বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রদানের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে ৪১টি দেশে সম্প্রসারণে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিকের টেবিলে উপস্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে যেসব বাংলাদেশি মিশনে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চালু রয়েছে, সেখানে অনলাইনে আবেদন, প্রবাসীদের সুবিধাজনক সময়ে বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট এবং আবেদনের অগ্রগতি জানার ব্যবস্থা রয়েছে।
তিনি বলেন, দূতাবাস পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণ করলেও পাসপোর্ট ঢাকায় ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকে ইস্যু করা হয়। তাই দ্রুততম সময়ে পাসপোর্ট ডেলিভারি নিশ্চিত করতে দূতাবাসগুলো নিয়মিত ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে। পাসপোর্ট ডেলিভারির জন্য প্রস্তুত হলে এসএমএস বা ই-মেইলের মাধ্যমে আবেদনকারীকে অবহিত করা হয়।
তিনি জানান, এ পর্যন্ত ১৭টি দেশে অবস্থিত ২৭টি বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের আবেদন দূতাবাসে গ্রহণ করা হলেও তা নির্বাচন কমিশন থেকে প্রদান করা হয়। মোট ৪১টি দেশে পর্যায়ক্রমে ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের সেবা সম্প্রসারণে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
পাসপোর্ট সেবা সহজীকরণের লক্ষ্যে বিশেষ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত প্রবাসীদের পাসপোর্ট-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বল্পমেয়াদি বিশেষ কর্মসূচি বা ক্র্যাশ প্রোগ্রামের আওতায় সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে ঢাকা থেকে কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন দল পাঠিয়ে পাসপোর্ট-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে কনস্যুলার সেবা সহজীকরণের লক্ষ্যে অনলাইন সত্যায়ন ও ই-অ্যাপোস্টিল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর ফলে সেবাপ্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করে ডিজিটাল সনদ গ্রহণ করতে পারছেন। এতে তাদের সময়, ব্যয় ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কর্মপরিকল্পনায় পাসপোর্ট, ভিসা এবং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সনদের তথ্য যাচাই সহজ করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে একটি অনলাইন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, প্রতিটি বাংলাদেশি মিশনে অনলাইন ‘গ্রিভ্যান্স রিড্রেস সিস্টেম’ চালু রয়েছে। অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্ধারণ, অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সেবাগ্রহীতাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান।