Advertisement Banner

লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকা থেকে তেল কিনছে ভারত

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকা থেকে তেল কিনছে ভারত
তেলের চাহিদা পূরণে ভারত লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকা দ্বারস্থ হয়েছে। ছবি: রয়টার্স

হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ভারতীয় শোধনাগারগুলো তেল আমদানির জন্য লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার দিকে ঝুঁকছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরায় প্রকাশিত এক খবরে এ তথ্য জানা যায়।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে, ভারতীয় শোধনাগারগুলো তাদের প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের সিংহভাগই নিকটবর্তী মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে কিনে আসছিল।

অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠান কেপলার-এর প্রাথমিক তথ্যের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে যে, ঘাটতি মেটাতে এপ্রিল ও মে মাসে ভারতীয় শোধনাগারগুলো ভেনেজুয়েলা, ব্রাজিল, অ্যাঙ্গোলা এবং নাইজেরিয়া থেকে আমদানি বাড়িয়েছে, পাশাপাশি রাশিয়ার তেল কেনাও অব্যাহত রেখেছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়া সত্ত্বেও, এপ্রিল মাসে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানি প্রতিদিন প্রায় ৪৫.৭ লাখ ব্যারেলে স্থিতিশীল ছিল—যা মার্চ মাসের তুলনায় প্রায় অপরিবর্তিত। তবে, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই আমদানি হার ছিল ১৫.৫ শতাংশ কম।

কেপলারের তথ্য থেকে আরও জানা যায়, এপ্রিল মাসে ভারতের মোট আমদানিতে ওপেকের (পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংস্থা) অংশীদারিত্ব মার্চ মাসের প্রায় ৩০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৪৫.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

ভারতের মোট আমদানিতে রুশ তেলের অংশীদারিত্ব আগের থেকে ৫০ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে আনুমানিক ৩৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এরপরও রাশিয়া ভারতের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী দেশ হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। এই তালিকায় সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং সৌদি আরব তৃতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী দেশে পরিণত হয়েছে।

এই সময়কালে ব্রাজিল ভারতের চতুর্থ বৃহত্তম তেল সরবরাহকারী দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যেখানে ভেনেজুয়েলার অবস্থান ছিল পঞ্চম। তবে কেপলারের তথ্যে দেখা গেছে যে, লাতিন আমেরিকার এই দেশ থেকে আমদানি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় মে মাসের শেষে ভেনেজুয়েলা ভারতের চতুর্থ বৃহত্তম সরবরাহকারী দেশ হয়ে উঠতে পারে।

ভারতের তেল সংগ্রহের এই কৌশলগত পরিবর্তন স্পষ্ট করে দেয় যে, কীভাবে বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা জ্বালানি বাণিজ্যের পথগুলোকে নতুন রূপ দিচ্ছে এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির প্রাপ্যতা ও মূল্য সস্তা বা স্থিতিশীল রাখতে দেশগুলোকে তাদের আমদানির উৎস বহুমুখী করতে বাধ্য করছে।

সম্পর্কিত