দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ছয় মাসে অপরাধের বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “তথ্যের উৎস ও ভিত্তি ছাড়া সংসদে এ ধরনের পরিসংখ্যান দেওয়া সমীচীন নয়।” সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংঘটিত ‘হেনিয়াস ক্রাইমে’ দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে হাসনাতের বক্তব্যের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জবাব দিতে গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দুজনের মধ্যে বাদানুবাদ হয়।
হাসনাত বলেন, “সরকার গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়ার আগের ছয় মাসে হত্যার মাসিক গড় ছিল ২৬০ জন, যা বর্তমানে ৩১ জন।”
তার দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগের ছয় মাসে খুন হয়েছিল এক হাজার ৭৮০ জন। আর সরকারের প্রথম ছয় মাসে খুন হয়েছে এক হাজার ৭৮৯ জন।
নারী ও শিশু নির্যাতন, পুলিশের ওপর হামলা এবং গণপিটুনিতে হত্যার পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন তিনি।
হাসনাত বলেন, “নারী ও শিশু নির্যাতন পূর্বের ছয় মাসে ছিল এক হাজার ৯০ জন। এটি এই ছয় মাসে হয়েছে ১১ হাজার ১৬৫ জন। পুলিশের উপরে হামলা হয়েছে ২৭৫টি, যেটি এই সরকারের প্রথম ছয় মাসে হয়েছে ৩১৭টি।”
গণপিটুনিতে হত্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “২০২৫ সালের পুরো বছরে ১৬৬ জনকে হত্যা করা হলেও সরকারের ছয় মাসে এ সংখ্যা ১২০ জনে পৌঁছেছে।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনসার্ট ও নৌকাবাইচ বন্ধের প্রসঙ্গ টেনে হাসনাত বলেন, “জেলার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও বন্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।”
তিনি বলেন, “আজকে আপনার মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন, এই ছয় মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ল এন্ড অর্ডার সিচুয়েশন রিস্টোর করতে পেরেছেন কি না? আইনের শাসন সেটি প্রতিষ্ঠিত করতে তিনি পর্যাপ্ত ভূমিকা রাখতে পেরেছে কি না, নাকি তিনি ব্যর্থতায় পরিবেষ্টিত হয়েছেন।”
জবাবে সালাহউদ্দিন বলেন, “এটা প্রশ্ন হলো নাকি পল্টনের বক্তৃতা হলো বুঝতে পারিনি।”
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সফল হয়েছেন কিনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিনেমা হল কেন নেই- এসবকে আলাদা প্রশ্ন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
হাসনাতের দেওয়া তথ্যের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “কোন খাতে কত হত্যা হয়েছে, জখম হয়েছে ইত্যাদি যে ডেটা দিলেন, সেই ডেটাটা কিসের ভিত্তিতে দিলেন, কী পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দিলেন, সে স্ট্যাটিস্টিক্সটা কী, আমি জানি না।”
বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর সংঘটিত সব ‘হেনিয়াস ক্রাইমে’ ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এবং ক্ষেত্র বিশেষে সাত ঘণ্টার মধ্যেই অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেন সালাহউদ্দিন।
তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে কি হয় নাই, সেটা তো দৃশ্যমান।”
সাম্প্রতিক বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের উদাহরণ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “রামিসা থেকে শুরু করে রংপুরের ইদানিং চারটা যে হত্যা হলো, সেই পর্যন্ত সমস্ত কিছু দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই পুলিশ বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং আইনের আওতায় নিয়ে এসেছে।”
তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতার অভিযোগ থাকলে তা সংসদে নির্দিষ্টভাবে উত্থাপনের আহ্বান জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন বলেন, “স্পেসিফিক্যালি ঢালাওভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যর্থ হয়েছে বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যর্থ হয়েছে বা এই সরকারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয় নাই- এগুলো পল্টনের বক্তব্য চলে। এটা সংসদ, সংসদে তথ্যভিত্তিক কথা বলতে হবে।”