চরচা ডেস্ক

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ মালাক্কা প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর টোল আরোপের সম্ভাবনার কথা তুলে দ্রুতই সেই প্রস্তাব থেকে সরে দাঁড়াল ইন্দোনেশিয়া। গত বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম এবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রী পুরবায়া ইউধি সাদেওয়া একটি সিম্পোজিয়ামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমন একটি ধারণা তুলে ধরেন, যা তাৎক্ষণিকভাবে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করে। যদিও তিনি পরক্ষণেই মন্তব্যটি প্রত্যাহার করে নেন এবং বলেন, “যদি এমনটা করা যেত। কিন্তু বাস্তবে তা সম্ভব নয়।”
মালাক্কা প্রণালি ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। এটি বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত ও কৌশলগত বাণিজ্যপথ। সমুদ্রপথে বৈশ্বিক বাণিজ্যের ৪০ শতাংশেরও বেশি এই প্রণালি দিয়ে পরিচালিত হয়। ফলে এখানে কোনো ধরনের শুল্ক বা টোল আরোপের ধারণা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, দেশটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বাণিজ্যপথে অবস্থান করলেও জাহাজগুলো বিনা খরচে এই পথ ব্যবহার করছে। এটি সঠিক কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তার বক্তব্যে তিনি সরাসরি ইরানের উদাহরণ টানেন। ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং টোল আরোপের পরিকল্পনা করছে। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্ক চলছে। তিনি বলেন, যদি ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর একসঙ্গে মালাক্কা প্রণালিতে টোল আরোপ করে, তাহলে তা উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধা এনে দিতে পারে। তবে পরে তিনি স্পষ্ট করেন, এটি কেবল একটি ধারণা ছিল এবং বাস্তবায়নের কোনো পরিকল্পনা নেই।
এই মন্তব্যের পরপরই আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। বিশেষ করে সিঙ্গাপুর দৃঢ়ভাবে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণাণ বলেন, আন্তর্জাতিক জলপথে চলাচলের অধিকার কোনো রাষ্ট্রের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল নয় এবং এটি কোনো শুল্কের বিনিময়ে অর্জিত সুবিধা নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সিঙ্গাপুর কোনোভাবেই মালাক্কা প্রণালিতে টোল আরোপের উদ্যোগে অংশ নেবে না।
একইসঙ্গে অস্ট্রেলিয়াও এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মারলেস বলেন, আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি জাতিসংঘের জাহাজ চলাচল আইনের একটি মৌলিক নীতি। অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি ক্রমবর্ধমানভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই ধরনের পদক্ষেপ তাদের জন্য গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইন্দোনেশিয়ার এই মন্তব্য তাৎক্ষণিক নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত না দিলেও এটি একটি ‘পরীক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া’ যাচাইয়ের প্রচেষ্টা হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক ইউয়ান গ্রাহাম উল্লেখ করেন, ইন্দোনেশিয়ার বর্তমান প্রশাসন কিছু ক্ষেত্রে প্রচলিত কূটনৈতিক অবস্থান থেকে ভিন্ন পথে হাঁটার প্রবণতা দেখিয়েছে। ফলে এই ধরনের ধারণা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এই প্রসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, একটি অঞ্চলের অস্থিতিশীলতা অন্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইরানের হরমুজ প্রণালিতে নেওয়া পদক্ষেপ যদি নজির তৈরি করে, তাহলে অন্য দেশগুলোও নিজেদের কৌশলগত অবস্থানকে অর্থনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর চিন্তা করতে পারে। তবে এটি আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিষ্ঠিত নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
এছাড়া, মালাক্কা প্রণালিতে টোল আরোপের যে কোনো প্রচেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মতো বড় শক্তির তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়বে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। কারণ এই প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও পণ্য পরিবহন হয়, যা বিশেষ করে চীনের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইন্দোনেশিয়ার ভেতরেও এই প্রস্তাব নিয়ে তেমন আগ্রহ নেই বলে সরকারি সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে। কর্মকর্তারা এটিকে একটি তাৎক্ষণিক মন্তব্য হিসেবে দেখছেন, যার বাস্তবায়নের কোনো পরিকল্পনা নেই। তবুও, এই ঘটনা আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে–বিশ্বের কৌশলগত জলপথগুলো এখন শুধু নিরাপত্তা নয়, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতে পারে।
সব মিলিয়ে, মালাক্কা প্রণালিতে টোল আরোপের ধারণা আপাতত বাস্তবায়নের পথে না এগোলেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক উত্থাপন করেছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের স্বাধীনতা, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের স্থিতিশীলতা–এই তিনটি বিষয় এখন নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। ইন্দোনেশিয়ার এই মন্তব্য দেখিয়ে দিয়েছে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব কেবল একটি অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তা দ্রুতই অন্য গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে প্রতিফলিত হতে পারে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ মালাক্কা প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর টোল আরোপের সম্ভাবনার কথা তুলে দ্রুতই সেই প্রস্তাব থেকে সরে দাঁড়াল ইন্দোনেশিয়া। গত বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম এবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রী পুরবায়া ইউধি সাদেওয়া একটি সিম্পোজিয়ামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমন একটি ধারণা তুলে ধরেন, যা তাৎক্ষণিকভাবে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করে। যদিও তিনি পরক্ষণেই মন্তব্যটি প্রত্যাহার করে নেন এবং বলেন, “যদি এমনটা করা যেত। কিন্তু বাস্তবে তা সম্ভব নয়।”
মালাক্কা প্রণালি ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। এটি বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত ও কৌশলগত বাণিজ্যপথ। সমুদ্রপথে বৈশ্বিক বাণিজ্যের ৪০ শতাংশেরও বেশি এই প্রণালি দিয়ে পরিচালিত হয়। ফলে এখানে কোনো ধরনের শুল্ক বা টোল আরোপের ধারণা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, দেশটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বাণিজ্যপথে অবস্থান করলেও জাহাজগুলো বিনা খরচে এই পথ ব্যবহার করছে। এটি সঠিক কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তার বক্তব্যে তিনি সরাসরি ইরানের উদাহরণ টানেন। ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং টোল আরোপের পরিকল্পনা করছে। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্ক চলছে। তিনি বলেন, যদি ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর একসঙ্গে মালাক্কা প্রণালিতে টোল আরোপ করে, তাহলে তা উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধা এনে দিতে পারে। তবে পরে তিনি স্পষ্ট করেন, এটি কেবল একটি ধারণা ছিল এবং বাস্তবায়নের কোনো পরিকল্পনা নেই।
এই মন্তব্যের পরপরই আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। বিশেষ করে সিঙ্গাপুর দৃঢ়ভাবে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণাণ বলেন, আন্তর্জাতিক জলপথে চলাচলের অধিকার কোনো রাষ্ট্রের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল নয় এবং এটি কোনো শুল্কের বিনিময়ে অর্জিত সুবিধা নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সিঙ্গাপুর কোনোভাবেই মালাক্কা প্রণালিতে টোল আরোপের উদ্যোগে অংশ নেবে না।
একইসঙ্গে অস্ট্রেলিয়াও এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মারলেস বলেন, আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি জাতিসংঘের জাহাজ চলাচল আইনের একটি মৌলিক নীতি। অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি ক্রমবর্ধমানভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই ধরনের পদক্ষেপ তাদের জন্য গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইন্দোনেশিয়ার এই মন্তব্য তাৎক্ষণিক নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত না দিলেও এটি একটি ‘পরীক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া’ যাচাইয়ের প্রচেষ্টা হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক ইউয়ান গ্রাহাম উল্লেখ করেন, ইন্দোনেশিয়ার বর্তমান প্রশাসন কিছু ক্ষেত্রে প্রচলিত কূটনৈতিক অবস্থান থেকে ভিন্ন পথে হাঁটার প্রবণতা দেখিয়েছে। ফলে এই ধরনের ধারণা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এই প্রসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, একটি অঞ্চলের অস্থিতিশীলতা অন্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইরানের হরমুজ প্রণালিতে নেওয়া পদক্ষেপ যদি নজির তৈরি করে, তাহলে অন্য দেশগুলোও নিজেদের কৌশলগত অবস্থানকে অর্থনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর চিন্তা করতে পারে। তবে এটি আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিষ্ঠিত নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
এছাড়া, মালাক্কা প্রণালিতে টোল আরোপের যে কোনো প্রচেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মতো বড় শক্তির তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়বে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। কারণ এই প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও পণ্য পরিবহন হয়, যা বিশেষ করে চীনের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইন্দোনেশিয়ার ভেতরেও এই প্রস্তাব নিয়ে তেমন আগ্রহ নেই বলে সরকারি সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে। কর্মকর্তারা এটিকে একটি তাৎক্ষণিক মন্তব্য হিসেবে দেখছেন, যার বাস্তবায়নের কোনো পরিকল্পনা নেই। তবুও, এই ঘটনা আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে–বিশ্বের কৌশলগত জলপথগুলো এখন শুধু নিরাপত্তা নয়, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতে পারে।
সব মিলিয়ে, মালাক্কা প্রণালিতে টোল আরোপের ধারণা আপাতত বাস্তবায়নের পথে না এগোলেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক উত্থাপন করেছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের স্বাধীনতা, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের স্থিতিশীলতা–এই তিনটি বিষয় এখন নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। ইন্দোনেশিয়ার এই মন্তব্য দেখিয়ে দিয়েছে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব কেবল একটি অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তা দ্রুতই অন্য গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে প্রতিফলিত হতে পারে।