Advertisement Banner

ইউক্রেনে হাজার ড্রোন ছুড়ল রাশিয়া, নিহত ৭

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
ইউক্রেনে হাজার ড্রোন ছুড়ল রাশিয়া, নিহত ৭
রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের অন্তত ১১টি অঞ্চলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ছবি: রয়টার্স

ইউক্রেনে দুই দফায় প্রায় এক হাজার ড্রোন এবং ২৩টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী। নজিরবিহীন এই হামলায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে সাতজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে।

ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সোমবার রাতভর মস্কো প্রায় ৪০০টি দূরপাল্লার ড্রোন এবং ২৩টি ক্রুজ মিসাইল নিক্ষেপ করে। এই রেশ কাটতে না কাটতেই মঙ্গলবার দিনের আলোতে আরও ৫৫৬টি ড্রোনের বিশাল বহর নিয়ে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

বিশেষ করে পশ্চিম ইউক্রেনের লভিভসহ বিভিন্ন বড় শহরগুলোকে লক্ষ্য করে এই কামিকাজে ড্রোনগুলো আছড়ে পড়ে, যার বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদমির জেলেনস্কি এক জরুরি বার্তায় জানিয়েছেন যে, রাশিয়ার এই হামলায় দেশের অন্তত ১১টি অঞ্চলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক মিত্রদের কাছে দ্রুত আরও বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এবং বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে সক্ষম প্যাট্রিয়ট মিসাইল সরবরাহের জোরালো আবেদন জানিয়েছেন।

জেলেনস্কির ভাষ্য, ওয়াশিংটনের বর্তমান মনোযোগ ইরান যুদ্ধের দিকে বেশি থাকায় ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, যা দেশটিকে আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

রাশিয়ার এই হামলার প্রভাব প্রতিবেশী দেশ মলদোভাতেও পড়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাতের হামলায় ইউরোপের সঙ্গে সংযুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মলদোভায় বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মলদোভা সরকার নাগরিকদের ব্যস্ত সময়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানোর নির্দেশ দিয়েছে।

দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, পূর্ব দোনেৎস্ক অঞ্চলে রুশ বাহিনী ধীরে ধীরে সামনে অগ্রসর হয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহর স্লোভিয়ানস্কের মাত্র ২০ কিলোমিটারের মধ্যে পৌঁছে গেছে। একই সঙ্গে জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলেও রুশ বাহিনীর অগ্রগতির খবর পাওয়া গেছে।

সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আন্তর্জাতিক মহলের মনোযোগ মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধের দিকে সরে যাওয়ার সুযোগে মস্কো ইউক্রেনে তাদের আক্রমণ বহুগুণ জোরালো করেছে। পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর চার বছর পর দুই দফার এই ড্রোন হামলাকে অন্যতম বৃহত্তম এবং ধ্বংসাত্মক বিমান হামলা হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।

সম্পর্কিত