রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশাহকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দলটির আদাবর থানা বিএনপির বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক মনোয়ার হোসেন জীবন ওরফে লেদু হাসানের রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ রোববার বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালত এই আদেশ দেন।
এর আগে আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদাবর থানার উপপরিদর্শক হাফিজুর রহমান। আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারক আসামির রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান বলেন, “আজ সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আসামিকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এ সময় মামলার বাদীও উপস্থিত ছিলেন। পরে মামলার হলফনামা দিয়ে বাদী আদালতকে জানান, এই আসামি সেই আসামি নয়। পরে আদালত রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।”
গত ২৮ জুলাই রাতে মোহাম্মদপুরের মোহাম্মাদিয়া হাউজিং সোসাইটি এলাকা থেকে লেদুকে আটক করে র্যাব-২।
র্যাব জানায়, লেদু হাসানের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মোট ৩২টি মামলা রয়েছে। তিনি মোহাম্মদপুরের নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশা হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত আসামি। এই মামলায় গ্রেপ্তার অন্যদের আদালতে দেওয়া ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, লেদুই মূল হত্যাকারী পারভেজকে হত্যার জন্য অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২৯ জুন রাত দেড়টার দিকে ফুটবল বিশ্বকাপে ব্রাজিল জয়লাভ করে। ব্রাজিলের জয়ের পর নিরব উচ্চস্বরে বাঁশি বাজাতে থাকে। সেখানে হৃদরোগে আক্রান্ত হাবিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তি বাঁশি বাজাতে নিষেধ করেন। এরপর নিরব ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারতে আসে। স্থানীয় লোকজন তাকে নিবৃত করে। হাবিবুর রহমানের ভাগনে সাদ্দাম হোসেন বিষয়টি মীমাংসার জন্য মোহাম্মদপুর থানাধীন নবোদয় হাউজিংয়ে একটি সালিস ডাকেন। গত ৩০ জুন ১২টার দিকে তিন আসামি সাদ্দামের টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়ার জন্য পথরোধ করে। সে হাবিবুর রহমানের ভাগনে পরিচয় দিলে আসামিরা আরও ক্ষিপ্ত হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কপালে আঘাত করে। বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। এ নিয়ে হাসান মিয়া লেদু নবোদয় হাউজিংয়ের কাঁচাবাজার এলাকায় একটি দোকানে বসে সালিস ডাকে।
আরও বলা হয়, গত ১ জুলাই সন্ধ্যা ৭টার দিকে আসামিরাসহ স্থানীয় লোকজন দোকানে উপস্থিত হন। সেখান থেকে তারা কৌশলে বের হয়ে নবোদয় চার রাস্তার মোড়ে ওত পেতে থাকে। সালিশে সাদ্দাম হোসেন ও আবুল বাসার বাদশা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় লোকজন সবাই দোকান থেকে চলে যেতে বলেন অন্যান্যদের সঙ্গে সাদ্দাম ও বাদশাহও বের হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে চার রাস্তার মোড়ে আসামিরা সাদ্দাম ও বাদশাহ ওপর হামলা করে। সুইচ গিয়ার ও চাপাতি দিয়ে বাদশাহ ও সাদ্দামকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তাদের মধ্যে মো. আবুল বাসার বাদশার অবস্থার অবনতি হলে হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আর আহত সাদ্দাম শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ওই ঘটনায় তার স্ত্রী মোসা. স্মৃতি আক্তার আদাবর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এই হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।