চরচা ডেস্ক

ডিম পৃথিবীর অন্যতম পুষ্টিকর খাবার হিসেবে পরিচিত। একে আধুনিক বিশ্বের সবচেয়ে সহজলভ্য ‘গুরুত্বপূর্ণ’ খাবার বললে খুব একটা ভুল হবে না। বর্তমানের স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের ডায়েট চার্টে এটি এখন অপরিহার্য। পুষ্টিবিজ্ঞানীরা ডিমকে কেবল সাধারণ পুষ্টিকর খাবার নয়, বরং ‘সুপারফুড’ উপাধি দিয়েছে। এর অবশ্য যথেষ্ট কারণও আছে।
ডিমকে বলা হয় আদর্শ প্রোটিনের উৎস। একটি বড় ডিমে মাত্র ৭৮ ক্যালরির বিপরীতে পাওয়া যায় প্রায় ৬ গ্রাম উচ্চমানের প্রোটিন। এতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নয়টি এসেনশিয়াল অ্যামিনো অ্যাসিড সঠিক অনুপাতে থাকে, যা আমাদের পেশী গঠন ও টিস্যু মেরামতে সরাসরি ভূমিকা রাখে।
শুধু প্রোটিনই নয়, ডিম ভিটামিন এবং খনিজের এক প্রাকৃতিক ক্যাপসুল। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, বি১২, বি২, বি৫ ও সেলেনিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বিশেষ করে সেলেনিয়াম আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং থাইরয়েড হরমোনের কাজ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
ডিমের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো এতে থাকা ‘কোলিন’। এটি এমন একটি পুষ্টি উপাদান যা অধিকাংশ মানুষ পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্রহণ করেন না। কোলিন মস্তিষ্কের কোষগুলোর গঠন এবং সিগন্যাল আদান-প্রদান স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

চোখের স্বাস্থ্যের জন্য ডিম এক মহৌষধ। এর কুসুমে থাকা ‘লুটেইন’ এবং ‘জিক্সাথিন’ নামক দুটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চোখের রেটিনাকে সুরক্ষিত রাখে। নিয়মিত ডিম খেলে বার্ধক্যজনিত দৃষ্টিশক্তি হ্রাস এবং ছানি পড়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
দীর্ঘদিন ধরে একটি ধারণা প্রচলিত ছিল যে, ডিমের কুসুম কোলেস্টেরল বাড়ায় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করে। তবে আধুনিক গবেষণা এই ধারণাকে অনেকটা বদলে দিয়েছে। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কেবল খাবারের ওপর নির্ভর করে না; বরং আমাদের লিভারের কার্যকারিতার ওপরও নির্ভরশীল। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ডিম শরীরে এইচডিএল বা ‘ভালো কোলেস্টেরল’ বাড়াতে সাহায্য করে। এমনকি এলডিএল বা ‘খারাপ কোলেস্টেরল’ এর ক্ষেত্রেও ডিম বড় আকারের কণা তৈরি করে যা হৃদযন্ত্রের জন্য তুলনামূলক কম ক্ষতিকর।
ওজন কমাতে ডিমের জুড়ি নেই। উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে ডিম খেলে অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকে। ‘স্যাটাইটি ইনডেক্স’ বা তৃপ্তির সূচকে ডিমের অবস্থান বেশ উপরে। সকালে নাশতায় ডিম খেলে পরবর্তী দীর্ঘ সময় ক্ষুধার অনুভূতি কম হয়, ফলে বাড়তি ক্যালরি গ্রহণের প্রবণতা কমে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সকালের নাশতায় ডিম খান, তাদের ওজন কমানোর প্রক্রিয়া অন্যদের তুলনায় দ্রুত হয়।
সহজলভ্যতা, রান্নার বৈচিত্র্য এবং সাশ্রয়ী মূল্য—সব মিলিয়ে ডিম বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা খাবার। আপনি এটি সিদ্ধ করে খান, অমলেট বা পোচ হিসেবে গ্রহণ করেন—প্রতিটি রূপই পুষ্টিগুণে ভরপুর। তবে সর্বোচ্চ উপকার পেতে ‘ওমেগা-৩’ সমৃদ্ধ খাবার খেয়ে বড় হওয়া বা চারণভূমিতে পালিত মুরগির ডিম বেছে নেওয়া আরও ভালো। শরীরের সার্বিক গঠন, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা এবং দীর্ঘস্থায়ী সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অন্তত একটি করে ডিম রাখা উচিত। আর এইসব গুণের কারণেই ডিম আজ সাধারণ খাবার থেকে ‘সুপারফুড’-এ পরিণত হয়েছে।
তথ্যসূত্র: হেলথলাইন

ডিম পৃথিবীর অন্যতম পুষ্টিকর খাবার হিসেবে পরিচিত। একে আধুনিক বিশ্বের সবচেয়ে সহজলভ্য ‘গুরুত্বপূর্ণ’ খাবার বললে খুব একটা ভুল হবে না। বর্তমানের স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের ডায়েট চার্টে এটি এখন অপরিহার্য। পুষ্টিবিজ্ঞানীরা ডিমকে কেবল সাধারণ পুষ্টিকর খাবার নয়, বরং ‘সুপারফুড’ উপাধি দিয়েছে। এর অবশ্য যথেষ্ট কারণও আছে।
ডিমকে বলা হয় আদর্শ প্রোটিনের উৎস। একটি বড় ডিমে মাত্র ৭৮ ক্যালরির বিপরীতে পাওয়া যায় প্রায় ৬ গ্রাম উচ্চমানের প্রোটিন। এতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নয়টি এসেনশিয়াল অ্যামিনো অ্যাসিড সঠিক অনুপাতে থাকে, যা আমাদের পেশী গঠন ও টিস্যু মেরামতে সরাসরি ভূমিকা রাখে।
শুধু প্রোটিনই নয়, ডিম ভিটামিন এবং খনিজের এক প্রাকৃতিক ক্যাপসুল। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, বি১২, বি২, বি৫ ও সেলেনিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বিশেষ করে সেলেনিয়াম আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং থাইরয়েড হরমোনের কাজ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
ডিমের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো এতে থাকা ‘কোলিন’। এটি এমন একটি পুষ্টি উপাদান যা অধিকাংশ মানুষ পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্রহণ করেন না। কোলিন মস্তিষ্কের কোষগুলোর গঠন এবং সিগন্যাল আদান-প্রদান স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

চোখের স্বাস্থ্যের জন্য ডিম এক মহৌষধ। এর কুসুমে থাকা ‘লুটেইন’ এবং ‘জিক্সাথিন’ নামক দুটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চোখের রেটিনাকে সুরক্ষিত রাখে। নিয়মিত ডিম খেলে বার্ধক্যজনিত দৃষ্টিশক্তি হ্রাস এবং ছানি পড়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
দীর্ঘদিন ধরে একটি ধারণা প্রচলিত ছিল যে, ডিমের কুসুম কোলেস্টেরল বাড়ায় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করে। তবে আধুনিক গবেষণা এই ধারণাকে অনেকটা বদলে দিয়েছে। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কেবল খাবারের ওপর নির্ভর করে না; বরং আমাদের লিভারের কার্যকারিতার ওপরও নির্ভরশীল। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ডিম শরীরে এইচডিএল বা ‘ভালো কোলেস্টেরল’ বাড়াতে সাহায্য করে। এমনকি এলডিএল বা ‘খারাপ কোলেস্টেরল’ এর ক্ষেত্রেও ডিম বড় আকারের কণা তৈরি করে যা হৃদযন্ত্রের জন্য তুলনামূলক কম ক্ষতিকর।
ওজন কমাতে ডিমের জুড়ি নেই। উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে ডিম খেলে অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকে। ‘স্যাটাইটি ইনডেক্স’ বা তৃপ্তির সূচকে ডিমের অবস্থান বেশ উপরে। সকালে নাশতায় ডিম খেলে পরবর্তী দীর্ঘ সময় ক্ষুধার অনুভূতি কম হয়, ফলে বাড়তি ক্যালরি গ্রহণের প্রবণতা কমে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সকালের নাশতায় ডিম খান, তাদের ওজন কমানোর প্রক্রিয়া অন্যদের তুলনায় দ্রুত হয়।
সহজলভ্যতা, রান্নার বৈচিত্র্য এবং সাশ্রয়ী মূল্য—সব মিলিয়ে ডিম বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা খাবার। আপনি এটি সিদ্ধ করে খান, অমলেট বা পোচ হিসেবে গ্রহণ করেন—প্রতিটি রূপই পুষ্টিগুণে ভরপুর। তবে সর্বোচ্চ উপকার পেতে ‘ওমেগা-৩’ সমৃদ্ধ খাবার খেয়ে বড় হওয়া বা চারণভূমিতে পালিত মুরগির ডিম বেছে নেওয়া আরও ভালো। শরীরের সার্বিক গঠন, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা এবং দীর্ঘস্থায়ী সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অন্তত একটি করে ডিম রাখা উচিত। আর এইসব গুণের কারণেই ডিম আজ সাধারণ খাবার থেকে ‘সুপারফুড’-এ পরিণত হয়েছে।
তথ্যসূত্র: হেলথলাইন