Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ অক্টোবর, ২০২৬
১০ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ অক্টোবর, ২০২৬
১০ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> মতামত

মধ্যপ্রাচ্যের অশান্তির শেষ কোথায়?

সৈয়দ ইজাজ আহসান

প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৮: ৩৫
মধ্যপ্রাচ্যের অশান্তির শেষ কোথায়?

মধ্যপ্রাচ্য এখন যেন এক জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি। কিন্তু কেন এই সংকট? এর সূচনা কোথায়—তা আমরা মোটামুটি জানি, কিন্তু এর শেষ কোথায়—তা এই মুহূর্তে কারও পক্ষেই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

Advertisement

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর অটোমান সাম্রাজ্যের পতনের প্রেক্ষাপটে ব্রিটেন প্যালেস্টাইনের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। ১৯১৭ সালে ব্রিটেন ‘বেলফোর ঘোষণা’ জারি করে, যার মাধ্যমে প্যালেস্টাইনে একটি ইহুদি মাতৃভূমি প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায় প্রকাশ করা হয়। মাত্র ৬৭টি শব্দের একটি ঘোষণাই এমন এক দীর্ঘস্থায়ী বৈরিতার জন্ম দেয়, যার সমাধান আধুনিক সময়েও সম্ভব হয়নি।

১৯৪৮ সালের ১৪ মে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েল রাষ্ট্রের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে ইহুদিদের বহুদিনের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়। ১৯৪৭ সালের জাতিসংঘের বিভাজন পরিকল্পনা অনুযায়ী অঞ্চলটিকে আরব ও ইহুদি—এই দুই রাষ্ট্রে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী যুদ্ধে ইসরায়েল তার স্বাধীনতা নিশ্চিত করে এবং বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি নিজ ভূমি থেকে বাস্তুচ্যুত হয়। এই বাস্তুচ্যুতিই আজও মধ্যপ্রাচ্যের দ্বন্দ্বের অন্যতম মূল কারণ।

১৯৬৭ সালের ৫ থেকে ১০ জুন পর্যন্ত ইসরায়েল এবং মিসর (তৎকালীন ইউনাইটেড আরব রিপাবলিক), জর্ডান ও সিরিয়ার মধ্যে যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়, তা ‘ছয় দিনের যুদ্ধ’ নামে পরিচিত। মাত্র ছয় দিনের মধ্যে ইসরায়েল সামরিক বিজয় অর্জন করে এবং গাজা উপত্যকা, সিনাই উপদ্বীপ, পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গোলান মালভূমির নিয়ন্ত্রণ নেয়। সেই সময় থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনা ও বৈরিতা আজও বহমান।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

এই দীর্ঘ ইতিহাস সংক্ষিপ্ত পরিসরে তুলে ধরা সম্ভব নয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে যে সংঘাত, তা ক্রমেই বহুপক্ষীয় ও জটিল রূপ নিয়েছে। ইরানের আঞ্চলিক মিত্র—হিজবুল্লাহ, ইরাকের বিভিন্ন মিলিশিয়া গোষ্ঠী এবং ইয়েমেনের হুতিরাও এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। ফলে যুদ্ধের বিস্তার ইরান-ইসরায়েল সীমার বাইরে ছড়িয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো প্রত্যক্ষ মিত্র পায়নি। ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো সরাসরি অংশগ্রহণ থেকে বিরত রয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলোও সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে অনাগ্রহী, যদিও পরোক্ষভাবে কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দিচ্ছে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াও তাদের অনাগ্রহের কথা জানিয়েছে।

ফলে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র এক ধরনের কৌশলগত অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়েছে। দ্রুত সমাপ্তির পরিকল্পনায় শুরু হওয়া এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত রূপ নিয়েছে। ধারণা করা হয়েছিল, ইরানে অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটিয়ে অনুগত সরকার প্রতিষ্ঠা করা যাবে এবং কৌশলগত ও অর্থনৈতিক লক্ষ্য সহজেই অর্জিত হবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে।

ইরানকে দুর্বল করা গেলে মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য একপক্ষীয় হয়ে পড়বে—এমন ধারণা থেকে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল বলে অনেক বিশ্লেষকের মত। কিন্তু পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পথে এগোয়নি। বরং সংঘাত আরও জটিল ও বিস্তৃত হয়েছে।

বর্তমানে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব এলেও ইরান তা নিয়ে অনাস্থা প্রকাশ করছে। তাদের মতে, এ ধরনের প্রস্তাব মূলত পুনর্গঠন ও পুনরায় আক্রমণের সুযোগ তৈরি করে। ফলে ইরান কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং তাদের শর্ত পূরণ না হলে আলোচনায় বসতে অনাগ্রহী।

যুদ্ধের গতিপথও পরিবর্তিত হচ্ছে। হরমুজ প্রণালী—যা দিয়ে বিশ্ব জ্বালানির একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়—সেখানে অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে বাব আল-মান্দেব প্রণালীতেও উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। ডলারের পরিবর্তে বিকল্প মুদ্রায় জ্বালানি লেনদেনের আলোচনা বিশ্ব অর্থনীতির শক্তির ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে চীন ও রাশিয়া সরাসরি যুদ্ধে অংশ না নিলেও পরোক্ষভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।

সব মিলিয়ে, এই সংঘাতের শেষ কোথায়—তা এখনো অনিশ্চিত। যুদ্ধ বহুপক্ষীয় রূপ নেওয়ায় এর সমাধানও জটিল হয়ে উঠেছে। যদি কোনো এক পক্ষ স্পষ্টভাবে কৌশলগতভাবে টিকে থাকতে পারে এবং অন্য পক্ষকে পিছু হটতে বাধ্য করতে পারে, তবেই হয়তো এই সংঘাতের একটি পরিসমাপ্তি ঘটবে।

ইরান বলেছিল—“যুদ্ধ আমরা শুরু করিনি, কিন্তু শেষ করব আমরা।” তবে সেই সমাপ্তি কবে এবং কীভাবে আসবে, তা সময়ই বলে দেবে।

(মতামত লেখকের নিজস্ব)

সৈয়দ ইজাজ আহসান: বিভাগীয় প্রধান (ব্যবসায় শাখা), বাংলাদেশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মাস্কাট, ওমান

বিষয়: যুদ্ধযুক্তরাষ্ট্রআমেরিকাউপকূলীয় অঞ্চলইরান-ইসরায়েল সংঘাতমধ্যপ্রাচ্যফিলিস্তিনইরান
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    মহাকাশে অস্ত্রের বিস্তার, জিপিএস থেকে ব্যাংকিং—ঝুঁকিতে যে সেবাগুলো

  • ২

    ‘৫ আগস্টের পর মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা পাহারা দিয়েছে দাড়ি-টুপিঅলা লোকগুলো’

  • ৩

    ‘অনুঘটক না থাকলে আমি অভিনয় করতে চাই না’

  • ৪

    ‘আলেম-ওলামাদের সম্পর্কে বলা হয়- আরে ওরা তো দাওয়াত খাইয়া বেড়াবে’

  • ৫

    ব্রাজিলেও সরকার বদলাতে চায় আমেরিকা?

সম্পর্কিত
  • ডেগ বাণিজ্য এবং ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

    ডেগ বাণিজ্য এবং ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

    ডিসি সারওয়ার আলমের মতো অফিসার কম, তবে শূন্য নয়। তিনি নিজেই একটা ব্র্যান্ড। সুতরাং তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মতো কিছু নেই। তিনি এক সময় ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে বহু অসাধু ব্যবসায়ীকে জেলে পুরেছেন।

  • কিংবদন্তির জন্ম

    কিংবদন্তির জন্ম

    পেলে জানে হাজার মাইল দূরে তার বাবা অন্যের টেলিভিশনের সামনে দাঁড়িয়ে ছেলের খেলা দেখছেন। অথবা রেডিওতে ধারাবিবরণী শুনছেন। পেলের মনে আছে আট বছর আগে কীভাবে তার বাবা কেঁদেছিলেন। সে তার বাবাকে এবারও কাঁদাতে চায়, তবে এবার যেন সেই অশ্রু হয় আনন্দের। গর্বের। স্বপ্ন পূরণের।

  • বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা: ২৮ বছরের এক প্রবাসযাত্রায় মানুষের পাশে থাকার গল্প

    বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা: ২৮ বছরের এক প্রবাসযাত্রায় মানুষের পাশে থাকার গল্প

    প্রবাসজীবনের প্রথম দিকের সংগ্রাম তাকে শিখিয়েছে ধৈর্য, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা এবং শৃঙ্খলার গুরুত্ব, যা পরবর্তী সময়ে তার নেতৃত্বের মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

  • চলে গেছেন খামেনি, ইরান থামেনি: নতুন বাস্তবতা ও শান্তি চুক্তির পূর্বাপর

    চলে গেছেন খামেনি, ইরান থামেনি: নতুন বাস্তবতা ও শান্তি চুক্তির পূর্বাপর

    ইতিহাস বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো সংকটই একটি চুক্তির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে শেষ হয়নি। বর্তমান সমঝোতাও তার ব্যতিক্রম হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—এই যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আগের অবস্থায় আর ফিরবে না।