রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব, মতভেদ ও আত্মপরিচয়ের দ্বন্দ্বের মধ্যে দেশের রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে ১৯৭১ সালের ভিত্তিতে জাতীয় সংহতি গড়ে তোলা এবং নতুন ধারার রাজনীতি নির্মাণের আহ্বান জানিয়েছেন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
আজ শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে ‘বাংলাদেশ ১৯৭১-২০২৬: কী হলো ভুল এবং কী করতে হবে?’ শীর্ষক রিপাবলিক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক জনরাষ্ট্র মঞ্চ ও বিডিআরপি উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিডিআরপির মুখ্য সম্পাদক মাসুদ রানা। তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার পেছনে আত্মপরিচয়ের দ্বন্দ্ব এবং রাষ্ট্রের সঙ্গে রাজনীতির দ্বন্দ্বকে দায়ী করে ১৯৭১ সালের বিপ্লবে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রের সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ১৯৭২ সালের সংবিধানের চার মূলনীতির ভিত্তিতে কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কথা বলেন।
রাজনৈতিক বিভাজন কাটিয়ে ১৯৭১ সালের ভিত্তিতে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে মাসুদ রানা বলেন, “আমরা মনে করি ১৯৭১ এর মতো সমগ্র জাতিকে একটি কনসেনসাসে আসতে হবে। অর্থাৎ, আমাদের যেতে হবে একটি জাতীয় সংহতির দিকে, এ সংহতির বটমলাইন হতে হবে ১৯৭১: মোটেও ১৯৪৭ নয়।”
সাবেক সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্রের কথা বলে। কিন্তু নিজেদের দলের ভেতরেই গণতন্ত্র নেই। ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে অনেকেই সুযোগ নিতে চেয়েছে। ইনক্লুসিভনেসের কথা বলে ক্রমেই মানুষকে রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থেকে এক্সক্লুড করা হয়েছে। অথচ গণতন্ত্র মানেই সবাইকে নিয়ে।”
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)র সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, “বাংলাদেশের ৫৫ বছরে যারা দেশ শাসন করেছে, তারা ছিল লুটেরা ধনিক শ্রেণির পাহারাদার। বামপন্থীরা ৫৫ বছরে অনেক ভুল করেছে। সেই ভুল থেকে অনেক শিক্ষা নিয়ে দ্বি-দলীয় বৃত্তের বাইরে থেকে বেরিয়ে নতুন ধারার রাজনীতি ও রাষ্ট্র গঠন করতে চাই। এখন সময় এসেছে রাষ্ট্র কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করার। বামপন্থীদের নির্ভরশীলতার রাজনীতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে সাম্যভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, “বাংলাদেশের মুক্তির সংগ্রাম শুধু ৯ মাসের লড়াই নয়, বরং ২০০ বছরের সংগ্রামের ধারাবাহিকতা। আওয়ামী লীগ ১৫-১৬ বছর ধরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিক্রি করে তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে বীতশ্রদ্ধ করে তুলেছে। অন্যদিকে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসেছে ঠিকই, কিন্তু তাদেরও ভিন্নমত শোনার অবস্থায় নেই। রাজনৈতিক সহনশীলতা ও আলোচনার জায়গা কমে আসছে।”