যুক্তরাষ্ট্রে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত খালিদ শেখ মোহাম্মদ এবং আরও তিন অভিযুক্তের বিচার ২০২৮ সালের জুনে সামরিক ট্রাইব্যুনালে শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর একজন বিচারক।
বিমানবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাইকেল শ্রামা বুধবার বিচার শুরুর সময়সূচি নির্ধারণ করে আদেশ জারি করেন। কিউবার গুয়ানতানামো বে-তে আটক এই চার অভিযুক্তকে ঘিরে দুই দশকের আইনি অচলাবস্থায় জর্জরিত সামরিক বিচারপ্রক্রিয়ায় এটি সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আপিল আদালত খালিদ শেখ মোহাম্মদ এবং অপর দুই অভিযুক্তকে দোষ স্বীকার করার সুযোগ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ওই সমঝোতার আওতায় তারা দোষ স্বীকার করলে মৃত্যুদণ্ড এড়াতে পারতেন।
আপিল আদালতের ওই সিদ্ধান্তে সামরিক বিচারক এবং ইউএস কোর্ট অব মিলিটারি কমিশন রিভিউয়ের দোষ স্বীকারের চুক্তির পক্ষে দেওয়া সিদ্ধান্ত বাতিল হয়ে যায়।
গত বছর এই সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল এবং পেন্টাগনের গুয়ানতানামো যুদ্ধ আদালতের তত্ত্বাবধানকারী কর্মকর্তা সেটি গ্রহণও করেছিলেন। কিন্তু চুক্তিটি নিয়ে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের সমালোচনার মুখে তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন গত বছরের আগস্টে তা বাতিল করেন।
শ্রামার ১১ পৃষ্ঠার আদেশ অনুযায়ী, খালিদ শেখ মোহাম্মদ ও অপর তিন অভিযুক্ত—ওয়ালিদ মুহাম্মদ সালিহ মুবারক বিন আতাশ, মুস্তাফা আহমেদ আদম আল-হাওসাওয়ি এবং আলি আবদুল আজিজ আলি ২০২৮ সালের ৫ জুন থেকে বিচারের মুখোমুখি হবেন।
বিচারের শুরুতে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে একটি প্যানেল গঠন করা হবে। তারাই সামরিক বিচারব্যবস্থার নিয়ম অনুযায়ী মামলাটির জুরি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
প্যানেল গঠনের ৩০ দিন পর উদ্বোধনী বক্তব্য শুরু হবে। এরপর প্রসিকিউশন বা রাষ্ট্রপক্ষ তাদের প্রমাণ উপস্থাপন করবে। রাষ্ট্রপক্ষের প্রমাণ উপস্থাপন শেষ হলে অভিযুক্তরা খালাসের আবেদন জানিয়ে আদালতে মোশন দাখিল করতে পারবেন।
আদেশে উভয় পক্ষকে এসব আবেদনের পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন এবং একে অপরের বক্তব্যের জবাব দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রসিকিউটরদের তাদের মামলা পুনরায় উপস্থাপনের সুযোগও থাকবে।
রাষ্ট্রপক্ষের মামলা শেষ হওয়ার ৬০ দিন পর প্রতিরক্ষা পক্ষ তাদের মূল প্রমাণ উপস্থাপন শুরু করবে।
বিচারের শেষ ধাপে অভিযুক্তদের সাজা নির্ধারণের প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হবে।
প্রসিকিউটরেরা ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে বিচার শুরু করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে শ্রামা তা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এতে “বিচারের আগে প্রমাণসংক্রান্ত এবং অন্য আইনগত আবেদন নিষ্পত্তির” জন্য পর্যাপ্ত সময় থাকবে না।
গুয়ানতানামো বন্দিশালায় আটক ব্যক্তিদের মধ্যে খালিদ শেখ মোহাম্মদই সবচেয়ে পরিচিত। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর বিদেশি জঙ্গি সন্দেহভাজনদের আটক রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ২০০২ সালে এই বন্দিশালা প্রতিষ্ঠা করেন।
খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক শহরের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এবং পেন্টাগনে ছিনতাই করা যাত্রীবাহী বিমান আছড়ে ফেলার ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের অভিযোগ রয়েছে।
২০০১ সালের ৯/১১ হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হয়।