Advertisement Banner

বাড়াবেন না বলেও কেন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেন ট্রাম্প?

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
বাড়াবেন না বলেও কেন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেন ট্রাম্প?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

ইরানে যুদ্ধ নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা নিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে হোয়াইট হাউসে বৈঠকে বসেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কারণ দেওয়া যুদ্ধবিরতির সময়সীমা ছিল প্রায় শেষের দিকে।

অন্যদিকে, তেহরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনার যোগ দিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টে জেডি ভ্যান্সের পাকিস্তান সফরের জন্যও বিমান ছিল প্রস্তুত। তখন হোয়াইট হাউস পড়ে জটিল পরিস্থিতির মুখে। কারণ ইরানের পক্ষ থেকে কার্যত কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না।

সংশ্লিষ্ট তিনজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, কয়েক দিন আগে ইরানের কাছে একটি প্রাথমিক চুক্তির খসড়া পাঠিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। যেখানে কিছু মৌলিক শর্তে আগে থেকেই সম্মত হতে বলা হয়। কিন্তু কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো উত্তর না পাওয়া যায়নি। তাই পাকিস্তানে নির্ধারিত বৈঠকে ভ্যান্স ও অন্যরা আদৌ কতটা অগ্রগতি করতে পারবেন– তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।

ওই কর্মকর্তারা সিএনএনকে জানান, মঙ্গলবার ট্রাম্প যখন ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন এবং সিআইএ পরিচালক জন টক্লিফের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন, তখনও ইরানের পক্ষ থেকে কোনো বার্তা আসেনি। ভ্যান্স পাকিস্তানে যাওয়ার আগে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে অন্তত ইরানের প্রতিক্রিয়া আদায়ের চেষ্টা করতে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরও কোনো অগ্রগতি হয়নি।

অন্যদিকে, তেহরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনার যোগ দিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টে জেডি ভ্যান্সের পাকিস্তান সফরের জন্যও বিমান ছিল প্রস্তুত। তখন হোয়াইট হাউস পড়ে জটিল পরিস্থিতির মুখে। কারণ ইরানের পক্ষ থেকে কার্যত কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না।

সংশ্লিষ্ট তিনজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, কয়েক দিন আগে ইরানের কাছে একটি প্রাথমিক চুক্তির খসড়া পাঠিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। যেখানে কিছু মৌলিক শর্তে আগে থেকেই সম্মত হতে বলা হয়। কিন্তু কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো উত্তর না পাওয়া যায়নি। তাই পাকিস্তানে নির্ধারিত বৈঠকে ভ্যান্স ও অন্যরা আদৌ কতটা অগ্রগতি করতে পারবেন– তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।

ওই কর্মকর্তারা সিএনএনকে জানান, মঙ্গলবার ট্রাম্প যখন ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন এবং সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন, তখনও ইরানের পক্ষ থেকে কোনো বার্তা আসেনি। ভ্যান্স পাকিস্তানে যাওয়ার আগে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে অন্তত ইরানের প্রতিক্রিয়া আদায়ের চেষ্টা করতে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরও কোনো অগ্রগতি হয়নি।

হোয়াইট হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ধারণা, ইরানের ভেতরে নেতৃত্বে বিভক্তিই এই নীরবতার বড় কারণ। পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তারা এই ধারণা করছেন। তাদের মতে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং দেশটির বর্তমান মজুত নিয়ে আলোচনার বিষয়ে ইরানের ভেতরে এখনো ঐকমত্য নেই। যা শান্তি আলোচনার একটি বড় বাধা।

সিএনএন বলছে, এই জটিলতার আরেকটি কারণ হতে পারে—নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার অধস্তনদের স্পষ্ট নির্দেশ দিচ্ছেন কি না। নাকি তারা নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ছাড়াই তার ইচ্ছা অনুমান করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করছেন, এ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের সন্দেহ রয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বিশ্বাস, মোজতবার নিজেকে আড়ালে রাখার চেষ্টা ইরানের অভ্যন্তরীণ সরকারি আলোচনাকে ব্যাহত করছে।

এত বড় বাধা থাকা সত্ত্বেও এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকদের মধ্যে শিগগিরই বৈঠকের সম্ভাবনা এখনো আছে। তবে সেটি কবে এবং আদৌ হবে কি না–তা এখনো অনিশ্চিত।

এমন পরিস্থিতিতে সামরিক হামলা পুনরায় শুরু না করে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প। তবে এবার তিনি কোনো নির্দিষ্ট শেষ সময়সীমা উল্লেখ করেননি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের সরকারকে ‘গুরুতরভাবে বিভক্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র এখনো যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধানে আগ্রহী। তিনি এমন একটি সংঘাত পুনরায় শুরু করতে চান না, যেটিকে তিনি ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের জয় বলে দাবি করেছেন।

সিএনএন বলছে, দ্বিতীয় দফার বৈঠক না হওয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে যে নিজের নানা শর্ত পূরণ করে এমন একটি চুক্তি করতে গিয়ে ট্রাম্প এখনো কতটা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন।

ইরান প্রকাশ্যে জানিয়েছে, নতুন করে আলোচনায় বসার আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরানি বন্দরগুলোতে ঢোকা বা বের হওয়া জাহাজের ওপর আরোপিত মার্কিন অবরোধ তুলে নিতে হবে। কিন্তু ট্রাম্প এই দাবি মানতে নারাজ। মঙ্গলবার সকালে সিএনবিসিকে তিনি বলেন, “চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আমরা প্রণালী খুলছি না”।

বিকেলের বৈঠকে ট্রাম্প ও তার দল পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের তথ্যের ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন, যা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা ছিল।

মার্কিন কর্মকর্তারা সিএনএনকে জানান, ইরান আলোচনায় ফিরতে প্রস্তুত—এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া গেলে খুব দ্রুতই নতুন বৈঠকের আয়োজন করা যেতে পারে। হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। তাই কিছু কর্মকর্তা আশা করছেন যে দুই পক্ষই দ্রুত সমাধানে পৌঁছাতে আগ্রহী হবে।

পাকিস্তানি কর্মকর্তারা মঙ্গলবার একদিকে যেমন ইরানকে আলোচনায় আনতে চেষ্টা করেছেন, অন্যদিকে ট্রাম্পকেও যুদ্ধবিরতি বাড়াতে উৎসাহিত করেছেন। মেয়াদ শেষ হওয়ার মুখে ট্রাম্প সিদ্ধান্ত নেন– “প্রস্তাব জমা দেওয়া এবং আলোচনা কোনো একটি সিদ্ধান্তে না পৌঁছানো পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হবে।”

তবে ইরানের কর্মকর্তাদের অবস্থান ছিল কঠোর। ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধির ঘোষণা ‘অর্থহীন’ বলে অভিহিত করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকারের উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মদী। তিনি বলেন, “পরাজিত পক্ষ কোনো শর্ত চাপিয়ে দিতে পারে না।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোহাম্মদী আরও বলেছেন, “অবরোধ অব্যাহত রাখা বোমাবর্ষণের চেয়ে আলাদা কিছু নয় এবং এর জবাব অবশ্যই সামরিকভাবে দিতে হবে। তাছাড়া, ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো নিশ্চিতভাবেই একটি আকস্মিক হামলার জন্য সময় নেওয়ার অপকৌশল। ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা উদ্যোগ নেওয়ার সময় এখন চলে এসেছে।”

আলোচনা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি বহাল রাখার ঘোষণা দিয়ে এক অনিশ্চয়তায় ভরা দিনের ইতি টানেন ট্রাম্প। এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি শিগগিরই আবার ইরানে বোমা হামলা শুরু করতে পারেন। তবে নতুন কোনো সময়সীমা নির্ধারণ না করায় ইরান আলোচনাকে দীর্ঘায়িত করতে পারে বলে ট্রাম্পের উপদেষ্টারা ব্যক্তিগতভাবে তাকে সতর্ক করেছেন।

এই সপ্তাহে অন্তত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছানোর আশা করেছিলেন আলোচকরা। মার্কিন কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা ছিল, সেটি পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে চুক্তির খুঁটিনাটি নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনার পথ খুলে দেবে।

তবে এই কৌশলেরও সমালোচক ছিল। তাদের আশঙ্কা—ইরান হয়তো সময় নেওয়ার কৌশল হিসেবে আলোচনা টেনে নিচ্ছে, যাতে যুদ্ধের সময় মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা আবার সক্রিয় করতে পারে।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে—ইরান ভবিষ্যতে কতটা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে, তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের কী হবে এবং দেশটির ওপর আরোপিত কোন নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নেওয়া হবে।

শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষ তাদের শর্তে কতটা নমনীয়তা দেখায়, সেটিই নির্ধারণ করবে কোনো চুক্তি হবে কি না। ট্রাম্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—তিনি এমন কোনো চুক্তিতে সম্মত হতে চান না, যা জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশন-এর মতো মনে হয়। এই চুক্তি থেকে তিনি ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন এবং বরাবরই এটিকে দুর্বল বলে সমালোচনা করে আসছেন।

গত কয়েক দিনে ট্রাম্প নিজের দরকষাকষির দক্ষতার ওপর ভর করে আরও ভালো একটি চুক্তি করার ব্যাপারে আশাবাদী সুরে কথা বলেছেন। এমনকি মঙ্গলবার তিনি দাবি করেন, তিনি যদি তখন প্রেসিডেন্ট থাকতেন, তবে ভিয়েতনাম যুদ্ধ খুব দ্রুত জিতে যেতেন।

ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয় আমরা শেষ পর্যন্ত একটি দুর্দান্ত চুক্তিতে পৌঁছাব। আমার মনে হয় তাদের আর কোনো বিকল্প নেই। আমরা তাদের নৌবাহিনী ধ্বংস করেছি, বিমানবাহিনী ধ্বংস করেছি, তাদের নেতাদেরও সরিয়ে দিয়েছি। যদিও এতে একদিক থেকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে গেছে।”

তবে কয়েক ঘণ্টা পর, হোয়াইট হাউসের স্টেট ডাইনিং রুমে কলেজ ক্রীড়াবিদদের সম্মাননা দেওয়ার সময় ট্রাম্প এই যুদ্ধ প্রসঙ্গে অস্বাভাবিকভাবে নীরব ছিলেন। সাংবাদিকরা যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন করার চেষ্টা করলে তিনি শুধু হাত নেড়ে সাড়া দেন এবং কোনো মন্তব্য না করেই কক্ষ ত্যাগ করেন।

সম্পর্কিত