হিমালয়ের দেশ নেপালে আজ বুধবার আকস্মিক বন্যায় কয়েকটি গ্রাম ভেসে গেছে। বন্যায় আটজন নিহত এবং তিব্বতের কাছে বিভিন্ন এলাকায় সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
নেপালের কর্মকর্তারা জানান, রসুয়া জেলার পাহাড়ি এলাকায় শ্যাপ্রু বেসি ও তিমুরে বন্যার পানি এতটাই বেড়ে গেছে যে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় হেলিকপ্টার অবতরণ করতে পারছে না। তারা সেখানে হতাহতের আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন।
জেলা প্রশাসক নরেন্দ্র পারিয়ার রয়টার্সকে বলেন, “বড় ধরনের প্রাণহানি বা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। তবে এই মুহূর্তে আমি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না।”
এলাকার ভোতে কোশি নদীর তীরে বসবাসকারীদের উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পারিয়ার। তিনি জানান, আশপাশের কয়েকটি গ্রাম ও অবকাঠামো প্রকল্পের স্থান ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এলাকার এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে অনলাইনখবর পোর্টাল জানায়, “সবকিছু হঠাৎ ঘটে গেল। আমরা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মতো বিকট শব্দ শুনতে পাই। মানুষ চিৎকার শুরু করে এবং দৌড়ে পালাতে থাকে।”
তবে পানি না কমা পর্যন্ত নেপালের উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অবতরণ করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বসনেত।
বন্যার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি। তবে গত বছর একই নদীতে প্রাণঘাতী আকস্মিক বন্যার কারণ হিসেবে একটি হিমবাহের ওপর থাকা হ্রদের পানি বেরিয়ে যাওয়াকে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
নেপালের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যায় ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর বেশিরভাগই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত। রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, দেশটির মোট ৩ দশমিক ২ গিগাওয়াট জলবিদ্যুৎ সক্ষমতার ১২ শতাংশেরও বেশি এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেছেন, পুলিশ ও সেনাবাহিনী উদ্ধার ও ত্রাণকাজে অংশ নিচ্ছে।
তিনি বলেন, “নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষকে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন এবং সজাগ থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
গত বছর ভোতে কোশি নদীর বন্যায় নয়জন নিহত এবং ২৪ জন নিখোঁজ হয়েছিল। বন্যার পানিতে নেপাল ও চীনের মধ্যে সংযোগকারী ‘ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ’ ভেসে যাওয়ায় কয়েক মাস ধরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছিল।