চাঁদা দাবি, হুমকি, মারধর এবং দোকানের মালামাল লুটসহ বিভিন্ন অভিযোগে চট্টগ্রামের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেছেন এক প্রবাসী।
আজ সোমবার চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা আক্তারের আদালতে অভিযোগটি করেন আমির হোসেন নামের এক মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী মোহাম্মদ আরমানকে। অন্য আসামিরা হলেন, তার ভাই আরিফ উদ্দিন, শওকত আলী, মোহাম্মদ আদিল, মো. আনোয়ার ও জয়নাল আবেদীন। এর সাথে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বাদিপক্ষের আইনজীবী আদনান কবির জিলান চরচাকে বলেন, “বিচারক অভিযোগ আমলে নিয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের এএসপিকে ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন।”
মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, লোহগাড়া উপজেলার আজিজ কমপ্লেক্স এলাকায় প্রবাসী আমির হোসেনের একটি চারতলা ভবন আছে। এর নিচতলায় একটি দোকান ভাড়া দেয়ার পর বাকি অংশ ঘর ভাড়া দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কিছুদিন আগে আরমান ও তার ভাই আরিফ ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে জানা এলাকায় বসবাস করতে গেলে চাঁদা দিতে হবে।
আসামিরা তার কাছ থেকে মোবাইল ফোনে চাঁদা দেয়ার জন্য বারবার চাপ দিচ্ছিল। দেশে ফিরে আসামিদের সাথে কথা বলবে জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। চাঁদা না দিলে আসামি আরিফ ঘর দখল করে নিবে বলেও হুমকি দেয়। চলতি বছরের ৩ এপ্রিল আরমান আবার মোবাইল ফোনে বাদির কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করলে দিতে অস্বীকার করেন।
পরে সেদিন রাতে আসামিরা আমির হোসেনর মালিকানাধীন ওই ভবনে ভাড়া দেওয়া আলমারির দোকানের তালা ভেঙে ২৫টি আলমারি, আলমারি তৈরির সিট, দোকানের আসবাবপত্র এবং দোকানে থাকা নগদ সাড়ে ১১ লাখ টাকা নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন।
মামলার বাদি আমির হোসেন চরচাকে বলেন, “আসামিরা ওই দোকানে সেদিন রাতে তালা লাগিয়ে দেয় এবং ভবনটির অন্য ভাড়াটিয়াদের বলে যায়, পরবর্তীতে বাসা ভাড়ার টাকা যেন তাদের কাছে দেয়। এ ঘটনার পর আমি দেশে ফিরে থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি।”
মামলায় অভিযোগ করা হয়, সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার সকালে আসামিরা বাদির কাছ থেকে পুনরায় ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় সেদিন আসামিরা তাকে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করে।
এ বিষয়ে মামলার প্রধান আসামি মো. আরমানের বক্তব্য জানা যায়নি।