
রেমিট্যান্স বন্ধের হুমকি দেশবিরোধী: রুহুল কবির রিজভী
শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে ‘জিয়া স্মৃতি পাঠাগার’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন।
আমার কর্মজীবনের অভিজ্ঞতাও আমাকে শিখিয়েছে, কোনো বড় প্রতিষ্ঠান শুধু ভালো মানুষের ওপর নির্ভর করে চলে না। সেখানে প্রক্রিয়া, নথি, দায়িত্বের সীমা, যাচাই, অনুমোদন এবং জবাবদিহির ব্যবস্থা থাকতে হয়।
রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
জনগণের অর্থে একটি রাস্তা, হাসপাতাল, স্কুল কিংবা সরকারি প্রকল্প তৈরি হলে মানুষ জানতে চাইতেই পারে, সেই অর্থ কীভাবে ব্যবহার হলো।
প্রশ্ন করা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নয়। প্রশ্ন করার সুযোগ থাকাটাই একটি কার্যকর রাষ্ট্রের শক্তি।
গণতন্ত্র শুধু ভোটের দিন নয়
সুইডেন একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র ও সংসদীয় গণতন্ত্র। রাজা রাষ্ট্রপ্রধান, কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষমতা সরকারের হাতে। রিক্সদাগে ৩৪৯ জন সদস্য থাকে এবং জাতীয় নির্বাচনে প্রতিনিধিত্ব আনুপাতিক পদ্ধতিতে নির্ধারিত হয়।
২০২৬ সালের ১৩ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে আটটি দল রিক্সদাগে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় চার শতাংশ জাতীয় ভোটের সীমা অতিক্রম করেছে। চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী ৩৪৯টি আসন আট দলের মধ্যে বণ্টিত হয়েছে। নতুন রিক্সদাগ ২৮ সেপ্টেম্বর সদস্যদের রোল–কল ও স্পিকার নির্বাচনের মাধ্যমে কাজ শুরু করেছে। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে গত ২৯ সেপ্টেম্বর।
এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, নির্বাচন শেষ হলেও সরকার গঠনের প্রক্রিয়া আলাদা একটি সাংবিধানিক ধাপ। তাই নির্বাচনের ফলকে সরাসরি একটি নতুন সরকারের চূড়ান্ত প্রতিষ্ঠা হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
গণতন্ত্রকে শুধু চার বছর পরপর ভোট দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ করলেও সুইডেনের রাজনৈতিক কাঠামো পুরো বোঝা যায় না।
স্থানীয় ও আঞ্চলিক সরকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড় ভূমিকা রাখে। স্কুল, পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় পরিকল্পনা, প্রবীণদের সেবা, গণপরিবহন এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো বিষয়গুলো মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
অর্থাৎ গণতন্ত্র শুধু রাজধানীর সংসদ ভবনে নেই।
এটি মানুষের ঘরের কাছেও আছে।
ইউরোপের সঙ্গে বদলে যাওয়া সম্পর্ক
আমি যখন সুইডেনে আসি, দেশটি তখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য ছিল না। সুইডেন ১ জানুয়ারি ১৯৯৫ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেয়।
এরপর ২০২৪ সালের ৭ মার্চ সুইডেন ন্যাটোর সদস্য হয়।
আমার চার দশকের সুইডেন দেখার অভিজ্ঞতায় এটি বড় পরিবর্তন। ১৯৮৫ সালের সুইডেন যে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাস্তবতার মধ্যে ছিল, ২০২৬ সালের সুইডেন সেই একই পৃথিবীতে নেই।
ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ, ন্যাটো সদস্যপদ এবং পরিবর্তিত ভূরাজনীতি দেশের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির পরিবেশকে বদলে দিয়েছে।
একটি দেশকে তাই শুধু তার ভেতরের জীবন দিয়ে বোঝা যায় না। তার চারপাশের পৃথিবীও তাকে বদলে দেয়।
প্রতিদিনের সুইডেন
রাজনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থার বাইরে ফিরে আসি সাধারণ জীবনে।
সকালের ট্রেন, নির্দিষ্ট সময়ে বাস ধরার চেষ্টা, অফিসে পৌঁছানো, কাজের মাঝখানে এক কাপ কফি, বিকেলে সন্তানকে স্কুল বা খেলাধুলা থেকে নিয়ে আসা, সপ্তাহান্তে প্রকৃতির কাছে যাওয়া, গ্রীষ্মের দীর্ঘ সন্ধ্যা কিংবা শীতের অন্ধকার বিকেল, এসব দিয়েই একটি দেশের প্রকৃত জীবন তৈরি হয়।
সুইডিশ জীবনে ফিকা শুধু কফি খাওয়ার নাম নয়। অনেক সময় এটি কাজের ব্যস্ততার মধ্যে মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগের একটি সামাজিক মুহূর্ত।
সুইডেনের ঋতুগুলোও মানুষের জীবনকে আলাদা ছন্দ দেয়।
গ্রীষ্মে দিনের আলো যেন শেষ হতে চায় না। শীতের সময়ে দিনের আলো এত অল্প যে সময়ের অনুভূতিই বদলে যায়। উত্তরে গেলে এই পার্থক্য আরও তীব্র হয়।
এই আলো-অন্ধকারের দেশেই আছে মিডসামার, লুসিয়া, বড়দিনের আলো, শরতের পাতা, বরফঢাকা বন এবং বসন্তের প্রথম সবুজ।
সুইডেনের প্রকৃতি তাই শুধু পর্যটনের সম্পদ নয়। এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনেরও অংশ।
শহর পেরিয়ে উত্তরের পথে
স্টকহোম থেকে যদি ধীরে ধীরে উত্তরের দিকে যাওয়া যায়, সুইডেন যেন একের পর এক নতুন মুখ খুলতে থাকে।
দক্ষিণে কৃষিজমি, ছোট শহর, খামার ও পুরোনো বসতি। একটু উত্তরে গেলে বিস্তৃত বন, হ্রদ আর নীরব গ্রাম। আরও উত্তরে গেলে জনবসতি কমে আসে, বন গভীর হয়, পাহাড় দেখা দিতে শুরু করে।
শেষ পর্যন্ত পৌঁছানো যায় এমন এক ভূখণ্ডে, যেখানে শীত দীর্ঘ, গ্রীষ্মের আলো দীর্ঘস্থায়ী এবং প্রকৃতি মানুষের উপস্থিতির চেয়ে অনেক বড়।
এই উত্তরের ভূখণ্ডেই আবার দেখা যায় উন্নয়ন ও সংরক্ষণের কঠিন সমীকরণ।
এখানে রয়েছে বন, খনিজ, জলবিদ্যুৎ ও নতুন শিল্পের সম্ভাবনা। একই সঙ্গে আছে সামি সংস্কৃতি, রেইনডিয়ার পালন, জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় মানুষের জীবন।
একদিকে প্রয়োজন কর্মসংস্থান, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও শিল্প।
অন্যদিকে আছে প্রকৃতি, স্থানীয় মানুষের অধিকার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সম্পদ রেখে যাওয়ার দায়িত্ব।
সবুজ শিল্পের নতুন প্রশ্ন
সুইডেনের উত্তরাঞ্চলে নতুন শিল্প ও সবুজ রূপান্তর নিয়ে যে পরিবর্তন হচ্ছে, তা দেশের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যাটারি, সবুজ ইস্পাত, বিদ্যুৎ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে ঘিরে নতুন শিল্পের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কিন্তু ‘সবুজ শিল্প’ বললেই প্রশ্ন শেষ হয় না।
একটি কারখানা কম কার্বন নিঃসরণ করলেও তার জন্য জমি লাগবে। বিদ্যুৎ লাগবে। কাঁচামাল ও খনিজ লাগবে। নতুন সড়ক, রেলপথ ও অবকাঠামো লাগতে পারে।
তাই দেখতে হবে, একটি সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে আরেকটি সমস্যা তৈরি হচ্ছে কি না।
আমার ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের অভিজ্ঞতা থেকে একটি বিষয় শিখেছি, কোনো প্রক্রিয়াকে শুধু একটি ফল দিয়ে বিচার করা যায় না। মান, নিরাপত্তা, পরিবেশ, খরচ, সময় এবং মানুষের ওপর প্রভাব, সবকিছু একসঙ্গে দেখতে হয়।
দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনেকটা একই।
প্রকৃতি রক্ষার দেশ
সুইডেন প্রকৃতি সংরক্ষণে দীর্ঘ ঐতিহ্যের দেশ। ২০২৫ সালের শেষে দেশের মোট এলাকার ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ আনুষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষিত ছিল। মোট সংরক্ষিত এলাকার পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৫ লাখ হেক্টর, যার মধ্যে স্থলভাগ, অভ্যন্তরীণ জলভাগ ও সামুদ্রিক এলাকা রয়েছে। একই বছরে স্টকহোম কাউন্টিতে Nämdöskärgården National Park প্রতিষ্ঠিত হয়।
২০২৬ সালে সুইডেন জীববৈচিত্র্য ও ইকোসিস্টেম সার্ভিসেস নিয়ে নতুন জাতীয় কৌশলও গ্রহণ করেছে, যার লক্ষ্য জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় থামানো ও যেখানে সম্ভব তা পুনরুদ্ধার করা।
সুইডেনের জলবায়ু নীতিতে ২০৪৫ সালের মধ্যে নেট-জিরো গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের লক্ষ্যও রয়েছে।
কিন্তু এখানেও একই প্রশ্ন ফিরে আসে।
উন্নয়ন কতটা হবে, আর সংরক্ষণ কতটা?
বন থেকে কাঠ দরকার। খনিজ দরকার। বিদ্যুৎ দরকার। শিল্প দরকার। কর্মসংস্থান দরকার।
আবার নদী, পাহাড়, বন, সমুদ্র ও জীববৈচিত্র্যও দরকার।
সুতরাং পরিবেশনীতি কোনো এক পক্ষের বিষয় নয়। এটি আগামী দিনের জীবনযাত্রার প্রশ্ন।
কিরুনার দিকে তাকালে
কিরুনা নামটি সুইডেনের বাইরে থেকেও পরিচিত। লৌহ আকরিকের জন্য শহরটির গুরুত্ব বহুদিনের। কিন্তু কিরুনা শুধু একটি খনি শহর নয়।
এটি সুইডেনের উত্তরের পরিবর্তনের একটি প্রতীক।
এখানে একই সঙ্গে দেখা যায় খনিজ সম্পদ, শিল্প, সামি সংস্কৃতি, পর্যটন, অবকাঠামো এবং প্রকৃতির প্রশ্ন।
আর একটু দূরে আবিস্কো। সামনে পাহাড়, পাশে হ্রদ, মাথার ওপর বিশাল আকাশ। শীতের সময়ে উত্তরের আকাশে অরোরা বোরিয়ালিসের আলো দেখা যেতে পারে। গ্রীষ্মে আবার সূর্যের আলো দীর্ঘ সময় ধরে থাকে।
কেবনেকাইসে, সুইডেনের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ, এই উত্তরের ভূগোলকে আরও ভিন্ন মাত্রা দেয়।
এসব জায়গাকে শুধু পর্যটনের তালিকায় রাখলে তাদের প্রকৃত অর্থ কিছুটা হারিয়ে যায়। এগুলো সুইডেনের এমন অধ্যায়, যেখানে প্রকৃতি, বিজ্ঞান, স্থানীয় জীবন, শিল্প, পর্যটন ও রাষ্ট্রীয় সংরক্ষণ একসঙ্গে এসে দাঁড়িয়েছে।
আর তখন মনে হয়, আমি যে দেশে ১৯৮৫ সালে এসেছিলাম, সেই দেশটির কতটুকুই বা আমি আসলে দেখেছি?
সুইডেন কি বদলেছে, নাকি আমিই বদলেছি?
চার দশক পর মাঝে মাঝে আমি নিজেকেও এই প্রশ্ন করি।
হয়তো শুধু সুইডেন বদলায়নি, আমিও বদলেছি।
১৯৮৫ সালে আমি ছিলাম একজন তরুণ মানুষ। আজ আমার জীবনের একটি বিশাল অংশ সুইডেনের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। যে ভাষা একসময় নতুন ছিল, সেটি এখন আমার দৈনন্দিন জীবনের অংশ। যে সমাজকে দূর থেকে বুঝতে হতো, তার অনেক প্রতিষ্ঠান, নিয়ম ও সংস্কৃতি এখন আমার কাছে পরিচিত।
তবু পরিচিত মানেই পুরোপুরি জানা নয়।
বরং যত বেশি সময় একটি সমাজের মধ্যে থাকা যায়, তত বেশি তার জটিলতা চোখে পড়ে।
আমি সুইডেনের ভালো দিক দেখেছি। আবার সীমাবদ্ধতাও দেখেছি।
দেখেছি একটি শক্তিশালী কল্যাণব্যবস্থা কঠিন সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে। আবার দেখেছি, সেই ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে অর্থনীতি, কর, দক্ষ জনশক্তি ও দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান কতটা প্রয়োজন।
দেখেছি মানুষের স্বাধীনতা। আবার দেখেছি, সেই স্বাধীনতার সঙ্গে একাকিত্বের প্রশ্নও থাকতে পারে।
দেখেছি প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা। আবার দেখেছি শিল্পায়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে কঠিন সমীকরণ।
দেখেছি বহুসাংস্কৃতিক সমাজের সম্ভাবনা। আবার দেখেছি একীভূত হওয়ার পথ সবসময় সহজ নয়।
এই দ্বৈততাই হয়তো একটি জীবন্ত সমাজের স্বাভাবিক চেহারা।
কারণ কোনো দেশই শুধু তার সাফল্যের গল্প নয়। কোনো দেশই শুধু তার সমস্যার তালিকাও নয়।
আগামী দিনের প্রশ্ন
একটি দেশকে তার অতীত দিয়ে বোঝা যায়, বর্তমান দিয়ে দেখা যায়, কিন্তু ভবিষ্যৎ দিয়ে তার আসল পরীক্ষা হয়।
সুইডেনের সামনে প্রথম বড় প্রশ্ন সামাজিক সংহতি নিয়ে।
কীভাবে বৈচিত্র্যের মধ্যে একটি সাধারণ সামাজিক ভিত্তি তৈরি করা যায়?
একজন নতুন নাগরিকের ভাষা শেখা, আইন মেনে চলা, কাজের বাজারে প্রবেশ করা এবং সমাজের নিয়ম বোঝা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সমাজকেও শিক্ষা, ভাষা শেখার সুযোগ, কাজ, নিরাপত্তা এবং অংশগ্রহণের পথ তৈরি করতে হয়।
অধিকার ও দায়িত্ব পাশাপাশি না চললে সামাজিক চুক্তি দুর্বল হতে পারে।
দ্বিতীয় প্রশ্ন কল্যাণরাষ্ট্রের স্থায়িত্ব।
রাষ্ট্র কতটা সেবা দেবে, কীভাবে তার অর্থায়ন হবে এবং কীভাবে আজকের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি আগামী প্রজন্মের জন্যও ব্যবস্থা টেকসই রাখা যাবে, এই প্রশ্নগুলো ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হবে।
তৃতীয় প্রশ্ন প্রযুক্তি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশন কিছু কাজ বদলে দেবে, কিছু নতুন কাজ তৈরি করবে এবং অনেক পুরোনো কাজের ভেতর নতুন দক্ষতার প্রয়োজন তৈরি করবে।
ফলে শিক্ষা শুধু স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয় থাকবে না। কর্মজীবনের মাঝখানেও শেখা এবং দক্ষতা পরিবর্তন করা ভবিষ্যতের স্বাভাবিক বাস্তবতা হয়ে উঠতে পারে।
চতুর্থ প্রশ্ন পরিবেশ ও উন্নয়ন।
সুইডেনকে শিল্পায়নও করতে হবে, আবার প্রকৃতিও রক্ষা করতে হবে। নতুন বিদ্যুৎ দরকার, আবার জীববৈচিত্র্যও দরকার। খনিজ সম্পদ দরকার, আবার ভূমি ও স্থানীয় মানুষের অধিকারও বিবেচনায় নিতে হবে।
এই দ্বন্দ্বগুলোকে এড়িয়ে নয়, বরং স্বচ্ছতা, বিজ্ঞান, অংশগ্রহণ ও দীর্ঘমেয়াদি চিন্তার মাধ্যমে সামলানোই হবে ভবিষ্যতের বড় পরীক্ষা।
তাহলে সুইডেন আসলে কেমন?
এত দীর্ঘ পথ ঘুরে এসে যদি আমাকে কেউ জিজ্ঞেস করেন, সুইডেন কেমন দেশ?
আমি হয়তো এক কথায় উত্তর দিতে পারব না।
কারণ সুইডেন একই সঙ্গে অনেক কিছু।
এটি বরফের দেশ, আবার দীর্ঘ গ্রীষ্মের আলোয় ভরা দেশ।
এটি আধুনিক প্রযুক্তির দেশ, আবার গভীর বনের দেশ।
এটি শক্তিশালী কল্যাণব্যবস্থার দেশ, আবার সেই ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের দেশ।
এটি ব্যক্তিস্বাধীনতার দেশ, আবার একাকিত্বের প্রশ্নের দেশ।
এটি বহু সংস্কৃতির দেশ, আবার সামাজিক সংহতির নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি একটি সমাজ।
এটি শিল্প ও উদ্ভাবনের দেশ, আবার প্রকৃতি রক্ষার দায়িত্বের দেশ।
এটি স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের দেশ, আবার সেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে সময়ের সঙ্গে নতুন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
কোনো একটি পরিচয় দিয়ে এই দেশকে আটকে রাখা যায় না।
সম্ভবত এটাই একটি জীবন্ত দেশের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য।
আমার অসম্পূর্ণ সুইডেন
১৯ মে ১৯৮৫ থেকে ২০২৬।
এই সময়ের মধ্যে আমার জীবনের একটি বিশাল অংশ সুইডেনের সঙ্গে মিশে গেছে।
আমি এখানে পড়েছি। কাজ করেছি। কর্মজীবনে নানা দায়িত্ব পালন করেছি। পরিবার গড়েছি। মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেছি। ট্রেনে যাতায়াত করেছি। শহর দেখেছি। ছোট ছোট জায়গায় গিয়েছি। সুইডিশ সমাজকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছি।
তবু একটি সত্য আজও রয়ে গেছে।
আমি পুরো সুইডেন দেখিনি।
এটা হয়তো শুনতে একটু অদ্ভুত লাগতে পারে। চার দশকেরও বেশি সময় একটি দেশে বসবাস করেও তার সবটুকু দেখা হয়নি।
কিন্তু সুইডেন এত বড়, এত বৈচিত্র্যময় এবং এত বিস্তৃত যে স্টকহোম, উপসালা, লিংনসোপিং, মালমো, গথেনবার্গ বা আশপাশের পরিচিত অঞ্চলগুলো দেখেই তাকে পুরো দেখা সম্ভব নয়।
আমার এখনো ইচ্ছে আছে উত্তরে যাওয়ার।
সামিদের ভূমি নিজের চোখে দেখার।
নরল্যান্ডের বিস্তীর্ণ বন পেরোনোর।
কিরুনা ও আবিস্কো দেখার।
কেবনেকাইসের দিকে তাকিয়ে দাঁড়ানোর।
আর সেই অসংখ্য ছোট শহর ও গ্রামের কাছে যাওয়ার, যেগুলো হয়তো কোনো পর্যটন নির্দেশিকায় বড় করে লেখা নেই, কিন্তু সেখানেই হয়তো সুইডেনের দৈনন্দিন জীবনের আরেকটি গল্প লুকিয়ে আছে।
২ লাখ ৬৭ হাজার ৫৭০টি দ্বীপের সেই পুরোনো পরিসংখ্যানটি এখন আমার কাছে শুধু ভূগোলের একটি সংখ্যা নয়। এটি যেন একটি প্রতীক।
একটি দেশকে আমরা যতটা চিনি বলে মনে করি, তার চেয়েও অনেক বেশি কিছু সেখানে অদেখা থেকে যেতে পারে।
আমি সুইডেনকে যতটা দেখেছি, তার চেয়ে অনেক বেশি এখনো দেখা বাকি।
আর হয়তো একটি দেশকে নিয়ে সবচেয়ে সুন্দর উপলব্ধি এটাই—
যে দেশকে আমরা চিনি বলে মনে করি, তার মধ্যেও যদি নতুন করে আবিষ্কার করার মতো কিছু থেকে যায়, তাহলে সেই দেশ এখনো জীবন্ত।
চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সুইডেনে বসবাস করেও আমার ভেতরে সেই অদেখা সুইডেনকে দেখার কৌতূহল এখনও রয়ে গেছে।
তাই আজও মনে হয়,
ইস, যদি একদিন পুরো সুইডেনটা নিজের চোখে ঘুরে দেখতে পারতাম! (শেষ)
লেখক: গবেষক ও সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন
ইমেইল: [email protected]
রাজনৈতিক প্রোপাগাণ্ডা ও বিদ্যায়তনিক পরাধীনতার শিকার তাসনীম সিরাজ
ব্রাজিলের নির্বাচন ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য
সরকারি কর্মী: বেতন বৃদ্ধি যৌক্তিক ও সময়োচিত
১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তান আইনসভায় নির্বাচিত অমুসলিম ছিলেন ৭২ জন, এখন বাংলাদেশে ৪
ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন: গভর্নর

রেমিট্যান্স বন্ধের হুমকি দেশবিরোধী: রুহুল কবির রিজভী
শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে ‘জিয়া স্মৃতি পাঠাগার’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন।

মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী কোটা জালিয়াতির অভিযোগে ১১ বাংলাদেশিসহ আটক ২০
দাতুক জাকারিয়া বলেন, অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দেশে আনা বিদেশি কর্মীরা কোটার জন্য আবেদন করা কোম্পানিগুলোর হয়ে কাজ করত না। এর বদলে তারা স্বাধীনভাবে অন্য কোম্পানিতে কাজ করত।

যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে ৭০ হাজার ডলার ফি আরোপের প্রস্তাব
ওপিটি হলো শিক্ষার্থীদের অধ্যয়নের বিষয়সংশ্লিষ্ট কাজে সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার অনুমতি দেওয়ার একটি ব্যবস্থা।

বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের হয়রানি বন্ধে নজরদারির সুপারিশ
মন্ত্রণালয়ের সব কর্মকর্তা যাতে দায়িত্ব পালনে সতর্ক থাকেন এবং সামগ্রিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা বিচ্যুতি না ঘটে, সে বিষয়ে কমিটি তাগিদ দেয়।