দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম বলেছেন, বাংলাদেশে বারবার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটলেও পরবর্তীতে একটি টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। এই ব্যর্থতার পেছনে প্রধান কারণ হলো সর্বগ্রাসী অতি-রাজনীতিকরণ।
আজ রোববার পঞ্চম ‘বে অব বেঙ্গল কনভার্সেশনে’ দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহফুজ আনাম বলেন, ‘‘স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে পুরো জাতি ঐক্যবদ্ধ হলেও গণঅভ্যুত্থানের পরপরই সেই ঐক্য বিনষ্ট হয়ে যায় এবং তীব্র রাজনৈতিক বিভাজন দেখা দেয়।’’
দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক বলেন, ‘‘বাংলাদেশের মানুষের স্বৈরাচারী শাসন উপড়ে ফেলার এক ঈর্ষণীয় ক্ষমতা রয়েছে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম, ১৯৯১ সালের এরশাদবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এ দেশের মানুষ বারবার তা প্রমাণ করেছে। তবে ট্র্যাজেডি হলো, পতনের পর একটি কার্যকরী গণতন্ত্র ও টেকসই প্রতিষ্ঠান নির্মাণে বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দেওয়া হয়েছে। ১৯৯১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের পর আশা জাগলেও, পরবর্তীতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার বদলে দেশ সংঘাত ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জড়িয়ে পড়ে।’’
মাহফুজ আনাম বলেন, ‘‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনের মাধ্যমে কোনো দল ক্ষমতায় এলেও জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন শেষ পর্যন্ত জনস্বার্থের বদলে দলীয় স্বার্থে রূপ নেয়। এর ফলে পুরো শাসনব্যবস্থা বিজয়ী দলের একটি সম্প্রসারিত রূপে পরিণত হয়। সেখান থেকেই বিস্তার ঘটে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ক্রনিইজমের, যা একপর্যায়ে সামগ্রিক শাসনব্যবস্থাকে ধসিয়ে দেয়। দেশের মানুষের উদ্ভাবনী শক্তি ও সহনশীলতাকে কীভাবে জাতীয় উন্নয়নে রূপান্তর করতে হয়, তা না জানাই এই ধারাবাহিক ব্যর্থতার প্রধান কারণ।’’
এ সংকট থেকে উত্তরণের উপায় হিসেবে মাহফুজ আনাম আধুনিক প্রযুক্তি, আধুনিক শিক্ষা ও সুশাসনের মাধ্যমে দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের ওপর জোর দেন। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে আমলাতন্ত্র ও পুলিশ বাহিনীকে আরও দক্ষ ও ন্যায়সংগত করে তোলা সম্ভব বলেও মত দেন তিনি।