Advertisement Banner

পরিবহন ব্যয়ের ‘অজুহাতে’ নিত্যপণ্যের বাজারে ঊর্ধ্বগতি

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
পরিবহন ব্যয়ের ‘অজুহাতে’ নিত্যপণ্যের বাজারে ঊর্ধ্বগতি
ফাইল ছবি

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহণ ব্যয় কিছুটা বেড়েছে। এর জেরে বাস ও মিনিবাসের ভাড়াও বাড়ানোর দাবি তুলেছে পরিবহন মালিক সমিতি। যদিও ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। কিন্তু এরই মধ্যে নিত্যপণ্যের বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বাজারে পণ্যের দাম এখনই বেশি চাইতে শুরু করেছেন বিক্রেতারা–এমন চিত্র দেখা গেছে কয়েক জায়গায়।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষিতে বাস ও মিনিবাসের ভাড়া পুনর্নির্ধারণে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছে পরিবহন মালিক সমিতি। দূরপাল্লার বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৫ পয়সা করার দাবি জানিয়েছে তারা। অন্যদিকে, লোকাল বাসের ক্ষেত্রে জ্বালানি তেলের মূল্য এক টাকা বৃদ্ধি বা কমলে ভাড়া এক পয়সা বাড়ানো বা কমানোর রীতি দীর্ঘদিন ধরেই চলে এসেছে। এ ক্ষেত্রে ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বৃদ্ধির ফলে ভাড়া ১৫ পয়সা বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সোমবার ভাড়ার নতুন তালিকা সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার কথা। সন্ধ্যা পর্যন্ত নতুন ভাড়া নির্ধারণের খবর আসেনি।

কিন্তু বাজারের ব্যাগ হাতে সোমবার সকালে যারাই বাজারে গেছেন, সবকিছুর দামই তাদের কাছে একটু বাড়তিই লেগেছে। লাউ কিংবা মিষ্টি কুমড়া–সব সবজিরই দাম একটু বাড়িয়ে চাওয়ার প্রবণতাও দেখা গেছে কারওয়ান বাজারের দোকানিদের মধ্যে। এর মধ্যে ৪০ টাকা দামের কুমড়া ৬০ টাকা চাইতে দেখা গেছে।

পাইকাররা দাবি করছেন, নতুন করে ট্রাকভাড়া নির্ধারণ না করা হলেও দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে অঘোষিতভাবেই বেড়ে গেছে ট্রাকের ভাড়া। এর প্রভাব পড়েছে পণ্যের দরে। তবে, নতুন ভাড়া নির্ধারণের পর পণ্যের দাম বাড়তে পারে। তেলের দাম বাড়ায় বাজারে এর প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষক মোস্তাফিজুর রহমান চরচাকে বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে সরকার চাইলে কর কমিয়ে স্থানীয় বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারত। বর্তমানে তেলের ওপর প্রায় ২০-২৫ শতাংশ বিভিন্ন ধরনের কর রয়েছে, যা কমানোর সুযোগ ছিল।”

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সরকারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলেও মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

সম্পর্কিত