আমি অনেক দিন ধরে এই লেখাটা লিখব, লিখব করছি। কিন্তু নানা ব্যস্ততায় আর লেখা হয়ে ওঠেনি। আমি যেহেতু ইমিগ্র্যান্টদের সেটেলমেন্ট নিয়ে গবেষণা করি এবং যেহেতু আমার গবেষণা বাংলাদেশিদের ওপর, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে হলেও আমাকে এই লেখাটা লেখা উচিত।
গত কয়েক মাস ধরেই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কানাডা যাওয়া সংশ্লিষ্ট তথাকথিত অনেক ইমিগ্রেশন এজেন্ট, যাদের কারও ইমিগ্রেশন উপদেশ দেওয়ার লাইসেন্স আছে কি না আমার সন্দেহ আছে, তাদের বিভিন্ন রকমের ভুল তথ্য শেয়ার করতে দেখেছি। যেমন ধরুন, অনেকে এমন দাবি করছেন যে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে কানাডার ১০ বছরের ভিসা প্রসেস করে দেবেন। তারা এমনভাবে তথ্য প্রচার করেন যাতে করে অনেকের মনে হবে, তাদের সাথে যোগাযোগ করলেই ভিসা বা ইমিগ্রেশন হয়ে যাবে নিশ্চিত।
যদিও কানাডা এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১০ বছর মেয়াদি একাধিকবার প্রবেশের ভিসা ‘স্ট্যান্ডার্ড ডিফল্ট’ হিসেবে ইস্যু করছে না। ভিসা অফিসার ঠিক করবেন আপনাকে একবার প্রবেশের ভিসা নাকি একাধিকবার প্রবেশের ভিসা দেওয়া হবে এবং ভিসার মেয়াদ কতদিন থাকবে।
একদিকে তথাকথিত ইমিগ্রেশন এজেন্টরা মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছেন এবং ইমিগ্রেশন সংশ্লিষ্ট প্রতারণা বেড়েই চলেছে, অন্যদিকে কানাডিয়ান ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্ট (ইমিগ্রেশন, রিফিউজি অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা—আইআরসিসি) তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম একাউন্টগুলোর মাধ্যমে সবাইকে সতর্ক করে চলেছে আমাদের আশপাশের বিভিন্ন রকমের ইমিগ্রেশন সংশ্লিষ্ট প্রতারণা নিয়ে (আইআরসিসির ইমিগ্রেশন/ভিসা সংশ্লিষ্ট সতর্কতামূলক পোস্ট দেখুন)।
বাস্তবে কোনো ইমিগ্রেশন এজেন্টের পক্ষে ইমিগ্রেশন বা ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়। ইমিগ্রেশন এজেন্ট শুধু আপনার হয়ে আবেদন করতে পারেন, কিন্তু ইমিগ্রেশন বা ভিসা দিতে পারেন না। তাদের মাধ্যমে আবেদন না করলেই আপনার ইমিগ্রেশন বা ভিসা হবে না, এটা কখনোই ঠিক নয়। কানাডার ইমিগ্রেশন বা ভিসা আবেদন করতে সত্যি কথা বলতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কারও সহযোগিতা লাগে না।
একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, তথাকথিত অনুমোদনবিহীন ইমিগ্রেশন এজেন্টদের বিশ্বাস করে কানাডার ইমিগ্রেশন বা ভিসার আবেদন করলে শুধু ভিসা না পাওয়া নয়, যদি কোনো কারণে তাদের প্ররোচনায় পড়ে ভুল তথ্য দিয়ে থাকেন, তাহলে ভবিষ্যতে কমপক্ষে পাঁচ বছরের জন্য কানাডায় প্রবেশ বা অবস্থান করা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে অবশ্যই জেনেশুনে বুঝে আবেদন করবেন। ইমিগ্রেশন এজেন্ট ব্যবহার করার পূর্বে তাদের আদৌ এ বিষয়ে কোনো যোগ্যতা আছে কি না তা জেনে নেবেন। অন্যথায় ভিসা না পাওয়া থেকে শুরু করে ভবিষ্যতে কানাডায় আসার রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
যারা ইমিগ্রেশন এজেন্ট ব্যবহার করতে চান তারা নিচের লিংকটি থেকে যাচাই করতে পারেন তাদের ইমিগ্রেশন সংশ্লিষ্ট উপদেশ এবং সেবা দেওয়ার অনুমোদন আছে কি না। দেখুন
ইমিগ্র্যান্টদের ওপর গবেষণা, ইমিগ্র্যান্ট সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফলো করা এবং ১০ বছরের বেশি কানাডায় থাকার ফলে একটা জিনিস বারবার দেখেছি যে, কানাডার বাইরে যারা থাকেন তাদের অনেকে কানাডাকে স্বর্গ মনে করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কানাডা যাওয়া সংশ্লিষ্ট পোস্টে অসংখ্য মানুষ কানাডায় যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন।
কানাডা সত্যি ইমিগ্র্যান্টদের জন্য একটা দারুণ দেশ। এই দেশটি ধারাবাহিকভাবে জীবনমানের দিক থেকে শীর্ষ দেশগুলোর অন্যতম। তবে বিশ্বের অন্য দেশগুলোর মতো এখানেও অনেক সমস্যা বিদ্যমান। সত্যি কথা বলতে কী, কানাডায় এসে কমবেশি সবাইকে শুরুর দিকে অসংখ্য সমস্যার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। নিজেকে অনেক সময় নতুন করে তৈরি করতে হয়। কোনো কিছুই বলতে গেলে একদম তৈরি থাকে না।
আইআরসিসির ইমিগ্রেশন/ভিসা সংশ্লিষ্ট সতর্কতামূলক পোস্ট। উৎস: আইআরসিসি
সমস্যার মাত্রা একজন ইমিগ্র্যান্ট থেকে আরেকজন ইমিগ্র্যান্টের ভিন্ন হতে পারে যা অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে। যেমন আপনি অনেক টাকা নিয়ে এলে অন্যদের তুলনায় শুরুতে হয়তো একটু কম বেগ পেতে হবে। কিন্তু অনেকের আসার পর পর চাকরি না পেলে বাসা ভাড়া বা অন্য খরচ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে।
আমি যেহেতু তথ্য গবেষক এবং অভিবাসন নিয়ে কাজ করি, আমার মনে হয়েছে আমার গবেষণার ফল সবার সাথে শেয়ার করা দরকার। আমি আশা করি আমার গবেষণার ফল যারা অন্য দেশে ইমিগ্রেশন নিয়ে বা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে যাচ্ছেন তাদের কিছুটা হলেও কাজে লাগবে। আমার গবেষণা ও অন্য তথ্য গবেষকদের গবেষণায় দেখা গেছে ইমিগ্র্যান্টরা সঠিক সময় সঠিক তথ্য পেলে অনেক উপকৃত হন এবং তাদের সেটেলমেন্টে তা সহায়ক হয়। এটা যদিও আশ্চর্য হবার মতো কোনো বিষয় নয়, এটাই প্রত্যাশিত। তবে আমাদের মাঝে এখনো অনেকে আছেন যারা না জেনে না বুঝে এখনো মনে করেন কানাডায় প্রবেশ করতে পারলেই রাতারাতি তাদের ভাগ্য পরিবর্তন হয়ে যাবে।
কানাডা ও আমেরিকার ইমিগ্র্যান্টদের জীবনকাহিনি নিয়ে অসংখ্য গবেষণা হয়েছে এবং হচ্ছে। ইমিগ্র্যান্টদের এই দেশগুলোতে মানবেতর জীবনযাপন ও নানাবিধ সমস্যার ওপর প্রতিনিয়ত গবেষণা চলছে। এ দেশগুলোর ইমিগ্র্যান্টদের একটা বড় অংশ পছন্দসই চাকরি পেতে সমস্যার পড়েন। এদের একটা অংশ আসার আগে পর্যাপ্ত তথ্য ও প্রস্তুতি না নিয়ে এই দেশগুলোতে আসেন এবং আসার পর অর্থনৈতিক কারণে বেঁচে থাকার প্রয়োজনে যেকোনো ধরনের চাকরিতে ঢুকে যান। আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে, যারা আগে থেকে জেনেশুনে কানাডায় এসেছেন এবং পর্যাপ্ত তথ্য ও প্রস্তুতি নিয়ে এসেছেন তারা আসার পর বেশ ভালো করেছেন। বাংলাদেশে যে চাকরি করতেন সরাসরি তা না পেলেও একটা সময় পর সংশ্লিষ্ট চাকরি পেয়েছেন।
লিংক দেখুন
এই গ্রুপটার একটা অংশকে আমরা ‘ইনফরমেশন ইনটেলিজেন্ট’ বা ‘তথ্য বুদ্ধিমান’ বলছি। ইনফরমেশন ইন্টেলিজেন্টদের অনেকে কানাডায় ইমিগ্রেশন আবেদন করার আগে থেকেই কানাডার জীবনযাত্রা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তারা শুধু আইআরসিসি থেকেই তথ্য নেননি, তারা তাদের পরিচিত যারা কানাডায় ছিলেন তাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গ্রুপস বা ফোরামস যেমন—কানাডিয়ান ইমিগ্রেশন ফোরাম (কানাডা ভিসা) এবং বাংলাদেশি কানাডিয়ান–কানাডিয়ান বাংলাদেশি (বিসিসিবি) থেকে তথ্য নিয়েছেন। ইউটিউব ভিডিও দেখেছেন, গুগল সার্চ করেছেন কিংবা বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্যবহার করেছেন। তারা শুধু তথ্য নিয়েই থেমে থাকেননি, যে তথ্য তারা পেয়েছেন তা যাচাই করেছেন। যাচাই না করে তারা কোনো তথ্য বিশ্বাস বা তথ্যের ওপর কাজ করেননি।
আইআরসিসির ইমিগ্রেশন/ভিসা সংশ্লিষ্ট সতর্কতামূলক পোস্ট। উৎস: আইআরসিসি
তথ্য বুদ্ধিমানরা কানাডায় আসার পরেও থেমে থাকেননি। তারা বিভিন্ন জায়গা থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছেন যাতে করে কানাডার বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে ভালো ধারণা পাওয়া যায়। যেমন কানাডিয়ান ইমিগ্র্যান্টদের জন্য নির্ধারিত বিভিন্ন সেটেলমেন্ট সেবা গ্রহণ করেছেন।
সেবাগুলোর লিংক দেখুন
তথ্য বুদ্ধিমানরা অনেকেই আসার আগে সেটেলমেন্ট এজেন্সিগুলোর সাথে যোগাযোগ করে ওনাদের রিজিউমি কানাডার উপযোগী করে এনেছেন। এতে করে তাদের কানাডায় আসার পর যেমন অনেক সময় বেঁচেছে, পাশাপাশি আগে থেকেই তথ্য থাকার কারণে, আসার পর পরই প্রয়োজনীয় সেবাগুলো নিতে পেরেছেন। যাদের সাথে যোগাযোগ করার প্রয়োজন তাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই অল্প সময়ের মধ্যেই পছন্দ অনুযায়ী চাকরি পেয়েছেন অথবা কানাডায় পড়াশোনা করেছেন। পড়াশোনা শেষে ভালো চাকরি করেছেন। আমাদের গবেষণায় তারা বারবার তাদের জীবনে সঠিক তথ্যের ভূমিকার কথা বলেছেন।
আমার আরেকটা গবেষণার ফলাফল এখানে দেখুন
দেখা গেছে যারা ইমিগ্র্যান্ট এজেন্ট ব্যবহার করেছেন (অনেক ক্ষেত্রে তাদের অনুমোদন ছিল কি না, গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা তা বলতে পারেননি), তারা ইমিগ্রেশন এজেন্টদের মাধ্যমে তেমন কোনো প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়া এবং ইমিগ্রেশন এজেন্টদের কথায় পূর্বপ্রস্তুতি না নিয়ে আসার ফলে যে ভোগান্তিতে পড়েছেন। তা বারবার তারা আমার গবেষণায় বলেছেন।
আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই দেখি তথাকথিত ইমিগ্রেশন এজেন্টরা সব সময় শুধুমাত্র যে তথ্যগুলো প্রচার করলে ক্লায়েন্ট বেশি পাবেন তা প্রচার করেন। তারা বিশেষ করে পজিটিভ তথ্য বেশি প্রচার করেন। নেগেটিভ তথ্যগুলো এড়িয়ে যান। এটা শুধু কানাডার ইমিগ্রেশন নিয়ে যারা কাজ করেন তারা নন, অন্য দেশের যেমন আমেরিকার ইমিগ্রেশন নিয়ে কাজ করা তথাকথিত লাইসেন্সবিহীন ইমিগ্রেশন এজেন্টরা একই কাজ করেন।
আমার গবেষণায় যারা ইমিগ্রেশন এজেন্ট ব্যবহার করেছেন তাদের অনেকেই বলেছেন ইমিগ্রেশন এজেন্টরা কানাডার জীবনযাত্রাকে এত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন যে, মনে হয়েছে কানাডায় ইমিগ্র্যান্ট হিসেবে প্রবেশ করলেই সব সুযোগ–সুবিধা পেয়ে যাবেন, কোনো বিষয় নিয়ে ভাবনা থাকবে না। গবেষণার ভাষায় এই ধরনের তথ্য শেয়ার করাকে আমরা ‘ইনফরমেশন ক্রাফটিং’ বলছি।
বিস্তারিত দেখুন এখানে
আমার গবেষণায় অংশগ্রহণকারী যারা ইমিগ্রেশন এজেন্ট ব্যবহার করেছেন এবং কানাডা সংশ্লিষ্ট তথ্যের জন্য শুধুমাত্র এজেন্টদের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন তাদের অনেকেই পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে না আসা এবং কানাডা সম্পর্কে সঠিক তথ্যের অভাবে কানাডায় আসার পরে কতটা কষ্ট করতে হয়েছে তা বারবার বলেছেন।
আইআরসিসির ইমিগ্রেশন/ভিসা সংশ্লিষ্ট সতর্কতামূলক পোস্ট। উৎস: আইআরসিসি
একটা সময় ছিল যখন তথ্য পাওয়া কঠিন ছিল। এখন তথ্য যেমন মানুষের হাতের নাগালে চলে এসেছে, ঠিক তেমনি ভুলে ভরা তথ্যে চারিদিক সয়লাব হয়ে যাচ্ছে। এখন অনেকেই রাতারাতি তথ্য বিশেষজ্ঞ হয়ে যাচ্ছেন। সব বিষয়ে মতামত দেওয়ার একটা চরম আকাঙ্ক্ষা অনেকের মধ্যে দেখা যায়। এমনও হয়েছে কানাডায় কখনো আসেননি এবং এই দেশের সিস্টেম সম্পর্কে মোটেও ধারণা নেই, কিন্তু বলে বেড়াচ্ছেন কানাডায় চাকরি না করলেও টাকা পাওয়া যায়, ফ্রি ডে-কেয়ার পাওয়া যায়। এগুলোর সবকিছু পেতে আপনাকে অনেক শর্ত পূরণ করতে হবে। কানাডায় ইআই (এমপ্লয়মেন্ট ইনস্যুরেন্স) সুবিধা পেতে অনেকগুলো শর্তের মধ্যে আপনাকে প্রমাণ করতে হবে যে, আপনি বীমাযোগ্য কর্মসংস্থানে নিয়োজিত ছিলেন এবং নিজের কোনো দোষ ছাড়া আপনি চাকরি হারিয়েছেন। আরও অনেক শর্ত পূরণ করতে হবে ইআই পেতে। এমন নয় আপনি আজ কানাডায় আসলেন আর কাল থেকেই ইআই পেয়ে গেলেন। তাই কানাডার ইমিগ্রেশন নিয়ে চটকদার বিজ্ঞাপন দেখলেই তথ্য যাচাই না করে ফাঁদে পা দেবেন না। জেনে বুঝে তবেই সিদ্ধান্ত নেবেন।
এবার আসি যারা কানাডায় আসার পরিকল্পনা করছেন তারা কী কী করতে পারেন। আমার পরামর্শগুলো কোনো আইনগত পরামর্শ নয় এবং অনেকের ক্ষেত্রে কাজে লাগতে পারে আবার অনেকের ক্ষেত্রে নাও লাগতে পারে। তা ছাড়া, যেহেতু ইমিগ্রেশন পলিসি প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হয় এবং সেই সাথে তথ্যও, তাই সব সময় তা যাচাই করে নেবেন। একটা নির্দিষ্ট কোনো সোর্সের ওপর অতি মাত্রায় নির্ভর করবেন না। তথ্য যাচাই না করে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না।
আইআরসিসির ইমিগ্রেশন/ভিসা সংশ্লিষ্ট সতর্কতামূলক পোস্ট। উৎস: আইআরসিসি
এটা ভাববেন না, কেউ ১০ বছর ধরে কানাডায় আছে মানেই তিনি সব তথ্য জানেন। এমনও হতে পারে আপনি যে তথ্য একটা নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে পেয়েছেন, উনি তা জানেনই না। তা ছাড়া, ১০ বছর আগে যেই সুবিধা ছিল, তা এখন থাকতেও পারে, নাও পারে। আগে যেমনটা বলেছি, পর্যাপ্ত সঠিক তথ্য নিয়ে আসলে আশা করা যায়, আপনার ধাক্কাটা একটু কম খেতে হবে এবং আপনি মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকবেন শুরুর দিকের সমস্যাগুলো মোকাবিলা করার জন্য। আর সঠিক তথ্য না থাকলে আপনার আশা এবং বাস্তবতার মাঝেই অনেক পার্থক্য থাকবে।
আমি এটাও বলতে চাই, সঠিক তথ্য নিয়ে আসলেই আপনি কালকেই কানাডায় সেটেল হয়ে যাবেন তা নয়। একটা নতুন দেশে পুরোপুরি সেটেল হতে একেকজনের একেক সময় লাগে। তবে জেনেশুনে সিদ্ধান্ত নিলে আশা করা যায় কম সময়েই সফলতার মুখ দেখা যাবে।
আগে যেমনটা বলেছি এখন তথ্য পাওয়া আগের চেয়ে অনেক সহজ। এখন চাইলে হোয়াটসঅ্যাপে পরিচিত কাউকে ফোন দেওয়া যায়, যোগাযোগ করা যায় ফেসবুক মেসেঞ্জারে। এখন বাংলাদেশিদের অনেকগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফোরাম আছে (যেমন বিসিসিবি; আমরা কানাডিয়ান বাংলাদেশি (এসিবি) যাদের সদস্যরা প্রায়শই নতুন ইমিগ্র্যান্ট ও ভবিষতে ইমিগ্রেশন প্রত্যাশীদের বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন।
আইআরসিসির ইমিগ্রেশন/ভিসা সংশ্লিষ্ট সতর্কতামূলক পোস্ট। উৎস: আইআরসিসি
এখন কানাডার ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টের ওয়েবসাইট ছাড়াও আরও অনেক উৎস থেকে আপনি তথ্য নিতে এবং যাচাই করতে পারেন। আপনার কোনো প্রফেশনাল কলিগ যদি ইতিমধ্যে কানাডায় থাকেন এবং পেশাগত চাকরি করেন তাদের কাছ থেকে তথ্য নিতে পারেন। জিজ্ঞাসা করতে পারেন আপনার পেশাগত চাকরির প্রস্তুতির জন্য কী কী করা প্রয়োজন। কী কী আপনি বাংলাদেশে থাকা অবস্থায় করতে পারেন। কী কী সমস্যা আপনার ও আপনার পরিবারের শুরুতে মোকাবিলা করতে হতে পারে। সমস্যাগুলো কিছুটা লাঘবের উপায় আছে কি না, ইত্যাদি প্ৰশ্ন করে প্রস্তুতি নিতে পারেন। তা ছাড়া, ইমিগ্রেশন হয়ে গেলে (অ্যাপ্রুভড ইন প্রিন্সিপাল) ইমিগ্র্যান্টদের জন্য কানাডায় আগমনের আগে (প্রি–অ্যারাইভাল) ও কানাডায় আগমনের পরে (পোস্ট অ্যারাইভাল) কানাডা সরকার যেসব সেবা দিয়ে থাকে সেগুলো কাজে লাগানোর চেষ্টা করুন।
কানাডার লোকাল পাবলিক লাইব্রেরিগুলো ইমিগ্র্যান্টদের বিভিন্ন সেবা দিয়ে থাকে যা ইমিগ্র্যান্ট ও তাদের পরিবারের সবার কাজে লাগে। কানাডায় যাওয়ার আগে ও পরে আপনার প্রয়োজনীয় পেশাগত সামাজিক নেটওয়ার্ক বাড়ানোর চেষ্টা করুন। সর্বোপরি চেষ্টা করুন যতটুকু সম্ভব জেনেশুনে কাজ করতে। যদিও রাতারাতি ‘ইনফরমেশন ইনটেলিজেন্ট’ হওয়া সম্ভব নয়, তবে আপনার তথ্য সংশ্লিষ্ট চেষ্টার ফলে আপনার ক্ষেত্রে সেটেলমেন্ট সংশ্লিষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সহজ হতে পারে।
কানাডায় না জেনেশুনে আসলে আপনার নানাবিধ সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা আছে এবং সমস্যা মোকাবিলা করতে গিয়ে আপনি হাঁপিয়ে উঠতে পারেন। তাই পর্যাপ্ত সঠিক তথ্য নিয়ে একটা নতুন দেশে যাবার চেষ্টা করুন। বিদেশে যেতে ইচ্ছুক সবার জন্য শুভ কামনা রইল।
লেখক: সহকারী অধ্যাপক, কুইন্স কলেজ, সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক
ইমেইল: [email protected]