ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রী হলগুলোতে বৈষম্যমূলক ‘সান্ধ্য আইন’ বাতিল এবং ২৪ ঘণ্টা মুক্ত যাতায়াতের ব্যবস্থার দাবিতে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘অবরোধবাসিনী’ নামের একটি নতুন নারী শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম। দাবি আদায়ে প্ল্যাটফর্মটির উদ্যোগে ইতোমধ্যে সাধারণ নারী শিক্ষার্থীদের গণস্বাক্ষর ও অভিজ্ঞতার গল্প সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তাদের উত্থাপিত প্রধান তিনটি দাবি হলো— ছাত্রী হলের বৈষম্যমূলক সান্ধ্য আইন বাতিল করে ২৪ ঘণ্টা নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা, বৈাধ আইডি কার্ড দেখিয়ে যেকোনো হলে প্রবেশ ও অনুমতি সাপেক্ষে রাত্রিযাপনের সুযোগ দেওয়া এবং হলে মা ও বোনসহ নারী স্বজনদের প্রবেশের অনুমতি প্রদান করা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে প্ল্যাটফর্মটি জানায়, মুক্ত জ্ঞানচর্চার প্রতিশ্রুতি থাকলেও ঢাবিতে নারী শিক্ষার্থীরা কাঠামোগত বৈষম্যের শিকার। বর্তমানে প্রায় ৫৭ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধাবঞ্চিত। নিয়মিত ফি দেওয়া সত্ত্বেও অনাবাসিক ছাত্রীদের নিজ হলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। এমনকি ঢাবি সংলগ্ন বুয়েট, ঢামেক কিংবা জাহাঙ্গীরনগর ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী স্বজন বা বান্ধবীদের হলে ঢোকার সুযোগ থাকলেও ঢাবিতে তা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নিরাপত্তার অজুহাতে রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কার্যকর থাকা এই ঔপনিবেশিক প্রথা মূলত নারীদের হয়রানির কারণ। জরুরি চিকিৎসা বা দূরপাল্লার সফর শেষে রাতে হলে ফিরতে গিয়ে ছাত্রীদের প্রশাসনিক হেনস্তায় পড়তে হয়। সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা সুসংহত না করে নারীর বিচরণ সংকুচিত করা প্রশাসনিক ব্যর্থতারই নামান্তর।
সংগঠকদের মতে, এই দ্বৈতনীতির কারণে নারী শিক্ষার্থীদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নারী শিক্ষার এই প্রতিবন্ধকতা দূর করে ঢাবি ক্যাম্পাসে বৈষম্যহীন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
অবরোধবাসিনী প্লাটফর্মটির সংগঠক ইসরাত জাহান ইমু চরচাকে বলেন, “আমাদের তিনটি দাবি যা আমাদের লিফলেটে পোস্টে পরিষ্কার উল্লেখ আছে। নিরাপত্তার অজুহাতে নারীদের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসর সংকোচনের দ্বৈত নীতির বিরুদ্ধে এই তিন দাবিতে আমরা মেয়েদের গণস্বাক্ষর ও গল্প সংগ্রহ করছি। পাঁচটা হলের সামনে আজ (বৃহস্পতিবার) রাতে গ্রাফিতি আঁকা হবে।”