ফজলে রাব্বি

“ওই যে কয় না, ভাতে মারমু, পানিতে মারমু। অখন (এখন) আমগো হইছে হেই দশা। হারা রাইত লাইনে খাড়ায়া সকাল ১০ টায় তেল পামু। বাইক চালায়া রোজগার করমু। কিন্তু হেই রোজগারে সংসার চলবো না। কাইল রাতে ত্যালের দাম বাড়াইছে। পোলাপাইন স্কুলে যাইবো, বাস ভাড়া বাড়বো। গ্যাসের দামও এই মাসে বাড়ছে প্রায় চাইরশ টাকা। চাইল, ডাইল, নুন সবকিছুর দামই আবার বাড়বো। গরীব মানুষের বাচাঁনের উপায় নাই ভাই।”
এভাবেই নিজের হতাশার কথা চরচাকে জানাচ্ছিলেন রাজধানীর আসাদগেটে তালুকদার ফিলিং স্টেশনের সামনে তেলের জন্য অপেক্ষারত পাঠাও চালক মাহাবুবুর রহমান।
শনিবার রাতে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম গড়ে ১৬ শতাংশ বাড়িয়েছে সরকারের জ্বালানি বিভাগ। ডিজেল লিটারে ১৫ টাকা, কেরোসিন ১৮ টাকা, অকটেন ২০ টাকা এবং পেট্রল ১৯ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি আজ রোববার বিকেলে এপ্রিল মাসেই দ্বিতীয় দফায় এলপি গ্যাসের ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে করা হয় ১৯৪০ টাকা।
মাহবুবুর রহমানের প্রশ্ন, দাম বাড়িয়েও দুর্ভোগের অবসান হলো কি? তার দৃষ্টিতে শুধু জ্বালানির দামই বেড়েছে, কিন্তু তার বিপরীতে পাম্পের লাইন ছোট হয়নি একটুও।
সরেজমিনের চিত্রও বলছে একই কথা। তেলের জন্য অপেক্ষমান গাড়ি ও মোটরসাইকেলের লাইনের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক জরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, মিরপুর রোডসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে তীব্র যানজট। তালুকদার ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. এরশাদ জানান, দাম বাড়লেও গ্রাহকরা তেল পাচ্ছেন আগের নিয়মেই। তাই গ্রাহকদের আতঙ্ক না কমলে দুর্ভোগ কমবে না কোনোভাবেই।
অন্যদিকে সরকার বলছে তেলের পর্যাপ্ত মজুত আছে। কিন্তু এরপরও দাম বাড়িয়ে দেওয়া ভিন্ন বার্তা বলে মনে করছেন গ্রাহকরা। ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে লাইনে দাড়ানো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুশফিক বললেন, “আসলে মানুষ না, ঘাবড়ে গেছে সরকার। সেজন্য কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। দাম যদি বাড়াবেই, তাহলে এপ্রিলের শুরুতে কেন বাড়াল না। মাসের মাঝে এসে একবারে ২০ টাকা বাড়িয়ে পুরো বাজার ব্যবস্থাকেই অস্থির করে ফেলল না! আসলে সরকারের কোনো পরিকল্পনাই নেই ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের।”
বেড়েছে তেলের দাম, সড়কে কমেছে বাস
আগের রাতে তেলের দাম বৃদ্ধির খবরে যারা মেজাজ হারিয়ে ঘুমোতে গেলেন, তাদের জন্য সকাল থেকেই নতুন ভোগান্তি। হঠাৎই সড়ক থেকে ‘হারিয়ে গেছে’ রাজধানীর গণপরিবহন। আজ কর্মব্যস্ত রাজধানীতে যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেছেন বাসের জন্য। কিন্তু পাবলিক বাসের যেন অঘোষিত ধর্মঘট। কোনো কারণ ছাড়াই রাজধানীর সড়কে স্বাভাবিক ছিল না বাস চলাচল।
বাস না পেয়ে অনেকেই ভিড় ঠেলে উঠছেন, আবার কেউ কেউ অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বিকল্প যানবাহনে গন্তব্যে যাচ্ছেন। দিনভর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে দেখা যায় এমন চিত্র।

রোববার কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, পল্টন ও মহাখালীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যাত্রীদের বাসের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। সরেজমিনে কারওয়ান বাজারে দেখা যায়, অফিসগামী মানুষের দীর্ঘ সারি। নির্ধারিত সময়ের তুলনায় বাস আসছে কম। আর যেগুলো আসছে সেগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। একই চিত্র শাহবাগ ও পল্টন এলাকায়।
যাত্রীদের অভিযোগ, হঠাৎ বাসের সংখ্যা কমে যাওয়ায় ভোগান্তি চরমে উঠেছে। শাহবাগে অপেক্ষমাণ বেসরকারি চাকরিজীবী হাসান সিকদার জানান, “আগে যেখানে ১০-১৫ মিনিটে বাস পাওয়া যেত, আজ সেখানে আধাঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।”
পল্টনে শিক্ষার্থী ফাহিমুর রহমান বলেন, “বাস কম, ভিড় বেশি। গতকাল রাতে তেলের দাম বাড়ল, আর আজকেই রাস্তায় বাস নেই, বিষয়টা মোটেও কাকতালীয় না।”
গার্মেন্টসকর্মী শিউলি আক্তার বলেন, “সকালে দুইটা বাস ছেড়ে দিতে হইছে ভিড়ের কারণে। পরে কষ্ট করে একটায় উঠছি। আজকে বাস অনেক কম।”
কারওয়ান বাজার এলাকায় বাসের জন্য অপেক্ষমাণ ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন বলেন, “একটা বাসের জন্য ৪০ মিনিট দাঁড়িয়ে ছিলাম। পরে বাধ্য হয়ে রিকশা আর সিএনজি নিয়ে গন্তব্যে যেতে হয়েছে। খরচও বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। গতকাল তেলের দাম বেড়েছে। আজকে বাস বন্ধ রেখে একটু দুর্ভোগ তৈরি না করলে বাসের ভাড়া বাড়বে কীভাবে?”
তবে বাস ভাড়া বাড়াতে এমন কৌশলের কথা অস্বীকার করেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি এম এ বাতেন জানান, তেল সংকটেই রাস্তায় নেই বাসের স্বাভাবিক চলাচল। তিনি বলেন, “আমরা সরকারকে প্রপারলি জানাচ্ছি–তেলের কারণে গাড়ি চালানো যাচ্ছে না। সিটি সার্ভিসের বাসগুলোও চরম ভোগান্তিতে আছে। অনেক চালককে ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হচ্ছে। একদিন তেল নিয়ে চলাচল করার পর পরদিন আবার তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে নিয়মিত সার্ভিস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”

এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পরপরই বাস ভাড়া ৬৪ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে পরিবহন নেতারা। রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর বিআরটিএ ভবনে এ নিয়ে বৈঠক করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে, লঞ্চসহ নৌপরিবহনের ভাড়া ৪২ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশও করেছে খাত সংশ্লিষ্টরা।
কৃষিতে নেতিবাচক প্রভাবের শঙ্কা
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন এবং কৃষি বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে ডিজেলের মোট চাহিদা প্রায় ৪৩.৫ লাখ টন। এর মধ্যে প্রায় ২৪ শতাংশ বা ১০.৪৪ লাখ টন সরাসরি কৃষিকাজে (সেচ পাম্প, পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টর) ব্যবহৃত হয়। সরকার ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ১৫ টাকা বৃদ্ধি করে (প্রতি লিটার ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়)। কৃষিতে ব্যবহৃত ডিজেলকে লিটারে রূপান্তর করলে এবং প্রতি লিটারে ১৫ টাকা বাড়তি দাম হিসাব করলে মোট অতিরিক্ত খরচের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১,৫৬৬ কোটি টাকা! অর্থাৎ প্রতি বছর আগের তুলনায় এই দেড় হাজার কোটি টাকারও বেশি অতিরিক্ত অর্থ শুধুমাত্র ডিজেল কিনতেই ব্যয় করতে হবে, যা তাদের উৎপাদন খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিবে। এর প্রভাব পড়বে খাদ্য মূল্যস্ফিতিতে।
এদিকে, বাধ্য হয়েই জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে বলে সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। এই দাম বৃদ্ধিকে তিনি ‘সামান্য’ বলেও মনে করেন। অন্যদিকে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশ, ক্যাবের জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম চরচাকে বলেন, অপচয় কমিয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার সরকারের প্রতিশ্রুতি না রাখতে পারা দুঃখজনক। এই সিদ্ধান্ত জনগণের জন্য একটা বোঝা। সরকারের সুযোগ ছিল জনগণের জন্য জ্বালানি খাতে সুশাসন নিশ্চিত করে পুরো খাতটিকে রক্ষা করা।

“ওই যে কয় না, ভাতে মারমু, পানিতে মারমু। অখন (এখন) আমগো হইছে হেই দশা। হারা রাইত লাইনে খাড়ায়া সকাল ১০ টায় তেল পামু। বাইক চালায়া রোজগার করমু। কিন্তু হেই রোজগারে সংসার চলবো না। কাইল রাতে ত্যালের দাম বাড়াইছে। পোলাপাইন স্কুলে যাইবো, বাস ভাড়া বাড়বো। গ্যাসের দামও এই মাসে বাড়ছে প্রায় চাইরশ টাকা। চাইল, ডাইল, নুন সবকিছুর দামই আবার বাড়বো। গরীব মানুষের বাচাঁনের উপায় নাই ভাই।”
এভাবেই নিজের হতাশার কথা চরচাকে জানাচ্ছিলেন রাজধানীর আসাদগেটে তালুকদার ফিলিং স্টেশনের সামনে তেলের জন্য অপেক্ষারত পাঠাও চালক মাহাবুবুর রহমান।
শনিবার রাতে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম গড়ে ১৬ শতাংশ বাড়িয়েছে সরকারের জ্বালানি বিভাগ। ডিজেল লিটারে ১৫ টাকা, কেরোসিন ১৮ টাকা, অকটেন ২০ টাকা এবং পেট্রল ১৯ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি আজ রোববার বিকেলে এপ্রিল মাসেই দ্বিতীয় দফায় এলপি গ্যাসের ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে করা হয় ১৯৪০ টাকা।
মাহবুবুর রহমানের প্রশ্ন, দাম বাড়িয়েও দুর্ভোগের অবসান হলো কি? তার দৃষ্টিতে শুধু জ্বালানির দামই বেড়েছে, কিন্তু তার বিপরীতে পাম্পের লাইন ছোট হয়নি একটুও।
সরেজমিনের চিত্রও বলছে একই কথা। তেলের জন্য অপেক্ষমান গাড়ি ও মোটরসাইকেলের লাইনের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক জরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, মিরপুর রোডসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে তীব্র যানজট। তালুকদার ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. এরশাদ জানান, দাম বাড়লেও গ্রাহকরা তেল পাচ্ছেন আগের নিয়মেই। তাই গ্রাহকদের আতঙ্ক না কমলে দুর্ভোগ কমবে না কোনোভাবেই।
অন্যদিকে সরকার বলছে তেলের পর্যাপ্ত মজুত আছে। কিন্তু এরপরও দাম বাড়িয়ে দেওয়া ভিন্ন বার্তা বলে মনে করছেন গ্রাহকরা। ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে লাইনে দাড়ানো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুশফিক বললেন, “আসলে মানুষ না, ঘাবড়ে গেছে সরকার। সেজন্য কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। দাম যদি বাড়াবেই, তাহলে এপ্রিলের শুরুতে কেন বাড়াল না। মাসের মাঝে এসে একবারে ২০ টাকা বাড়িয়ে পুরো বাজার ব্যবস্থাকেই অস্থির করে ফেলল না! আসলে সরকারের কোনো পরিকল্পনাই নেই ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের।”
বেড়েছে তেলের দাম, সড়কে কমেছে বাস
আগের রাতে তেলের দাম বৃদ্ধির খবরে যারা মেজাজ হারিয়ে ঘুমোতে গেলেন, তাদের জন্য সকাল থেকেই নতুন ভোগান্তি। হঠাৎই সড়ক থেকে ‘হারিয়ে গেছে’ রাজধানীর গণপরিবহন। আজ কর্মব্যস্ত রাজধানীতে যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেছেন বাসের জন্য। কিন্তু পাবলিক বাসের যেন অঘোষিত ধর্মঘট। কোনো কারণ ছাড়াই রাজধানীর সড়কে স্বাভাবিক ছিল না বাস চলাচল।
বাস না পেয়ে অনেকেই ভিড় ঠেলে উঠছেন, আবার কেউ কেউ অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বিকল্প যানবাহনে গন্তব্যে যাচ্ছেন। দিনভর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে দেখা যায় এমন চিত্র।

রোববার কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, পল্টন ও মহাখালীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যাত্রীদের বাসের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। সরেজমিনে কারওয়ান বাজারে দেখা যায়, অফিসগামী মানুষের দীর্ঘ সারি। নির্ধারিত সময়ের তুলনায় বাস আসছে কম। আর যেগুলো আসছে সেগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। একই চিত্র শাহবাগ ও পল্টন এলাকায়।
যাত্রীদের অভিযোগ, হঠাৎ বাসের সংখ্যা কমে যাওয়ায় ভোগান্তি চরমে উঠেছে। শাহবাগে অপেক্ষমাণ বেসরকারি চাকরিজীবী হাসান সিকদার জানান, “আগে যেখানে ১০-১৫ মিনিটে বাস পাওয়া যেত, আজ সেখানে আধাঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।”
পল্টনে শিক্ষার্থী ফাহিমুর রহমান বলেন, “বাস কম, ভিড় বেশি। গতকাল রাতে তেলের দাম বাড়ল, আর আজকেই রাস্তায় বাস নেই, বিষয়টা মোটেও কাকতালীয় না।”
গার্মেন্টসকর্মী শিউলি আক্তার বলেন, “সকালে দুইটা বাস ছেড়ে দিতে হইছে ভিড়ের কারণে। পরে কষ্ট করে একটায় উঠছি। আজকে বাস অনেক কম।”
কারওয়ান বাজার এলাকায় বাসের জন্য অপেক্ষমাণ ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন বলেন, “একটা বাসের জন্য ৪০ মিনিট দাঁড়িয়ে ছিলাম। পরে বাধ্য হয়ে রিকশা আর সিএনজি নিয়ে গন্তব্যে যেতে হয়েছে। খরচও বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। গতকাল তেলের দাম বেড়েছে। আজকে বাস বন্ধ রেখে একটু দুর্ভোগ তৈরি না করলে বাসের ভাড়া বাড়বে কীভাবে?”
তবে বাস ভাড়া বাড়াতে এমন কৌশলের কথা অস্বীকার করেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি এম এ বাতেন জানান, তেল সংকটেই রাস্তায় নেই বাসের স্বাভাবিক চলাচল। তিনি বলেন, “আমরা সরকারকে প্রপারলি জানাচ্ছি–তেলের কারণে গাড়ি চালানো যাচ্ছে না। সিটি সার্ভিসের বাসগুলোও চরম ভোগান্তিতে আছে। অনেক চালককে ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হচ্ছে। একদিন তেল নিয়ে চলাচল করার পর পরদিন আবার তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে নিয়মিত সার্ভিস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”

এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পরপরই বাস ভাড়া ৬৪ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে পরিবহন নেতারা। রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর বিআরটিএ ভবনে এ নিয়ে বৈঠক করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে, লঞ্চসহ নৌপরিবহনের ভাড়া ৪২ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশও করেছে খাত সংশ্লিষ্টরা।
কৃষিতে নেতিবাচক প্রভাবের শঙ্কা
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন এবং কৃষি বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে ডিজেলের মোট চাহিদা প্রায় ৪৩.৫ লাখ টন। এর মধ্যে প্রায় ২৪ শতাংশ বা ১০.৪৪ লাখ টন সরাসরি কৃষিকাজে (সেচ পাম্প, পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টর) ব্যবহৃত হয়। সরকার ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ১৫ টাকা বৃদ্ধি করে (প্রতি লিটার ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়)। কৃষিতে ব্যবহৃত ডিজেলকে লিটারে রূপান্তর করলে এবং প্রতি লিটারে ১৫ টাকা বাড়তি দাম হিসাব করলে মোট অতিরিক্ত খরচের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১,৫৬৬ কোটি টাকা! অর্থাৎ প্রতি বছর আগের তুলনায় এই দেড় হাজার কোটি টাকারও বেশি অতিরিক্ত অর্থ শুধুমাত্র ডিজেল কিনতেই ব্যয় করতে হবে, যা তাদের উৎপাদন খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিবে। এর প্রভাব পড়বে খাদ্য মূল্যস্ফিতিতে।
এদিকে, বাধ্য হয়েই জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে বলে সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। এই দাম বৃদ্ধিকে তিনি ‘সামান্য’ বলেও মনে করেন। অন্যদিকে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশ, ক্যাবের জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম চরচাকে বলেন, অপচয় কমিয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার সরকারের প্রতিশ্রুতি না রাখতে পারা দুঃখজনক। এই সিদ্ধান্ত জনগণের জন্য একটা বোঝা। সরকারের সুযোগ ছিল জনগণের জন্য জ্বালানি খাতে সুশাসন নিশ্চিত করে পুরো খাতটিকে রক্ষা করা।