পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিলেটের কানাইঘাটে যাচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। এর আগে সিলেটের গোলাপগঞ্জে সফরকালে ‘৫ মাইল’ এলাকাসহ দুটি স্থানে তারা সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এনসিপির নেতাকর্মীদের দাবি, স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদলের যোগসাজশে এই হামলা চালানো হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার আগে সিলেট সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। এরপর সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় দলটির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় কানাইঘাটের উদ্দেশে সিলেট সার্কিট হাউজ ত্যাগ করেন তারা।এর আগে সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘‘আমরা আগেই বলেছি, আমরা রাজপথে থাকব। ভয় দেখিয়ে, গাড়িতে হামলা করে বা গায়ে হাত তুলে তারেক রহমান আমাদেরকে প্রতিহত করতে পারবেন না। আমরা রাজপথেই থাকব, রাজপথেই প্রোগ্রাম করব। যদি মেরে ফেলে, তবে রাজপথেই মরব। কোনো সমস্যা নেই, ইনশাআল্লাহ আমাদের লড়াই চলবে। এবার দেখা যাবে, বাংলাদেশে পেশিশক্তি শক্তিশালী নাকি গণতন্ত্রের হাত শক্তিশালী। ইনশাআল্লাহ, আমরা বাংলাদেশে ইনসাফ কায়েম করব।’’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ‘‘গোলাপগঞ্জে যখন হামলায় আমাদের গাড়ির তিনটি গ্লাস ভেঙে যায়, তখন আমরা তিনজন এবং মিডিয়া কর্মীরা ভেতরে ছিলাম। ভাঙা গ্লাস এসে তাদের পিঠে লাগে এবং তারা রক্তাক্ত হন। আঘাতটা পিঠে না লেগে মাথায় লাগলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু (স্পট ডেথ) হতে পারত। হবিগঞ্জ থেকে শুরু করে আজ তিন দিন হলো, আমাদের একজনের চোখ গেছে এবং অন্তত বিশজন রক্তাক্ত হয়েছেন।’’
নিজের হাতের আঘাত দেখিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘‘আমাদের হাতের আঘাতের দাগ এখনো শুকায়নি। অথচ এখন পর্যন্ত একজনও গ্রেপ্তার হয়নি। হামলাকারীরা ছাত্রদলের টি-শার্ট পরে এই হামলা চালিয়েছে। তার মানে, তারেক রহমান এবং বিএনপির মদদেই এসব হচ্ছে। এমনকি প্রশাসনের সহযোগিতায় এই হামলা হচ্ছে।’’
এ সময় গোলাপগঞ্জের হামলার বিস্তারিত অভিযোগ তুলে ধরে সাংবাদিকদের কাছে বক্তব্য দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতুসহ সিলেটের স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।
এদিকে, এনসিপির নেতাদের সফর ঘিরে সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। সার্কিট হাউজ থেকে তাদের কানাইঘাট যাত্রার পথে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।