‘সর্বহারা’ পরিচয় দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক ও প্রকৌশলীসহ একাধিক ব্যক্তিকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে।
হুমকির শিকার ব্যক্তিরা হলেন- ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন, গণিত বিভাগের অধ্যাপক গৌর চন্দ্র পাল, সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস, নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক শাহরিয়ার হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব শাখার কম্পিউটার অপারেটর গৌতম লাহিড়ী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক আশুতোষ ব্যানার্জি, রাজশাহীর একজন প্রকৌশলী এবং চিকিৎসক আবুল হাসান।
এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে শিক্ষক শাহরিয়ার হোসেন মতিহার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
অধ্যাপক শাহরিয়ার হোসেন বলেন, “আমার কাছে দুইবার ফোন আসে। প্রথমবার ব্যস্ত থাকায় কথা বলতে পারিনি। প্রায় দুই ঘণ্টা পর তারা আবার ফোন দিলে দীর্ঘ সময় কথা হয়। একপর্যায়ে জেলে থাকা কর্মীদের জামিনের খরচের কথা বলে তারা আমার কাছে টাকা দাবি করে।”
এই অধ্যাপক বলেন,“পরবর্তীতে নিরাপত্তার স্বার্থে আমি মতিহার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি এবং বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে প্রক্টরকে জানাই। পরে পুলিশের সহায়তায় নম্বরটি ট্র্যাক করে জানা যায়, কলটি মাদারীপুর থেকে করা হয়েছিল। যে সিম নম্বর থেকে ফোন আসে, সেটি মুফতি রেজাউল করিম নামে এক ব্যক্তির পরিচয়ে নিবন্ধিত।”
অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আমাকে ফোন করে সর্বহারা পরিচয় দিলে আমি কথা না বাড়িয়ে সংযোগ কেটে দিই। পরে জানতে পারি, ক্যাম্পাসের আরও কয়েকজন শিক্ষকের কাছেও এমন কল এসেছে।”
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরজুন জানান, অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুর কবির জানান, একটি সাধারণ ডায়েরির সূত্র ধরে অন্য হুমকির ঘটনাগুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত হুমকিদাতাদের ব্যবহৃত চারটি মোবাইল নম্বর শনাক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নম্বরগুলো দিয়ে মাদারীপুর থেকে ফোন করা হয়েছিল।