চরচা ডেস্ক

বৈশ্বিক অর্থনীতির ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে পরিচিত পেট্রোডলার ব্যবস্থা এক নতুন ও উদ্বেগজনক চ্যালেঞ্জের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত মার্কিন ট্রেজারি বা অর্থ মন্ত্রণালয়কে সতর্ক করে দিয়েছে যে, দেশটি তেল বাণিজ্যে চীনা ইউয়ান ব্যবহার করতে বাধ্য হতে পারে। ইরানের সাথে মার্কিন যুদ্ধের অর্থনৈতিক পরিণতি ক্রমশ ভয়াবহ হচ্ছে এবং সেই চাপে আবুধাবি একটি আর্থিক পরিত্রাণের জন্য ওয়াশিংটনকে চাপ দিচ্ছে। আর সেই চাপের অংশ হিসেবেই এই পরোক্ষ হুমকি।
গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের সাথে এক বৈঠকে আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর খালেদ মোহাম্মদ বালামা এই হুমকি দেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, বালামা ডলারের আধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি পরোক্ষ হুমকি দিয়েছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে, ইরানের সাথে মার্কিন যুদ্ধের অর্থনৈতিক পরিণতি বাড়তে থাকলে ডলারের তারল্য সংকট এড়াতে আবুধাবির নতুন কিছু প্রয়োজন হতে পারে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত কেন এই হুমকি দিচ্ছে তা বুঝতে হলে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার ব্যাপকতার দিকে তাকাতে হবে। তেহরান যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য ব্যয় বাড়াতে অসমমিতিক চাপের কৌশল অনুসরণ করেছে। এই কৌশলের মূল শিকার হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অন্যান্য উচ্চ-মূল্যের লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের প্রতিশোধের সবচেয়ে বড় ভার বহন করেছে দেশটি–২,৮০০-এর বেশি ড্রোন ও মিসাইল আমিরাতে ছোড়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
মার্কিন ট্রেজারি একটি মুদ্রা অদলবদল ব্যবস্থা অফার করতে পারে, যদিও এই ধরনের ব্যবস্থা সাধারণত ফেডারেল রিজার্ভ পরিচালনা করে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলছে, ফেড-এর আমিরাতকে এই অনুমোদন দেওয়ার সম্ভাবনা কম। তারা গত বছর আর্জেন্টিনার একটি মূল নির্বাচনের আগে ট্রেজারি কর্তৃক ২ হাজার কোটি ডলারের একটি সহায়তা প্যাকেজ ব্যবস্থার উদাহরণ দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আগে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো ইরান যুদ্ধের খরচের কিছু অংশ বহন করবে বলে ধারণা দিয়েছিলেন। হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের অধ্যাপক লিন্ডা বিলমেস অনুমান করেছেন যে, সংঘাতের প্রথম ৪০ দিনে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন সরাসরি ২০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে।
মার্কিন নীতির প্রতি আরব দেশগুলোর হতাশা উপসাগরীয় সরকারের সাথে সংযুক্ত ব্যক্তিত্বদের প্রকাশ্য মন্তব্যেও উঠে এসেছে। রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদের সাবেক উপদেষ্টা আবদুল খালেক আবদুল্লা দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার যুক্তি হলো, এই ঘাঁটিগুলো কৌশলগত সম্পদের চেয়ে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি বিকল্প জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল হিসেবে তিনি উন্নত মার্কিন অস্ত্রশস্ত্র অধিগ্রহণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।
এই ঘটনাপ্রবাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমান্তরাল বিষয় হলো হরমুজ প্রণালির তেল বাণিজ্যে ইউয়ানের ব্যবহার। ইরান হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলো–যেগুলোকে সে সংঘাতে নিরপেক্ষ মনে করে–তাদের কাছ থেকে টোল আদায় করছে। এই মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে ইউয়ানে বা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে। এই ব্যবস্থা মার্কিন আর্থিক নিয়ন্ত্রণ ও সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলতে সাহায্য করছে। অর্থাৎ একদিকে ইরান হরমুজে ইউয়ান-ভিত্তিক একটি সমান্তরাল অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তৈরি করছে, অন্যদিকে আমিরাত ওয়াশিংটনকে বলছে তারাও ইউয়ানে যেতে বাধ্য হতে পারে।
এই পরিস্থিতি পেট্রোডলার ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুতর বিপদ সংকেত। ১৯৭৪ সালে সৌদি আরবের সাথে করা চুক্তির ভিত্তিতে যে পেট্রোডলার ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল–যেখানে তেল কেবল মার্কিন ডলারে বিক্রি হবে এবং বিনিময়ে আমেরিকা সামরিক সুরক্ষা দেবে–সেই ব্যবস্থাটি আজ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। ডলারের আধিপত্য শুধু একটি মুদ্রার প্রশ্ন নয়, এটি মার্কিন অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক কর্তৃত্বের মেরুদণ্ড। পেট্রোডলার ব্যবস্থা দুর্বল হলে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল ঋণ সহজে অর্থায়ন করার সক্ষমতা, সুদের হার নিয়ন্ত্রণ এবং বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে প্রাধান্য– সবকিছুতেই চাপ আসবে।
আমিরাতের এই হুমকি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক দেশ তেল বাণিজ্যে বিকল্প মুদ্রার প্রশ্ন তুলেছে। রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে ইউয়ান ও রুবলে তেল বাণিজ্য করছে। চীন বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক হিসেবে ইউয়ানে তেল কেনার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছে। সৌদি আরবও চীনের সাথে কিছু তেল বিক্রয়ে ইউয়ান গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করেছে। কিন্তু সংযুক্ত আরব আমিরাত–আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির অন্যতম প্রধান আশ্রয়–এই হুমকি দিচ্ছে, এটি মার্কিন কর্মকর্তাদের জন্য একটি গভীর সতর্ক সংকেত।
পরিস্থিতির মূল প্রশ্নটি হলো, যুক্তরাষ্ট্র কি আমিরাতের দাবি মেনে নিয়ে একটি আর্থিক ত্রাণ প্যাকেজ দেবে, নাকি ঝুঁকি নেবে যে একটি ঘনিষ্ঠ মিত্র সত্যিই ডলার থেকে সরে গিয়ে ইউয়ানের দিকে যেতে পারে? ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য উভয় বিকল্পেই সমস্যা আছে। ত্রাণ দিলে অন্যান্য উপসাগরীয় দেশও একই দাবি করবে। না দিলে পেট্রোডলার ব্যবস্থার ভিত্তি আরও নড়বড়ে হয়ে পড়বে।
ইরান যুদ্ধ তাই শুধু একটি সামরিক সংঘাত নয়–এটি বৈশ্বিক আর্থিক শৃঙ্খলার একটি পরীক্ষা। হরমুজে ইউয়ান, আমিরাতের হুমকি, ইরানের ক্রিপ্টোকারেন্সিতে টোল আদায়–এই সবকিছু মিলিয়ে একটি বার্তা স্পষ্ট হচ্ছে: মার্কিন ডলারের বৈশ্বিক আধিপত্য যে ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ছিল, সেই ভিত্তিটাই এই যুদ্ধে কাঁপছে।

বৈশ্বিক অর্থনীতির ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে পরিচিত পেট্রোডলার ব্যবস্থা এক নতুন ও উদ্বেগজনক চ্যালেঞ্জের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত মার্কিন ট্রেজারি বা অর্থ মন্ত্রণালয়কে সতর্ক করে দিয়েছে যে, দেশটি তেল বাণিজ্যে চীনা ইউয়ান ব্যবহার করতে বাধ্য হতে পারে। ইরানের সাথে মার্কিন যুদ্ধের অর্থনৈতিক পরিণতি ক্রমশ ভয়াবহ হচ্ছে এবং সেই চাপে আবুধাবি একটি আর্থিক পরিত্রাণের জন্য ওয়াশিংটনকে চাপ দিচ্ছে। আর সেই চাপের অংশ হিসেবেই এই পরোক্ষ হুমকি।
গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের সাথে এক বৈঠকে আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর খালেদ মোহাম্মদ বালামা এই হুমকি দেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, বালামা ডলারের আধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি পরোক্ষ হুমকি দিয়েছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে, ইরানের সাথে মার্কিন যুদ্ধের অর্থনৈতিক পরিণতি বাড়তে থাকলে ডলারের তারল্য সংকট এড়াতে আবুধাবির নতুন কিছু প্রয়োজন হতে পারে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত কেন এই হুমকি দিচ্ছে তা বুঝতে হলে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার ব্যাপকতার দিকে তাকাতে হবে। তেহরান যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য ব্যয় বাড়াতে অসমমিতিক চাপের কৌশল অনুসরণ করেছে। এই কৌশলের মূল শিকার হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অন্যান্য উচ্চ-মূল্যের লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের প্রতিশোধের সবচেয়ে বড় ভার বহন করেছে দেশটি–২,৮০০-এর বেশি ড্রোন ও মিসাইল আমিরাতে ছোড়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
মার্কিন ট্রেজারি একটি মুদ্রা অদলবদল ব্যবস্থা অফার করতে পারে, যদিও এই ধরনের ব্যবস্থা সাধারণত ফেডারেল রিজার্ভ পরিচালনা করে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলছে, ফেড-এর আমিরাতকে এই অনুমোদন দেওয়ার সম্ভাবনা কম। তারা গত বছর আর্জেন্টিনার একটি মূল নির্বাচনের আগে ট্রেজারি কর্তৃক ২ হাজার কোটি ডলারের একটি সহায়তা প্যাকেজ ব্যবস্থার উদাহরণ দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আগে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো ইরান যুদ্ধের খরচের কিছু অংশ বহন করবে বলে ধারণা দিয়েছিলেন। হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের অধ্যাপক লিন্ডা বিলমেস অনুমান করেছেন যে, সংঘাতের প্রথম ৪০ দিনে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন সরাসরি ২০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে।
মার্কিন নীতির প্রতি আরব দেশগুলোর হতাশা উপসাগরীয় সরকারের সাথে সংযুক্ত ব্যক্তিত্বদের প্রকাশ্য মন্তব্যেও উঠে এসেছে। রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদের সাবেক উপদেষ্টা আবদুল খালেক আবদুল্লা দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার যুক্তি হলো, এই ঘাঁটিগুলো কৌশলগত সম্পদের চেয়ে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি বিকল্প জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল হিসেবে তিনি উন্নত মার্কিন অস্ত্রশস্ত্র অধিগ্রহণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।
এই ঘটনাপ্রবাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমান্তরাল বিষয় হলো হরমুজ প্রণালির তেল বাণিজ্যে ইউয়ানের ব্যবহার। ইরান হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলো–যেগুলোকে সে সংঘাতে নিরপেক্ষ মনে করে–তাদের কাছ থেকে টোল আদায় করছে। এই মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে ইউয়ানে বা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে। এই ব্যবস্থা মার্কিন আর্থিক নিয়ন্ত্রণ ও সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলতে সাহায্য করছে। অর্থাৎ একদিকে ইরান হরমুজে ইউয়ান-ভিত্তিক একটি সমান্তরাল অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তৈরি করছে, অন্যদিকে আমিরাত ওয়াশিংটনকে বলছে তারাও ইউয়ানে যেতে বাধ্য হতে পারে।
এই পরিস্থিতি পেট্রোডলার ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুতর বিপদ সংকেত। ১৯৭৪ সালে সৌদি আরবের সাথে করা চুক্তির ভিত্তিতে যে পেট্রোডলার ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল–যেখানে তেল কেবল মার্কিন ডলারে বিক্রি হবে এবং বিনিময়ে আমেরিকা সামরিক সুরক্ষা দেবে–সেই ব্যবস্থাটি আজ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। ডলারের আধিপত্য শুধু একটি মুদ্রার প্রশ্ন নয়, এটি মার্কিন অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক কর্তৃত্বের মেরুদণ্ড। পেট্রোডলার ব্যবস্থা দুর্বল হলে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল ঋণ সহজে অর্থায়ন করার সক্ষমতা, সুদের হার নিয়ন্ত্রণ এবং বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে প্রাধান্য– সবকিছুতেই চাপ আসবে।
আমিরাতের এই হুমকি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক দেশ তেল বাণিজ্যে বিকল্প মুদ্রার প্রশ্ন তুলেছে। রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে ইউয়ান ও রুবলে তেল বাণিজ্য করছে। চীন বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক হিসেবে ইউয়ানে তেল কেনার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছে। সৌদি আরবও চীনের সাথে কিছু তেল বিক্রয়ে ইউয়ান গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করেছে। কিন্তু সংযুক্ত আরব আমিরাত–আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির অন্যতম প্রধান আশ্রয়–এই হুমকি দিচ্ছে, এটি মার্কিন কর্মকর্তাদের জন্য একটি গভীর সতর্ক সংকেত।
পরিস্থিতির মূল প্রশ্নটি হলো, যুক্তরাষ্ট্র কি আমিরাতের দাবি মেনে নিয়ে একটি আর্থিক ত্রাণ প্যাকেজ দেবে, নাকি ঝুঁকি নেবে যে একটি ঘনিষ্ঠ মিত্র সত্যিই ডলার থেকে সরে গিয়ে ইউয়ানের দিকে যেতে পারে? ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য উভয় বিকল্পেই সমস্যা আছে। ত্রাণ দিলে অন্যান্য উপসাগরীয় দেশও একই দাবি করবে। না দিলে পেট্রোডলার ব্যবস্থার ভিত্তি আরও নড়বড়ে হয়ে পড়বে।
ইরান যুদ্ধ তাই শুধু একটি সামরিক সংঘাত নয়–এটি বৈশ্বিক আর্থিক শৃঙ্খলার একটি পরীক্ষা। হরমুজে ইউয়ান, আমিরাতের হুমকি, ইরানের ক্রিপ্টোকারেন্সিতে টোল আদায়–এই সবকিছু মিলিয়ে একটি বার্তা স্পষ্ট হচ্ছে: মার্কিন ডলারের বৈশ্বিক আধিপত্য যে ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ছিল, সেই ভিত্তিটাই এই যুদ্ধে কাঁপছে।