চরচা ডেস্ক

আমাদের দৈনন্দিন প্রোটিনের চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ হয় ব্রয়লার মুরগি থেকে। কম খরচ ও সহজলভ্য হওয়ায় মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণে বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সোশ্যাল মিডিয়া ও ইন্টারনেটে ব্রয়লার মুরগি খাওয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে কিছু সন্দেহ রয়েছে। কারণ এতদিন ধরে আমরা জেনে এসেছি এটি খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক জার্নাল ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ভেটেরিনারি সায়েন্সেস অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাজব্যান্ড্রি-তে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে ব্রয়লার মুরগি খাওয়ার তথাকথিত ক্ষতিকর দিক এবং এর পেছনের আসল বৈজ্ঞানিক সত্যতা তুলে ধরা হয়েছে।
অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি
গবেষণা প্রতিবেদনটিতে ব্রয়লার মুরগি চাষের একমাত্র উদ্বেগের জায়গা হিসেবে ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স’ বা জীবাণুর অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে ওঠার বিষয়টিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। মুরগির রোগ নিরাময়ে খামারে দীর্ঘমেয়াদী বা অনিয়ন্ত্রিত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হলে মানুষের শরীরেও অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া তৈরি হতে পারে। যা একটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য হুমকি। তবে উন্নত বিশ্বের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও যদি পশু চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে কঠোর নিয়মে মুরগিকে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়, তবে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে।
হরমোন ব্যবহার
সাধারণ মানুষের মাঝে একটি বড় আতঙ্ক রয়েছে যে, ব্রয়লার মুরগিকে দ্রুত বড় করার জন্য ইনজেকশন বা খাবারের মাধ্যমে ‘গ্রোথ হরমোন’ দেওয়া হয়। তবে বিজ্ঞানীরা এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অবৈজ্ঞানিক বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ৬ সপ্তাহের মধ্যে বাজারজাত করার উপযোগী মুরগিকে হরমোন দেওয়া অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এটি ব্যবসার মোট খরচের চেয়েও বেশি। এছাড়া মুরগির শরীরে বাহ্যিক হরমোন কাজও করে না। মূলত ৫০ বছরের উন্নত প্রজনন বা সিলেক্টিভ ব্রিডিং, সুষম খাদ্য এবং সঠিক খামার ব্যবস্থাপনার কারণেই ব্রয়লার মুরগি দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
দ্রুত বয়ঃসন্ধি বা স্থূলতার সম্পর্ক
কিশোর-কিশোরীদের দ্রুত বয়ঃসন্ধি আসা কিংবা মোটা হয়ে যাওয়ার (ওবেসিটি) পেছনে ব্রয়লার মুরগিকে দায়ী করা হলেও গবেষণায় এর কোনো প্রমাণ মেলেনি। চিকিৎসকদের মতে, ব্রয়লার মুরগি মূলত উচ্চ-প্রোটিন ও কম চর্বিযুক্ত একটি খাবার। যেখানে কোনো কার্বোহাইড্রেট থাকে না। তাই এটি স্থূলতার কারণ হতে পারে না। বরং অতিরিক্ত ফাস্টফুড, উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং বংশগত কারণেই স্থূলতা বা দ্রুত বয়ঃসন্ধি আসার মতো ঘটনা ঘটে থাকে।
গবেষকদের মতে, ব্রয়লার মুরগি প্রোটিনের একটি সাশ্রয়ী উৎস। তবে এক্ষেত্রে খামারিদের বিষাক্ত বর্জ্যমুক্ত পোল্ট্রি ফিড ও পরিমিত অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে মুরগি উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া ভোক্তাদেরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভুল তথ্যে বিভ্রান্ত না হয়ে তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আরও বেশি সচেতন হতে হবে।

আমাদের দৈনন্দিন প্রোটিনের চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ হয় ব্রয়লার মুরগি থেকে। কম খরচ ও সহজলভ্য হওয়ায় মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণে বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সোশ্যাল মিডিয়া ও ইন্টারনেটে ব্রয়লার মুরগি খাওয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে কিছু সন্দেহ রয়েছে। কারণ এতদিন ধরে আমরা জেনে এসেছি এটি খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক জার্নাল ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ভেটেরিনারি সায়েন্সেস অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাজব্যান্ড্রি-তে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে ব্রয়লার মুরগি খাওয়ার তথাকথিত ক্ষতিকর দিক এবং এর পেছনের আসল বৈজ্ঞানিক সত্যতা তুলে ধরা হয়েছে।
অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি
গবেষণা প্রতিবেদনটিতে ব্রয়লার মুরগি চাষের একমাত্র উদ্বেগের জায়গা হিসেবে ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স’ বা জীবাণুর অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে ওঠার বিষয়টিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। মুরগির রোগ নিরাময়ে খামারে দীর্ঘমেয়াদী বা অনিয়ন্ত্রিত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হলে মানুষের শরীরেও অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া তৈরি হতে পারে। যা একটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য হুমকি। তবে উন্নত বিশ্বের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও যদি পশু চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে কঠোর নিয়মে মুরগিকে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়, তবে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে।
হরমোন ব্যবহার
সাধারণ মানুষের মাঝে একটি বড় আতঙ্ক রয়েছে যে, ব্রয়লার মুরগিকে দ্রুত বড় করার জন্য ইনজেকশন বা খাবারের মাধ্যমে ‘গ্রোথ হরমোন’ দেওয়া হয়। তবে বিজ্ঞানীরা এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অবৈজ্ঞানিক বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ৬ সপ্তাহের মধ্যে বাজারজাত করার উপযোগী মুরগিকে হরমোন দেওয়া অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এটি ব্যবসার মোট খরচের চেয়েও বেশি। এছাড়া মুরগির শরীরে বাহ্যিক হরমোন কাজও করে না। মূলত ৫০ বছরের উন্নত প্রজনন বা সিলেক্টিভ ব্রিডিং, সুষম খাদ্য এবং সঠিক খামার ব্যবস্থাপনার কারণেই ব্রয়লার মুরগি দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
দ্রুত বয়ঃসন্ধি বা স্থূলতার সম্পর্ক
কিশোর-কিশোরীদের দ্রুত বয়ঃসন্ধি আসা কিংবা মোটা হয়ে যাওয়ার (ওবেসিটি) পেছনে ব্রয়লার মুরগিকে দায়ী করা হলেও গবেষণায় এর কোনো প্রমাণ মেলেনি। চিকিৎসকদের মতে, ব্রয়লার মুরগি মূলত উচ্চ-প্রোটিন ও কম চর্বিযুক্ত একটি খাবার। যেখানে কোনো কার্বোহাইড্রেট থাকে না। তাই এটি স্থূলতার কারণ হতে পারে না। বরং অতিরিক্ত ফাস্টফুড, উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং বংশগত কারণেই স্থূলতা বা দ্রুত বয়ঃসন্ধি আসার মতো ঘটনা ঘটে থাকে।
গবেষকদের মতে, ব্রয়লার মুরগি প্রোটিনের একটি সাশ্রয়ী উৎস। তবে এক্ষেত্রে খামারিদের বিষাক্ত বর্জ্যমুক্ত পোল্ট্রি ফিড ও পরিমিত অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে মুরগি উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া ভোক্তাদেরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভুল তথ্যে বিভ্রান্ত না হয়ে তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আরও বেশি সচেতন হতে হবে।