বাংলাদেশে গ্রামীণ নারীদের ভূমির অধিকার থেকে বঞ্চিত করা, প্রশাসনিক জটিলতা ও পিতৃতান্ত্রিক সামাজিক কাঠামোর কারণে ভূমিকেন্দ্রিক বহুমাত্রিক সহিংসতা দিন দিন চরম আকার ধারণ করছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (এএলআরডি) উদ্যোগে “গ্রামীণ বাংলাদেশে ভূমির অধিকার ও নারীর প্রতি সহিংসতা” শীর্ষক এক সেমিনারে এ তথ্য উঠে আসে।
বক্তারা বলেন, কেবল আইনি প্রতিকার নয়, খাসজমি বন্দোবস্ত পুনরায় চালু করা, কৃষাণীদের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান এবং সার্বিক সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই এ পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
এএলআরডির উদ্যোগে দেশের চারটি ভিন্ন ভৌগোলিক ও পরিবেশগত অঞ্চলের (হাওর, পার্বত্য এলাকা, চরাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকা) ওপর পরিচালিত এই গবেষণার তথ্য নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (সিআরডি) গবেষণা সমন্বয়কারী মোহাম্মদ ওমর ফারুক।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পুরুষতান্ত্রিক ভূমি ব্যবস্থা ও পরচা/রেকর্ডে পুরুষের একক আধিপত্যের কারণে নারীরা ক্রমান্বয়ে ভূ-সম্পত্তি ও নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
গবেষণায় উঠে আসে, দেশের ৭২ শতাংশ নারী ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ বা সহিংসতার শিকার হন। এছাড়া, ৫৬ শতাংশ নারী সরাসরি শারীরিক, মানসিক বা অর্থনৈতিক নির্যাতনের শিকার হন; যাদের মধ্যে ৮৯ শতাংশ চরম মানসিক নিপীড়ন, ৭৮ শতাংশ অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং ৩০ শতাংশ শারীরিক নিরাপত্তার হুমকির সম্মুখীন হন।
ভুক্তভোগী নারীদের মধ্যে মাত্র ২০ শতাংশ আদালতে মামলা করতে সক্ষম হন; বাকি ৮০ শতাংশ ব্যয় ও আইনি জটিলতার অনিশ্চয়তায় কোনো বিচারই পান না।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের মূল আদর্শই ছিল সমতা, সাম্য ও মানবিক মর্যাদা এবং সরকার দারিদ্র্য ও বৈষম্য নিরসনে সর্বজনীন জীবন চক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষার দিকে এগোচ্ছে। ভূমি মালিকানার সাথে দলিল, দাখিলা ও দখল যুক্ত। এই বিষয়গুলো আরও সহজে চিহ্নিত করতে পারলে সমস্যার সমাধান সম্ভব।”
এএলআরডির চেয়ারম্যান ও ‘নিজেরা করি’ সমন্বয়কারী খুশী কবিরের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন চাকমা সার্কেল চিফের উপদেষ্টা রানী য়েন য়েন, চরচা সম্পাদক সোহরাব হাসান, নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য নিরূপা দেওয়ান, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, নারীপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শিরিন পারভীন হক, রাঙামাটির নারী হেডম্যান-কারবারী নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক শান্তনা খীসা।
সেমিনারে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভূমিহীন ও আদিবাসী নারী নেত্রীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।