Advertisement Banner

ক্যানসারের যে ৫টি লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
ক্যানসারের যে ৫টি লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়
প্রতীকী ছবি: ফ্রিপিক

ক্যানসার একটি মরণব্যাধি। তবে এটি সাধারণত হঠাৎ করে স্পষ্ট বা নাটকীয় লক্ষণ নিয়ে দেখা দেয় না। জরায়ুমুখ, ফুসফুস, মুখগহ্বর ও স্তন ক্যানসার অনেক সময়ই সূক্ষ্ম ও সহজে উপেক্ষিত লক্ষণ দিয়ে শুরু হয়। এসব লক্ষণ এড়িয়ে যাওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভারতের নয়ডাতে অবস্থিত মেডান্তা হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট মেডিকেল অনকোলজিস্ট অঙ্কুর নন্দন ভার্শনি দ্য হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেন, অনেকেই শরীরে ছোটখাটো অস্বাভাবিক পরিবর্তন যেমন ছোট মাংসপিণ্ড, দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা অকারণ ক্লান্তি দেখা দিলেও তারা তা গুরুত্ব দেন না। প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যথা না থাকায় অনেকেই ভুলভাবে আশ্বস্ত থাকেন। যে কারণে চিকিৎসকের কাছে যেতে যেতে রোগ জটিল হয়ে ওঠে। এ কারণে সচেতনতার গুরুত্ব অপরিসীম।

ডা. অঙ্কুর নন্দন যে পাঁচটি প্রাথমিক লক্ষণের দিকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন, সেগুলো হলো:

মাংসপিণ্ড বা অস্বাভাবিক ফোলা

ডা. অঙ্কুর নন্দন জানান, ব্যথাহীন কোনো মাংসপিণ্ড বা ফোলা ক্যানসারের অন্যতম সাধারণ প্রাথমিক লক্ষণ, যা স্তন, ঘাড়, বগল বা অণ্ডকোষে দেখা যেতে পারে। ব্যথা না থাকায় অনেকেই বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে এটি কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ইঙ্গিত হতে পারে। আকার ছোট হলেও এমন কোনো পিণ্ড বা ফোলা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দসে তিনি।

প্রতীকী ছবি: ফ্রিপিক
প্রতীকী ছবি: ফ্রিপিক

সেরে না ওঠা ঘা বা আলসার

বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখের ঘা দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। ডা. অঙ্কুর নন্দন বলেন, মাড়ি, জিহ্বা বা মুখের ভেতরের যে কোনো ঘা দীর্ঘদিন না সারলে তা ক্যানসার বা প্রাক-ক্যানসারজনিত পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে তামাক ব্যবহারের সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে। ১০ থেকে ১৪ দিনের বেশি স্থায়ী হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

কারণহীন রক্তপাত বা নিঃসরণ

ডা. অঙ্কুর নন্দন বলেছেন, মুখ, মলদ্বার, প্রস্রাব বা যোনিপথ থেকে হঠাৎ রক্তপাত হলে তা কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। অস্বাভাবিক যোনি রক্তপাত জরায়ুমুখ ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। আবার লালা বা কফে রক্তের উপস্থিতি ফুসফুস বা গলার ক্যানসারের ইঙ্গিত দিতে পারে। অল্প বা মাঝে মাঝে হলেও এমন রক্তপাত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

দীর্ঘস্থায়ী কাশি, স্বরভঙ্গ বা গিলতে সমস্যা

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, সপ্তাহের পর সপ্তাহ কাশি থাকা বা কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন অনেক সময় সংক্রমণ বা দূষণের কারণে বলে ধরে নেওয়া হয়। তবে এটি ফুসফুস, গলা বা খাদ্যনালির ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণও হতে পারে। বিশেষ করে দুই থেকে তিন সপ্তাহের বেশি এসব উপসর্গ থাকলে, ধূমপায়ী বা ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের দ্রুত বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

অকারণে ওজন কমা ও ক্লান্তি

ডা. অঙ্কুর নন্দনের ভাষ্য, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া বা বিশ্রামের পরও দীর্ঘদিন ক্লান্তি না কাটাকে অনেকেই মানসিক চাপ বা ব্যস্ততার ফল মনে করেন। তবে এসব লক্ষণ রক্ত, ফুসফুস বা পাকস্থলীর ক্যানসারের প্রাথমিক ইঙ্গিত হতে পারে। তাই এমন উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

এই বিশেষজ্ঞ বলেছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যানসার শনাক্ত হলে চিকিৎসা তুলনামূলক সহজ হয়, কম জটিল থেরাপি লাগে এবং সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি থাকে। কিন্তু সচেতনতার অভাব, সামাজিক কুসংস্কার এবং চিকিৎসা নিতে দেরি—এসব কারণে অনেক ক্ষেত্রেই সময়মতো রোগ নির্ণয় সম্ভব হয় না। তিনি বলেন, প্রাথমিক শনাক্তকরণ মানে শুধু দ্রুত রোগ ধরা নয় বরং রোগীর জন্য সহজ চিকিৎসা ও উন্নত জীবনমান নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি করা। প্রাথমিক লক্ষণগুলো দ্রুত গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নিলে চিকিৎসার ফলাফল অনেক ভালো হয়।

ডা. অঙ্কুর নন্দন আরও বলেন, ক্যানসার সাধারণত ব্যথা দিয়ে নয়, নীরব কিছু লক্ষণ দিয়েই শুরু হয়। রোগ বাড়ার আগেই শরীর বিভিন্ন সূক্ষ্ম সংকেত দেয়। এসব লক্ষণ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত চিকিৎসা নিলে জটিলতা কমিয়ে সহজে রোগ মোকাবিলা করা সম্ভব।

সম্পর্কিত