উত্তর কোরিয়া আজ বৃহস্পতিবার ১০টিরও বেশি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যৌথ সামরিক মহড়ার মধ্যে দেশটির সামরিক বাহিনীকে পূর্ণ প্রস্তুতি বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
উত্তর কোরিয়া পিয়ংইয়ং এলাকা থেকে কোরীয় উপদ্বীপের পূর্বদিকে সাগরের দিকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিক্ষেপ করার পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সামরিক কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা অংশ নেন বলে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘনকারী একটি গুরুতর কর্মকাণ্ড।” এতে উত্তর কোরিয়াকে অবিলম্বে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, কর্মকর্তারা দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেছেন, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের নিরাপত্তাগত প্রভাব মূল্যায়ন করেছেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রায় ৩০০ কিলোমিটার (১৮৬ মাইল) দূরত্ব অতিক্রম করে সাগরের দিকে যায়।
জাপান সরকার ও কোস্টগার্ডও জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া সাগরের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাপানের কোস্টগার্ড জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি ইতিমধ্যে সাগরে পড়ে গেছে।
জাপানের সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপানের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে সাগরে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহড়া শুক্রবার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশ দেওয়ার পর মহড়াটি নির্ধারিত সময়ের আগেই সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরু করতে চান বলেও জানিয়েছেন।
কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং বুধবার বলেন, মহড়া চলমান থাকা অবস্থায়ও উত্তর কোরিয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের “শত্রুতাপূর্ণ নীতি” বদলায়নি।
সিউলের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ কোরিয়ান স্টাডিজের অধ্যাপক ইয়াং মু-জিন বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের মাধ্যমে সম্ভবত বোঝানো হয়েছে যে আগের দিন কিম ইয়ো জংয়ের সতর্কবার্তা “নিছক কথার কথা ছিল না”।ইয়াং বলেন, “এটি এমন একটি বার্তা যে উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো কীভাবে পরিচালিত হবে, তা উত্তর কোরিয়াই সিদ্ধান্ত নেবে।”