Advertisement Banner

ইরানকে ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের, কী আছে তাতে?

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
ইরানকে ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের, কী আছে তাতে?

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা থামাতে ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন পত্রিকা নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ এই পরিকল্পনার বেশ কিছু শর্ত ও দাবির কথা উল্লেখ করেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো—কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে হবে এবং একে একটি ‘মুক্ত সামুদ্রিক অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, সংঘাতের অবসান ঘটাতে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘সঠিক ব্যক্তিদের’ সঙ্গে আলোচনা করছে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরান খুবই আগ্রহ নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়।

প্রস্তাবে কী আছে?

ইসরায়েলের গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় ইরানের সব বিদ্যমান পারমাণবিক সক্ষমতা ভেঙে ফেলা হবে এবং দেশটি ভবিষ্যতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করবে না-এমন অঙ্গীকার করবে।

এছাড়া ইরানের ভূখণ্ডে আর কোনো অস্ত্র বানানোর উপযোগী পারমাণবিক উপাদান উৎপাদন করা হবে না এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ইরানের নাতাঞ্জ, ইসফাহান এবং ফোরদোসহ গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো নিষ্ক্রিয় করে ধ্বংস করা হবে। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত সব তথ্যের পূর্ণাঙ্গ প্রবেশাধিকার পাবে আইএইএ।

এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান নিজেদের মিত্র বা প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন, নির্দেশনা ও অস্ত্র সরবরাহ করতে পারবে না বলেও শান্তি প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

শান্তি প্রস্তাবে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত নৌপথ হিসেবে থাকবে এবং কেউ এটি অবরুদ্ধ করবে না।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তবে এর পরিসর ও সংখ্যা সীমিত করা হবে। ভবিষ্যতে এসব ক্ষেপণাস্ত্র কেবল আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারবে ইরান। এর বিনিময়ে ইরানের ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। পাশাপাশি বুশেহরে একটি বেসামরিক পারমাণবিক প্রকল্প উন্নয়নে দেশটিকে সহায়তাও দেওয়া হবে।

চুক্তির অংশ হিসেবে ‘স্ন্যাপব্যাক’ প্রত্যাহারের বিষয়টিও রয়েছে। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি অনুযায়ী, ইরানের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে তুলে নেওয়া জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনরায় কার্যকর করার একটি প্রক্রিয়াকে স্ন্যাপব্যাক বলা হয়।

সম্পর্কিত