিচ্ছে আর ব্যাংকের মালিকরাও নিজেদের মতো করে ব্যাংক চালু করছে এবং টাকা পাচার করছে। আর যখন ব্যাংক খালি হয়ে যাচ্ছে তখন আমানতকারীরা নিজের টাকা তুলতে পারছে না। বেসরকারি খাতেও ঋণ কমছে।”

এভাবে চলতে থাকলে ব্যাংকগুলো কত দিন টিকে থাকতে পারবে, তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “ব্যাংকগুলো বর্তমানে এভাবেই চলছে। তবে এই পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলো ভবিষ্যতেও একইভাবে টিকে থাকতে বা অদৌ পারবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।”

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ কত

রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের হাতে দেশের আমানত ও ঋণের বড় অংশ। তাই এই ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের ধরন বদলালে সরকারি অর্থায়ন ও বেসরকারি খাতের ঋণে প্রভাব পড়ে।

সোনালী ব্যাংকের আয়ের বড় উৎস এখন সরকারি বিল-বন্ড। ২০২৪ সালে সরকারি সিকিউরিটিজে ব্যাংকটির মোট বিনিয়োগ ছিল ৮২ হাজার ৩৮১ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৪ হাজার ৩৮৫ কোটি টাকায়। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে সরকারি সিকিউরিটিজে সোনালী ব্যাংকের মোট বিনিয়োগ বেড়েছে দুই হাজার চার কোটি টাকা।

জনতা ব্যাংক এখন টিকে আছে সরকারি বিল-বন্ডের আয়ের ওপর। ২০২৪ সালে ব্যাংকটির মোট বিনিয়োগ ছিল প্রায় ২৪ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা। আর ২০২৫ সালে সরকারি সিকিউরিটিজে জনতা ব্যাংকের মোট বিনিয়োগ ছিল ২০ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এখানে জনতা ব্যাংকের বিনিয়োগ কমেছে। ২০২৫ সালে জনতা ব্যাংক গভীর তারল্য সংকটে পড়ে। ব্যাংকটির আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, এই সময়ে ব্যাংকটি প্রায় তিন হাজার ৯৩১ কোটি টাকা নিট লোকসান করেছে যা আগের বছরের তুলনায় ২৮ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে ব্যাংকটি রেকর্ড ৬৪ হাজার ৪০৬ কোটি টাকা মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে। এ কারণে সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করতে পারেনি ব্যাংকটি।

অগ্রণী ব্যাংকের ২০২৪ সালে সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ ছিল ২১ হাজার ৫৯৯ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, ব্যাংকটির এই খাতে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ২৫ হাজার ২১৭ কোটি টাকায়। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সরকারি সিকিউরিটিজে অগ্রণী ব্যাংকের বিনিয়োগ তিন হাজার ৬১৮ কোটি টাকা বা ১৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়েছে।

রূপালী ব্যাংকের সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ ২০২৪ সালে ছিল ১৬ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৯৪৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ বেড়েছে প্রায় তিন হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা বা ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোর অবস্থা কী?

সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে বেসরকারি ব্যাংকগুলোও। ২০২৫ সালে ব্র্যাক, সিটি, যমুনা, মিডল্যান্ড ও এনসিসি ব্যাংকের বিনিয়োগে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

ব্র্যাক ব্যাংকের সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ ২০২৪ সালের ২৮ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৬৪৭ কোটি টাকায়, যা আগের বছরের তুলনায় ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। ২০২৫ সালের শেষে ব্যাংকটির মোট সম্পদের প্রায় ৩১ শতাংশই ছিল সরকারি সিকিউরিটিজে।

সিটি ব্যাংকের বিনিয়োগ ২০২৪ সালের ১২ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে হয়েছে ১৯ হাজার ১২৫ কোটি টাকা, এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ৫৩ দশমিক ২ শতাংশ। একই সময়ে যমুনা ব্যাংকের বিনিয়োগ ১২ হাজার ৪১১ কোটি টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৪০২ কোটি টাকায়, যেখানে প্রবৃদ্ধি ৫৬ দশমিক ৩ শতাংশ।

৬ লাখ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ আদায়ে কী করছে বাংলাদেশ ব্যাংকBangladesh-Bank-Bad-Loans-Recovery

মিডল্যান্ড ব্যাংকের সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ দুই হাজার ১২৭ কোটি টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ২৭৩ কোটি টাকায়, যার প্রবৃদ্ধি ৫৩ দশমিক ৯ শতাংশ। অন্যদিকে, এনসিসি ব্যাংকের বিনিয়োগ ছয় হাজার ৫৯১ কোটি টাকা থেকে বেড়ে নয় হাজার ১০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।

অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়ছে?

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ব্যাংক সরকারি সিকিউরিটিজ কিনলে সরকার বাজেট ঘাটতি মেটানোর টাকা পায়। ব্যাংকও কম ঝুঁকিতে আয় করতে পারে। তবে এর একটি খারাপ দিক আছে।

ব্যাংক যদি বেসরকারি খাতে ঋণ না দিয়ে সরকারি সিকিউরিটিজে বেশি টাকা রাখে, তাহলে ব্যবসায়ীরা ঋণ কম পান। নতুন শিল্প গড়া কঠিন হয়। কারখানার উৎপাদন বাড়ানো বা ব্যবসা বড় করাও কঠিন হয়ে পড়ে। এতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

অর্থনীতিতে এই পরিস্থিতিকে বলা হয় ‘ক্রাউডিং আউট’। সরকার বেশি ঋণ নিলে ব্যাংকের টাকা সরকারের দিকে চলে যায়। তখন বেসরকারি খাতের জন্য টাকা কম থাকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে হয়েছে ৬ দশমিক ১০ শতাংশ। এক বছর আগে এটি ছিল ৭ দশমিক ৩০ শতাংশ। অন্যদিকে, সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এটি ছিল ১৬ দশমিক ৩২ শতাংশ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তা হয়েছে ২৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। অর্থাৎ ঋণের টাকা বেশি যাচ্ছে সরকারের কাছে।

ছবি: এআই দিয়ে তৈরি
ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর চরচাকে বলেন, “ব্যাংকগুলোর সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রবণতা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক নয়। বিশেষ করে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। সরকারকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।”

সাবেক এই গভর্নর বলেন, “সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করলে ব্যাংকগুলো তুলনামূলক নিরাপদে আয় করতে পারে। কিন্তু ব্যাংকগুলো যদি বেসরকারি খাতে ঋণ দেওয়ার চেয়ে সরকারকে ঋণ দেওয়াকেই বেশি লাভজনক মনে করে, তাহলে উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনীয় অর্থ পাবেন কোথা থেকে? বেসরকারি খাতের ব্যবসা সম্প্রসারণ, নতুন শিল্প স্থাপন এবং কর্মসংস্থান তৈরির জন্য ব্যাংকঋণ গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকগুলো যদি এই খাতে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে যায়, তাহলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।”

সরকারকে পরামর্শ দিয়ে আহসান এইচ মনসুর বলেন, “সরকারের উচিত ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের এই প্রবণতা এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের পরিস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা। ব্যাংকগুলো যেন নিরাপদ বিনিয়োগের পাশাপাশি উৎপাদনশীল খাতেও পর্যাপ্ত ঋণ দিতে আগ্রহী থাকে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান চরচাকে বলেন, “ব্যাংকগুলো যখন নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যমে আয় নিশ্চিত করতে চাইবে, তখন বেসরকারি খাতে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের আগ্রহ কমতে পারে। কারণ, বেসরকারি খাতে ঋণ দেওয়ার সঙ্গে ঋণখেলাপি হওয়া ও অর্থ ফেরত না পাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগকে ব্যাংকগুলো তুলনামূলক নিরাপদ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করে।”

মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, “বাংলাদেশে ইতিমধ্যে এ ধরনের প্রবণতা দেখা দিতে শুরু করেছে। ব্যাংকগুলো যদি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়ার পরিবর্তে সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ বাড়াতে থাকে, তাহলে নতুন শিল্প স্থাপন, ব্যবসা সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হবে এবং বেসরকারি খাত চাপে পড়বে যা ইতোমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ইতিহাসের তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।”

বিষয়: সরকারঋণবিনিয়োগটাকাসরকারিব্যাংক
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    সরকারি সিকিউরিটিজে ঝুঁকছে ব্যাংকগুলো, শঙ্কা কোথায়?

  • ২

    রবি মৌসুমের শুরুতে সার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তে সংসদীয় কমিটি

  • ৩

    ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর

  • ৪

    আইজিপির বিষয়ে সরকার পদক্ষেপ নেবে, আশা জামায়াতের

  • ৫

    আইজিপির বক্তব্যে ক্রসফায়ারের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত: আসক

সম্পর্কিত
  • শিক্ষাক্রমে বদল: অন্য দেশের অভিজ্ঞতা কী?

    শিক্ষাক্রমে বদল: অন্য দেশের অভিজ্ঞতা কী?

    স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষাক্রমে সাতবার বড় পরিবর্তন হয়েছে। প্রতিবারই দেখা গেছে, দেশে কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তন হলে অবধারিতভাবেই বদলে যায় শিক্ষানীতি। শিক্ষানীতি বা পাঠক্রমে বদল অন্য দেশেও হয়। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সংযোগ যতটা না থাকে, তারচেয়ে বেশি থাকে নতুন প্রযুক্তি

  • ব্যাংকের সিএসআর: টাকা কোথায় যায়, নীতিমালা থাকলেও মানছে কতটা?

    ব্যাংকের সিএসআর: টাকা কোথায় যায়, নীতিমালা থাকলেও মানছে কতটা?

    দেশের ব্যাংকগুলোর করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর তহবিলের অর্থ প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

  • নারীর প্রতি সহিংসতা কতটা ঠেকাতে পারছে ৯৯৯?

    নারীর প্রতি সহিংসতা কতটা ঠেকাতে পারছে ৯৯৯?

    রাজধানীর উত্তরার বাসিন্দা নাজমা আক্তার। শাশুড়ি ও জায়ের সঙ্গে পারিবারিক মনোমালিন্য থেকে একদিন বাগবিতণ্ডা, পরে মারধরের শিকার হন তিনি। নির্যাতনের শিকার হয়ে সাহায্য চেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করেন নাজমা। তার কল পেয়ে সংশ্লিষ্ট থানা থেকে পুলিশও আসে। কিন্তু যে প্রতিকার পাওয়ার আশায় তিনি জরুরি

  • রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমডি পদে নিয়োগের নীতিমালা কিছুটা শিথিল হচ্ছে কোন হিসাবে?

    রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমডি পদে নিয়োগের নীতিমালা কিছুটা শিথিল হচ্ছে কোন হিসাবে?

    সম্প্রতি ‘রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক পদে মনোনয়ন, নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন নীতিমালা’ সংশোধন করেছে সরকার। এদিকে, রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) না থাকায় নতুন নেতৃত্ব নিয়োগের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। সোনালী