Advertisement Banner

ভাগ্যের সহায়তা পাবেন তো সৌম্য সরকার?

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
ভাগ্যের সহায়তা পাবেন তো সৌম্য সরকার?
সৌম্য সরকার। ছবি: বিসিবি

“সৌম্যকে দলে নিতে বলেন আপনারা, আমরাও তো ওকে খেলাতে চাই। কিন্তু কার জায়গায় সুযোগ দেব?”–নাম প্রকাশ না করার শর্তে চরচাকে কথাটা বলেছেন জাতীয় নির্বাচক প্যানেলের একজন সদস্য। আর এটাই সৌম্য সরকারের বর্তমান কঠিন বাস্তবতা। রান করলেও নেই দলে থাকার নিশ্চয়তা। আবার তাকে দলে ফেরানোর ইচ্ছা থাকলেও যেন পারছেন না নির্বাচকেরা।

এমন পরিস্থিতিতে একাদশে থাকা টপ অর্ডারের একজন ব্যাটসম্যানের বাজে ফর্মের অপেক্ষা করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই সৌম্যের। কারণ, তার যা করার তিনি সেটা করেছেন। নিজের খেলা শেষ ওয়ানডেতে গত অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হয়েছিলেন ম্যাচসেরা। খেলেছিলেন ৮৬ বলে ৯১ রানের দারুণ এক ইনিংস। এরপরও অদ্ভুত যুক্তিতে স্কোয়াডে থেকেও একাদশে আর জায়গা করতে পারছেন না তিনি।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের আগে মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও স্কোয়াডে ছিলেন সৌম্য। তবে একটি ম্যাচেও তাকে খেলানো হয়নি। দ্বাদশ ব্যক্তি হিসেবে নিজের কাজটা খুব যে উপভোগ করেননি, সেটা স্পষ্ট হয় ফেসবুকে পোস্ট করা তার পানির বোতল হাতে নেওয়া একটি ছবিতেই। যদিও সৌম্য পরে দাবি করেন, সেই পোস্ট দিয়ে তিনি কোনো বার্তা দিতে চাননি।

তবে সৌম্যকে নিয়ে একটা বার্তা যেন দিয়েই যাচ্ছেন নির্বাচকরা–সেটা গাজী আশরাফ হোসেনের পর হাবিবুল বাশারের প্যানেলও। আর তা হলো, বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানকে তারা একাদশে ‘অটোচয়েস’ হিসেবে দেখছেন না। বরং নির্বাচকরা সৌম্যকে বিকল্প ওপেনার বা তিন নম্বরের ব্যাকআপ হিসেবেই বিবেচনা করছেন।

আর তাই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতেও দলের বাইরেই থাকতে হয়েছে সৌম্যকে। তার পজিশনে ওপেন করা সাইফ সাম্প্রতিক সময়ে রানে না থাকলেও এই ম্যাচে দেখা পেয়েছেন ফিফটির। ফলে দ্বিতীয় বা এমনকি তৃতীয় ম্যাচেও তার বাদ পড়ার সম্ভাবনা কমই। আর তানজিদ হাসানকে টিম ম্যানেজমেন্ট টানা খেলিয়ে যাওয়ারই পক্ষপাতী।

সৌম্যের জন্য তাই রইল বাকি কেবল তিন নম্বর পজিশন। ওপেনিংয়ের চেয়ে এই জায়গাতেই বরং তার দলে ফেরার সম্ভাবনা বেশি। তিনে নাজমুল হোসেন শান্ত গত বছর অধিনায়কত্ব হারানোর পর থেকে পার করছেন কঠিন সময়। শেষ ১৩টি ৫০ ওভারের ম্যাচে নেই কোনো ফিফটি। গড় মাত্র ১৪.৯২।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেই নির্বাচকও নাজমুলের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত, “এত লম্বা সময় ধরে শান্ত রানে নেই, এটা কিন্তু দলের জন্যও নেতিবাচক। কারণ তার ওপর দলের ব্যাটিং অনেকটাই নির্ভর করে।”

তবে এই সিরিজের বাকি দুই ম্যাচে নাজমুলকে সুযোগ দেওয়ার পক্ষেই বাংলাদেশ দল। আর তাই দ্বিতীয় ম্যাচে সৌম্যের খেলার সম্ভাবনা বেশ কমই। এমন সময়ে যা করা যায়, তিনি সেটাই করে যাচ্ছেন। নিজেকে ফিট রাখা এবং শাণিত করা। সেই প্রয়াসে রোববারের নেট অনুশীলনে হাজির হন চেনা ছন্দে। পেসারদের দাপটের সঙ্গে সামলানোর পাশাপাশি স্পিনারদের উড়িয়েছেন সুইপ ও বাহারি রিভার্স সুইপে।

স্পিনের বিপক্ষে এই সাবলীল ব্যাটিংই হতে পারে সৌম্যের জন্য প্লাস পয়েন্ট। সিরিজের প্রথম ম্যাচে যে নিউজিল্যান্ডের নবীন স্পিনারদের কাছেই খাবি খেয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। বিশেষ করে সুইপ বা রিভার্স সুইপ একেবারেই খেলার চেষ্টা করেননি তারা, যা হতে পারত কার্যকর এক অস্ত্র। আর এই জায়গায় সৌম্য দলের অন্যতম সেরা।

তবে খোদ নির্বাচকরাই যখন ভেবে পান না কীভাবে তাকে একাদশে রাখা যায়, সেখানে সৌম্যের করার আছে সামান্যই। একটু ভাগ্যের সহায় প্রার্থনাই তাই একমাত্র সঙ্গী। ক্রিকেট বিধাতা কি সৌম্যের প্রার্থনা শুনবেন?

সম্পর্কিত