ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল বলেছেন, “রাজধানী ঢাকায় ৭ বা তার বেশি মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কার্যালয় নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সময়ে একাধিক স্থানে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে।”
বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবাজার ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভূমিকম্পের বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে মহাপরিচালক বলেন, “ভূমিকম্পের সময় কোথায় আশ্রয় নিতে হবে, লিফট ব্যবহার পরিহার করা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ, ফ্ল্যাশলাইট ও বাঁশিসহ জরুরি কিট বা সামগ্রী কাছে রাখার মতো সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে জানাতে নিয়মিত প্রচার-প্রচারণা চালানো প্রয়োজন।”
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে প্রবেশের আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “ধসে পড়া ভবনের কাঠামো ও পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে উদ্ধার অভিযান ভিন্ন ভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে।”
জাহেদ কামাল বলেন, “এ ধরনের ঘটনার প্রতিবেদন তৈরির সময় সাংবাদিকদেরও নিজেদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে হবে।”
তিনি বলেন, “বড় ধরনের ভূমিকম্পের মতো সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলার লক্ষ্যে দেশজুড়ে প্রায় ১০০টি স্টেশনকে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার আওতায় আনা হয়েছে। যদি ভয়াবহ কোনো ভূমিকম্প ঘটে, তবে এসব স্টেশন থেকে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম পাঠানো হবে।”
ফায়ার সার্ভিসের প্রধান বলেন, “প্রস্তুতিমূলক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে একটি 'ড্রাই এক্সারসাইজ' বা মহড়া পরিচালনা করা হয়েছে। প্রয়োজনে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ছোট আকারের উদ্ধার সরঞ্জাম ও অগ্নিনির্বাপকদের দুর্ঘটনাস্থলে পরিবহনের চেষ্টাও থাকবে।”