ফরিদপুর শহরতলীর বায়তুল আমানের রহমত মোল্যারডাঙ্গী এলাকায় নিজ বাড়িতে খুন হয়েছেন সামেলা বেগম (৬০) নামের এক নারী। আজ বৃহস্পতিবার দুপরে এ ঘটনা ঘটে।
কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত দত্ত বার্তা সংস্থা ইউএনবিকে এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। খবর পেয়ে বিকেল ৫টারদিকে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, এটি রাহিমের প্রথ মহত্যাকাণ্ড নয়। ২০১৬ সালে (প্রায় ১০ বছর আগে) নিজের সৎ মাকেও একই ভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছিলেন তিনি। ওই মামলায় প্রায় ৬ বছর কারাভোগের পর তার বাবা তাকে জামিনে মুক্ত করে আনেন।
স্থানীয়রা জানান, নিহত সামেলা বেগমের দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। অভিযুক্ত ছোট ছেলে রাহিম শেখ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও মানসিক বিকারগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন। তিনি প্রায়শই তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মায়েরসঙ্গে বিবাদে জড়াতেন । কিছুদিন আগে তিনি তার মাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে বলেও অভিযোগ করেন প্রতিবেশিরা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বাইরে থাকার সুযোগে রাহিম তাঁর মায়ের ওপর হামলা চালান। ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথার বিভিন্নস্থানে এলোপাতাড়ি কোপানোর ফলে ঘটনা স্থলেই মারা যান সামেলা বেগম। পরে রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে নিহতের মেয়ে কাকলি আক্তার বলেন, ‘‘সকালে ঘুম থেকে উঠে মায়ের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে আমি কাজের উদ্দেশে বের হই। আমার ভাই মানসিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় তাকে আলাদা ঘরে রাখা হতো। আমি যখন বের হই, তখন সে ঘুমিয়ে ছিল। দুপুরে মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে দ্রুত বাড়িতে ছুটে আসি।’’
হত্যাকাণ্ডের স্থান পরিদর্শন শেষে কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত দত্ত জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে—ছেলেটি ধারালো অস্ত্র ও কোনো ভারীবস্তু দিয়ে উপুর্যপুরি আঘাত করে তার মাকে হত্যা করে পালিয়ে গেছে। অভিযুক্ত রাহিমের ঘর থেকে ইয়াবা সেবনের নানা সরঞ্জাম আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, অভিযুক্ত যুবক প্রায় ১০ বছর আগে তার সৎ মাকেও হত্যা করেছিল এবং সে জন্য ৬ বছর জেলে ছিল। পরবর্তীতে জামিনে বেরিয়ে আসে। পরিবার ও স্বজনদের দাবি অনুযায়ী সে মানসিকভাবে অসুস্থ এবং তীব্র মাদকাসক্ত ছিল। তাকে গ্রেপ্তারে ইতোমধ্যে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে।