চরচা ডেস্ক

২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’-এর নামে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক আগ্রাসন হয়েছিল। মূলত ইউক্রেনের পশ্চিমাঘেঁষা নীতি এবং সামরিক জোট ন্যাটোর দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রচেষ্টাকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য ‘হুমকি’ হিসেবে দাবি করে এই হামলা চালায় মস্কো। গত চার বছর ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত সম্প্রতি আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে; সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেনের প্রধান প্রধান শহর, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইউক্রেনের সাধারণ মানুষ শুধু ঘরবাড়িই হারায়নি, শিকার হয়েছে অবর্ণনীয় নৃশংসতার। রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বর্বর নির্যাতন, বৈদ্যুতিক শক, পদ্ধতিগত যৌন সহিংসতা এবং শিশুদের জোরপূর্বক রাশিয়ায় নির্বাসনের মতো আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অসংখ্য অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে ইউক্রেনের প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি যুদ্ধাপরাধের মামলা দায়ের করেছে।
তবে যখন রণক্ষেত্রের এই ভয়াবহ অপরাধগুলোর জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে, ঠিক তখনই এক ভিন্ন সংকটে পড়েছে ইউক্রেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তাদের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ এজেন্ডা বাস্তবায়নে বৈদেশিক সহায়তা ব্যাপকভাবে হ্রাস করায় বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে ইউক্রেনের যুদ্ধাপরাধ তদন্তের তহবিল। বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রধান কারিগর যুক্তরাষ্ট্রের এই আকস্মিক পশ্চাদপসরণ এখন ইউক্রেনের লাখো ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার পাওয়ার পথকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
মার্কিন অর্থায়ন হ্রাসের চিত্র ও প্রভাব
নাৎসি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত নুরেমবার্গ ট্রায়ালের পর থেকেই বিশ্বজুড়ে নৃশংসতার জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২২ সাল থেকে ইউক্রেনের যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত উদ্যোগগুলোর জন্য বিশেষভাবে ২৮ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বেশি মার্কিন তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছিল।
তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে মারাত্মক এই সংঘাতের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত অলাভজনক সংস্থা ‘ট্রুথ হাউন্ডস’ এবং আরও ডজন খানেক সংস্থাকে অর্থায়ন করা বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
রয়টার্সের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন ও নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন বৈদেশিক সহায়তায় সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করার পর এই বরাদ্দের অন্তত ৪০ শতাংশ কর্মসূচি হয় বাতিল করা হয়েছে, না হয় সেগুলোর মেয়াদ ‘বাধ্যতামূলক’ শেষ করে দেওয়া হয়েছে। ইউক্রেনের একজন ঊর্ধ্বতন সূত্রের মতে, ট্রাম্পের এই তহবিল কাটছাঁট যুদ্ধাপরাধের জবাবদিহিতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত দেশটির মার্কিন-অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর প্রায় অর্ধেককেই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
তহবিল সংকটের কারণে মাঠপর্যায়ে যে ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
মানবাধিকার সংস্থার কার্যক্রম সংকুচিত: ইউক্রেনজুড়ে প্রায় ১৭ হাজার যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ নথিভুক্ত করা ট্রুথ হাউন্ডস তাদের কর্মী ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়েছে। মার্কিন অর্থায়ন বন্ধ হওয়ায় তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্কাইভ প্রকল্প এবং বিচারক ও প্রসিকিউটরদের আন্তর্জাতিক আইনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম স্থগিত হয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের অনুপস্থিতি: মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) চাপ কমিয়ে দেওয়ায় রণক্ষেত্রের প্রমাণ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে সহায়তাকারী ডজন খানেক বিদেশি বিশেষজ্ঞ এখন আর ইউক্রেন ভ্রমণ করতে পারছেন না।
অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ থমকে যাওয়া: ট্রাম্প প্রশাসন ‘ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট’ (ইউএসএআইডি) বিলুপ্ত করার পর ইউক্রেনের বিচার ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণের একটি বড় কর্মসূচি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে যুদ্ধে ধ্বংস হয়ে যাওয়া একটি আদালত ভবন পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনাও থমকে গেছে।
ডিজিটাল অনুসন্ধান ও শিশু ট্র্যাকিং ব্যাহত
রাশিয়ার দখলে থাকা এলাকা বা রাশিয়ার অভ্যন্তরে নিয়ে যাওয়া ইউক্রেনীয় শিশুদের ট্র্যাক করতে ইয়েল ইউনিভার্সিটির ‘হিউম্যানিটারিয়ান রিসার্চ ল্যাব’ স্যাটেলাইট ইমেজ ও ওপেন সোর্স তথ্য ব্যবহার করে আসছিল, যা ইউক্রেনের প্রসিকিউটরদের জন্য ছিল অত্যন্ত মূল্যবান। কিন্তু রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, পররাষ্ট্র দপ্তর প্রায় ৮০ লাখ ডলারের তহবিল আটকে দেওয়ায় এই ল্যাবের অর্থায়নও শেষ হওয়ার মুখে, যা অপহৃত শিশুদের অবস্থান শনাক্তকরণ এবং তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে বহুবছর পিছিয়ে দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বৈশ্বিক বিচার ব্যবস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চাদপসরণ
এই বিপুল তহবিল কাটছাঁট অনেক ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণ হতে পারে। এই কাটছাঁট মূলত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কাজ করা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পশ্চাদপসরণকেই প্রতিফলিত করে।
গত বছর, ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এমন একটি অফিস বন্ধ করে দেয়, যা ১৯৯৭ সাল থেকে গণ-নৃশংসতার বিরুদ্ধে বৈশ্বিক পদক্ষেপের সমন্বয় সাধনে কাজ করছিল। একই সাথে তারা ইউক্রেনকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে সহায়তাকারী মার্কিন বিচার বিভাগের একটি দলকেও বিলুপ্ত করে। এছাড়া, ইউক্রেনে আগ্রাসনের জন্য রুশ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা তৈরিতে নিয়োজিত একটি বহুজাতিক গ্রুপ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ব্রিটেনসহ অন্যান্য প্রধান দাতারা অবশ্য জানিয়েছে, ইউক্রেনের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে মাঠপর্যায়ের আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তির দেওয়া সহায়তার অভাব কেবল ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ব্রিটেনের অতিরিক্ত অনুদান দিয়ে সহজে পূরণ হওয়ার নয়। ফলে প্রমাণ ধ্বংস হওয়ার আগেই অপরাধীদের শাস্তির মুখোমুখি করার যে তাগিদ ইউক্রেনীয়দের রয়েছে, তা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’-এর নামে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক আগ্রাসন হয়েছিল। মূলত ইউক্রেনের পশ্চিমাঘেঁষা নীতি এবং সামরিক জোট ন্যাটোর দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রচেষ্টাকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য ‘হুমকি’ হিসেবে দাবি করে এই হামলা চালায় মস্কো। গত চার বছর ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত সম্প্রতি আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে; সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেনের প্রধান প্রধান শহর, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইউক্রেনের সাধারণ মানুষ শুধু ঘরবাড়িই হারায়নি, শিকার হয়েছে অবর্ণনীয় নৃশংসতার। রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বর্বর নির্যাতন, বৈদ্যুতিক শক, পদ্ধতিগত যৌন সহিংসতা এবং শিশুদের জোরপূর্বক রাশিয়ায় নির্বাসনের মতো আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অসংখ্য অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে ইউক্রেনের প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি যুদ্ধাপরাধের মামলা দায়ের করেছে।
তবে যখন রণক্ষেত্রের এই ভয়াবহ অপরাধগুলোর জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে, ঠিক তখনই এক ভিন্ন সংকটে পড়েছে ইউক্রেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তাদের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ এজেন্ডা বাস্তবায়নে বৈদেশিক সহায়তা ব্যাপকভাবে হ্রাস করায় বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে ইউক্রেনের যুদ্ধাপরাধ তদন্তের তহবিল। বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রধান কারিগর যুক্তরাষ্ট্রের এই আকস্মিক পশ্চাদপসরণ এখন ইউক্রেনের লাখো ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার পাওয়ার পথকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
মার্কিন অর্থায়ন হ্রাসের চিত্র ও প্রভাব
নাৎসি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত নুরেমবার্গ ট্রায়ালের পর থেকেই বিশ্বজুড়ে নৃশংসতার জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২২ সাল থেকে ইউক্রেনের যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত উদ্যোগগুলোর জন্য বিশেষভাবে ২৮ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বেশি মার্কিন তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছিল।
তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে মারাত্মক এই সংঘাতের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত অলাভজনক সংস্থা ‘ট্রুথ হাউন্ডস’ এবং আরও ডজন খানেক সংস্থাকে অর্থায়ন করা বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
রয়টার্সের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন ও নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন বৈদেশিক সহায়তায় সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করার পর এই বরাদ্দের অন্তত ৪০ শতাংশ কর্মসূচি হয় বাতিল করা হয়েছে, না হয় সেগুলোর মেয়াদ ‘বাধ্যতামূলক’ শেষ করে দেওয়া হয়েছে। ইউক্রেনের একজন ঊর্ধ্বতন সূত্রের মতে, ট্রাম্পের এই তহবিল কাটছাঁট যুদ্ধাপরাধের জবাবদিহিতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত দেশটির মার্কিন-অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর প্রায় অর্ধেককেই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
তহবিল সংকটের কারণে মাঠপর্যায়ে যে ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
মানবাধিকার সংস্থার কার্যক্রম সংকুচিত: ইউক্রেনজুড়ে প্রায় ১৭ হাজার যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ নথিভুক্ত করা ট্রুথ হাউন্ডস তাদের কর্মী ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়েছে। মার্কিন অর্থায়ন বন্ধ হওয়ায় তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্কাইভ প্রকল্প এবং বিচারক ও প্রসিকিউটরদের আন্তর্জাতিক আইনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম স্থগিত হয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের অনুপস্থিতি: মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) চাপ কমিয়ে দেওয়ায় রণক্ষেত্রের প্রমাণ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে সহায়তাকারী ডজন খানেক বিদেশি বিশেষজ্ঞ এখন আর ইউক্রেন ভ্রমণ করতে পারছেন না।
অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ থমকে যাওয়া: ট্রাম্প প্রশাসন ‘ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট’ (ইউএসএআইডি) বিলুপ্ত করার পর ইউক্রেনের বিচার ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণের একটি বড় কর্মসূচি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে যুদ্ধে ধ্বংস হয়ে যাওয়া একটি আদালত ভবন পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনাও থমকে গেছে।
ডিজিটাল অনুসন্ধান ও শিশু ট্র্যাকিং ব্যাহত
রাশিয়ার দখলে থাকা এলাকা বা রাশিয়ার অভ্যন্তরে নিয়ে যাওয়া ইউক্রেনীয় শিশুদের ট্র্যাক করতে ইয়েল ইউনিভার্সিটির ‘হিউম্যানিটারিয়ান রিসার্চ ল্যাব’ স্যাটেলাইট ইমেজ ও ওপেন সোর্স তথ্য ব্যবহার করে আসছিল, যা ইউক্রেনের প্রসিকিউটরদের জন্য ছিল অত্যন্ত মূল্যবান। কিন্তু রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, পররাষ্ট্র দপ্তর প্রায় ৮০ লাখ ডলারের তহবিল আটকে দেওয়ায় এই ল্যাবের অর্থায়নও শেষ হওয়ার মুখে, যা অপহৃত শিশুদের অবস্থান শনাক্তকরণ এবং তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে বহুবছর পিছিয়ে দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বৈশ্বিক বিচার ব্যবস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চাদপসরণ
এই বিপুল তহবিল কাটছাঁট অনেক ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণ হতে পারে। এই কাটছাঁট মূলত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কাজ করা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পশ্চাদপসরণকেই প্রতিফলিত করে।
গত বছর, ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এমন একটি অফিস বন্ধ করে দেয়, যা ১৯৯৭ সাল থেকে গণ-নৃশংসতার বিরুদ্ধে বৈশ্বিক পদক্ষেপের সমন্বয় সাধনে কাজ করছিল। একই সাথে তারা ইউক্রেনকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে সহায়তাকারী মার্কিন বিচার বিভাগের একটি দলকেও বিলুপ্ত করে। এছাড়া, ইউক্রেনে আগ্রাসনের জন্য রুশ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা তৈরিতে নিয়োজিত একটি বহুজাতিক গ্রুপ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ব্রিটেনসহ অন্যান্য প্রধান দাতারা অবশ্য জানিয়েছে, ইউক্রেনের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে মাঠপর্যায়ের আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তির দেওয়া সহায়তার অভাব কেবল ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ব্রিটেনের অতিরিক্ত অনুদান দিয়ে সহজে পূরণ হওয়ার নয়। ফলে প্রমাণ ধ্বংস হওয়ার আগেই অপরাধীদের শাস্তির মুখোমুখি করার যে তাগিদ ইউক্রেনীয়দের রয়েছে, তা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।