যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশি নাট্য সংগঠন থিয়েটার ৭১ কর্পোরেশনের উদ্যোগে সফলভাবে মঞ্চস্থ হয়েছে নেমেসিস। গত শনিবার জ্যামাইকা সেন্টার ফর আর্টস অ্যান্ড লার্নিং মিলনায়তনে নাটকটি দুবার মঞ্চস্থ হয়।
বিকেল ৫টা ও সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত নাটকটির দুটি প্রদর্শনীতেই দর্শকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তাদের উপস্থিতির মাধ্যমে প্রবাসের ব্যস্ত জীবন ও নানা প্রতিকূলতার মাঝেও বাংলা নাট্যচর্চার প্রতি তাদের গভীর টান ও নিষ্ঠা আবারও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে নিউইয়র্কের মঞ্চে।
মাসুম রেজার রচনা ও খাইরুল ইসলাম পাখির নির্দেশনায় নির্মিত ‘নেমেসিস’ এর মূল গল্প গড়ে উঠেছে উত্তর আমেরিকার প্রবাসী জীবনের বাস্তব কিছু অনৈতিক প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে।
গল্পে দেখা যায়, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে আমেরিকায় এসে আশ্রয় নেন প্রবীণ সবীউল্লাহ। সেখানে এসেও তার অসদুপায়ে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা এবং অতীতের অপরাধবোধ নিয়ে থিয়েটার চর্চাকারী স্বাবলম্বী কন্যা নুপুরের সঙ্গে তৈরি হয় মনস্তাত্ত্বিক সংঘাত। গ্রিক ন্যায়বিচারের দেবী ‘নেমেসিস’ এর মতোই নুপুর আপসহীন হয়ে বাবার অন্যায়ের শাস্তি নিশ্চিত করতে চায়। তবে শেষপর্যন্ত নাতনি আধোরার মানবিক হস্তক্ষেপে ক্ষমা ও আত্মশুদ্ধির বার্তা ফুটে ওঠে।
নাটকে সবীউল্লাহ চরিত্রে খাইরুল ইসলাম পাখি, নুপুর চরিত্রে বন্যা মির্জা ও আধোরার চরিত্রে তামান্না শান্তি আহমেদ অভিনয় করেন।
নাটকের একটি দৃশ্যে বন্যা মির্জা, তামান্না শান্তি আহমেদ ও খাইরুল ইসলাম পাখি। ছবি: সংগৃহীত
প্রযোজনার অন্যতম আকর্ষণ ছিল অভিনেত্রী বন্যা মির্জার উপস্থিতি। নিউইয়র্কের মঞ্চে এটি তার প্রথম অভিনয়। অভিনয়ের পাশাপাশি পোশাক পরিকল্পনাও করেছেন তিনি। প্রবীণ শিল্পীদের পাশাপাশি নবাগত তামান্না শান্তি আহমেদের সাবলীল অভিনয়ও দর্শক মহলে কুড়িয়েছে প্রশংসা।
নাটকের অন্য চরিত্রে ছিলেন সাদিয়া খন্দকার, জেকে রাজ্য, তমিমা তিথি, উর্মি রোজারিও, রানা মাসুদ, শায়লা আফতাব ও সুলতান বোখারী।
সংগীতে পিন্টো ঘোষ, আলোয় বাবর খাদেমী এবং দৃশ্যপট ও প্রপস নির্মাণে ছিলেন মিঠুন আহমেদ।
আয়োজনের সার্বিক সমন্বয়ক ছিলেন জ্যাকলিন গোমেজ।
বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব অধ্যাপক সফি আহমেদসহ নিউইয়র্কের শিল্প ও সংস্কৃতি অঙ্গনের ব্যক্তিরা এতে উপস্থিত ছিলেন।