চরচা ডেস্ক

একটি গুলিও না ছুড়ে ইরান যুদ্ধের বড় বিজয়ী বেইজিং, এমনটাই মনে করেন মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওসের সম্পাদক জিম ভ্যান্ডেহাই। অ্যাক্সিওসের প্রকাশিত বিশ্লেষণে তিনি বলেছেন, ইরান যুদ্ধের সময় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তার পরিচিত কৌশলই ব্যবহার করেছেন। তিনি ধৈর্য ধরে আমেরিকার বিভ্রান্তি ও অভ্যন্তরীণ সমস্যাকে কাজে লাগিয়েছেন। এই সংঘাত চীনের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে। কোনো গুলি ছোড়া ছাড়াই, কোনো অর্থ খরচ না করেই চীন কূটনৈতিক প্রভাব, জ্বালানি কৌশল এবং মার্কিন সামরিক তথ্য–সব দিকেই শক্তিশালী হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সরবরাহ শৃঙ্খল, জ্বালানি নিরাপত্তা, ভূরাজনীতি এবং উন্নত প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তির দিকে কিছু অগ্রগতি হলেও হরমুজ প্রণালিতে সমস্যা এখনো চলছে। কৌশলগত ক্ষতি ইতিমধ্যে হয়ে গেছে। বিশেষ করে সামরিক দিকটি পেন্টাগনের জন্য উদ্বেগজনক। যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে তার জ্যাসম-ইআর স্টেলথ ক্রুজ মিসাইলের প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যবহার করেছে। এমনকি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মজুত টেনে আনতে হয়েছে। টোমাহক, প্যাট্রিয়ট, থ্যাড এবং ড্রোন–সব ধরনের অস্ত্রের সরবরাহ কমে গেছে।
অন্যদিকে চীন এই যুদ্ধ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শিক্ষা পেয়েছে। তারা দেখেছে আমেরিকা কীভাবে যুদ্ধে এআই ব্যবহার করে। কীভাবে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। কীভাবে বিমানবাহী রণতরী পরিচালনা করা হয়। এমনকি সস্তা ইরানি ড্রোন কীভাবে ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চাপে ফেলে। তাইওয়ান নিয়ে সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য এটি চীনের জন্য বাস্তব অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে। ফলে ভবিষ্যতে মার্কিন কৌশলের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর পরিকল্পনা করা তাদের জন্য সহজ হবে।
জ্বালানি খাতেও চীন লাভবান হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্ন ঘটলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে চাপ পড়ে। তখন অনেক দেশ বিকল্প শক্তির দিকে ঝোঁকে। চীন ইতিমধ্যে সৌর, বায়ু, ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক গাড়ির সরবরাহ শৃঙ্খলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে এই পরিবর্তন তাদের পক্ষে যায়। যদিও চীনের প্রায় অর্ধেক তেল হরমুজ দিয়ে আসে, তবুও দেশটি অনেকটাই স্বনির্ভর। নবায়নযোগ্য ও পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। তাদের কৌশলগত তেল মজুতও অনেক।
কূটনৈতিক দিকেও চীন সুবিধা পেয়েছে। যখন আমেরিকা কঠোর ভাষায় হুমকি দিচ্ছিল, তখন চীন নীরবে মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছে। পাকিস্তানের মাধ্যমে আলোচনার পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। এই সময়ে বিভিন্ন দেশ ভাবছিল তারা কার সাথে থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকার মিত্ররা দেখেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র অন্য অঞ্চল থেকে প্রতিরক্ষা সম্পদ সরিয়ে নিচ্ছে। এতে তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে চীনের দিকে কিছুটা ঝুঁকি কম তৈরি হয়েছে।

এআই খাতেও চীন লাভবান হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে বড় বড় প্রযুক্তি বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এতে চীনের জন্য সুযোগ তৈরি হয়েছে। চীনের নিজস্ব এআই সক্ষমতা ইতিমধ্যেই শক্তিশালী। তারা বাইরের সহায়তা ছাড়াই এগোতে পারছে। পশ্চিমা বিনিয়োগ যত বাধাগ্রস্ত হবে, চীনের বিকল্প তত শক্তিশালী হবে।
বিরল মৃত্তিকা বা রেয়ার আর্থ এলিমেন্টের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এই খনিজ আধুনিক প্রযুক্তি ও অস্ত্র তৈরিতে জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রে এই খাতে সক্ষমতা কম। কিন্তু চীন খনি, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদনের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে প্রতিটি আধুনিক অস্ত্র তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্র পরোক্ষভাবে চীনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। যত বেশি অস্ত্র ব্যবহার হচ্ছে, এই নির্ভরতা তত বাড়ছে।
তবে চীনের সুবিধা সীমাহীন নয়। যদি হরমুজে দীর্ঘ সময় সমস্যা চলে, তাহলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে চীনের রপ্তানিও কমে যেতে পারে। তাই চীন দ্রুত স্থিতিশীলতা চায়। তাদের লক্ষ্য হলো স্থিতিশীল বিশ্ব ব্যবস্থা। তবে অনেক দেশ এখন স্থিতিশীলতার জন্য চীনের দিকে তাকাচ্ছে–এটিও বাস্তবতা।
সব মিলিয়ে ভ্যান্ডেহাইয়ের বিশ্লেষণ স্পষ্ট। এই যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি লাভ করেছে সেই দেশ, যে কোনো যুদ্ধই করেনি। সামরিক তথ্য, জ্বালানি কৌশল, প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা, কূটনৈতিক প্রভাব–সব দিক থেকে চীন এগিয়ে গেছে। কোনো সৈন্য না পাঠিয়েও, কোনো অস্ত্র ব্যবহার না করেও তারা সুবিধা নিয়েছে। এটি শি জিনপিংয়ের ধৈর্যশীল ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের একটি বড় উদাহরণ।

একটি গুলিও না ছুড়ে ইরান যুদ্ধের বড় বিজয়ী বেইজিং, এমনটাই মনে করেন মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওসের সম্পাদক জিম ভ্যান্ডেহাই। অ্যাক্সিওসের প্রকাশিত বিশ্লেষণে তিনি বলেছেন, ইরান যুদ্ধের সময় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তার পরিচিত কৌশলই ব্যবহার করেছেন। তিনি ধৈর্য ধরে আমেরিকার বিভ্রান্তি ও অভ্যন্তরীণ সমস্যাকে কাজে লাগিয়েছেন। এই সংঘাত চীনের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে। কোনো গুলি ছোড়া ছাড়াই, কোনো অর্থ খরচ না করেই চীন কূটনৈতিক প্রভাব, জ্বালানি কৌশল এবং মার্কিন সামরিক তথ্য–সব দিকেই শক্তিশালী হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সরবরাহ শৃঙ্খল, জ্বালানি নিরাপত্তা, ভূরাজনীতি এবং উন্নত প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তির দিকে কিছু অগ্রগতি হলেও হরমুজ প্রণালিতে সমস্যা এখনো চলছে। কৌশলগত ক্ষতি ইতিমধ্যে হয়ে গেছে। বিশেষ করে সামরিক দিকটি পেন্টাগনের জন্য উদ্বেগজনক। যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে তার জ্যাসম-ইআর স্টেলথ ক্রুজ মিসাইলের প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যবহার করেছে। এমনকি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মজুত টেনে আনতে হয়েছে। টোমাহক, প্যাট্রিয়ট, থ্যাড এবং ড্রোন–সব ধরনের অস্ত্রের সরবরাহ কমে গেছে।
অন্যদিকে চীন এই যুদ্ধ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শিক্ষা পেয়েছে। তারা দেখেছে আমেরিকা কীভাবে যুদ্ধে এআই ব্যবহার করে। কীভাবে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। কীভাবে বিমানবাহী রণতরী পরিচালনা করা হয়। এমনকি সস্তা ইরানি ড্রোন কীভাবে ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চাপে ফেলে। তাইওয়ান নিয়ে সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য এটি চীনের জন্য বাস্তব অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে। ফলে ভবিষ্যতে মার্কিন কৌশলের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর পরিকল্পনা করা তাদের জন্য সহজ হবে।
জ্বালানি খাতেও চীন লাভবান হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্ন ঘটলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে চাপ পড়ে। তখন অনেক দেশ বিকল্প শক্তির দিকে ঝোঁকে। চীন ইতিমধ্যে সৌর, বায়ু, ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক গাড়ির সরবরাহ শৃঙ্খলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে এই পরিবর্তন তাদের পক্ষে যায়। যদিও চীনের প্রায় অর্ধেক তেল হরমুজ দিয়ে আসে, তবুও দেশটি অনেকটাই স্বনির্ভর। নবায়নযোগ্য ও পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। তাদের কৌশলগত তেল মজুতও অনেক।
কূটনৈতিক দিকেও চীন সুবিধা পেয়েছে। যখন আমেরিকা কঠোর ভাষায় হুমকি দিচ্ছিল, তখন চীন নীরবে মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছে। পাকিস্তানের মাধ্যমে আলোচনার পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। এই সময়ে বিভিন্ন দেশ ভাবছিল তারা কার সাথে থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকার মিত্ররা দেখেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র অন্য অঞ্চল থেকে প্রতিরক্ষা সম্পদ সরিয়ে নিচ্ছে। এতে তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে চীনের দিকে কিছুটা ঝুঁকি কম তৈরি হয়েছে।

এআই খাতেও চীন লাভবান হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে বড় বড় প্রযুক্তি বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এতে চীনের জন্য সুযোগ তৈরি হয়েছে। চীনের নিজস্ব এআই সক্ষমতা ইতিমধ্যেই শক্তিশালী। তারা বাইরের সহায়তা ছাড়াই এগোতে পারছে। পশ্চিমা বিনিয়োগ যত বাধাগ্রস্ত হবে, চীনের বিকল্প তত শক্তিশালী হবে।
বিরল মৃত্তিকা বা রেয়ার আর্থ এলিমেন্টের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এই খনিজ আধুনিক প্রযুক্তি ও অস্ত্র তৈরিতে জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রে এই খাতে সক্ষমতা কম। কিন্তু চীন খনি, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদনের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে প্রতিটি আধুনিক অস্ত্র তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্র পরোক্ষভাবে চীনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। যত বেশি অস্ত্র ব্যবহার হচ্ছে, এই নির্ভরতা তত বাড়ছে।
তবে চীনের সুবিধা সীমাহীন নয়। যদি হরমুজে দীর্ঘ সময় সমস্যা চলে, তাহলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে চীনের রপ্তানিও কমে যেতে পারে। তাই চীন দ্রুত স্থিতিশীলতা চায়। তাদের লক্ষ্য হলো স্থিতিশীল বিশ্ব ব্যবস্থা। তবে অনেক দেশ এখন স্থিতিশীলতার জন্য চীনের দিকে তাকাচ্ছে–এটিও বাস্তবতা।
সব মিলিয়ে ভ্যান্ডেহাইয়ের বিশ্লেষণ স্পষ্ট। এই যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি লাভ করেছে সেই দেশ, যে কোনো যুদ্ধই করেনি। সামরিক তথ্য, জ্বালানি কৌশল, প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা, কূটনৈতিক প্রভাব–সব দিক থেকে চীন এগিয়ে গেছে। কোনো সৈন্য না পাঠিয়েও, কোনো অস্ত্র ব্যবহার না করেও তারা সুবিধা নিয়েছে। এটি শি জিনপিংয়ের ধৈর্যশীল ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের একটি বড় উদাহরণ।