বাংলাদেশের ক্রিকেটের একজন সত্যিকারের শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে পরিচিত হার্শা ভোগলে। ধারাভাষ্যকার হিসেবে কাজের সুবাদে কাছ থেকে দেখেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। তিনি সাক্ষী এমন কিছু ম্যাচের, যেখানে জেতার অবস্থান থেকেও হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইতিহাস গড়া টেস্ট জয়ে ভোগলের মনে ধরেছে বাংলাদেশ দলের অদম্য মানসিকতা।
২০০৬ সালে ফতুল্লা টেস্টের কথা আলাদা করেই স্মরণ করেছেন হার্শা। যে ম্যাচে জয়ের অবস্থানে থেকেও শেষ পর্যন্ত হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। ফতুল্লা টেস্টে অন্যতম টেলিভিশন ধারাভাষ্যকার ছিলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ ১৫৮ রানের লিড নিয়েছিল সে টেস্টে। ডারউইনে অবশ্য ব্যাটে-বলে চার দিন প্রাধান্য দেখিয়েই জিতেছে সফরকারীরা। ৯ উইকেটের জয় তারই সাক্ষ্য দেয়।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে বাংলাদেশের প্রশংসা করে হার্শা বলেছেন, “আমি ফিরে যাচ্ছিলাম ম্যাচ শুরুর কয়েকদিন আগে, যেখানে বলা হচ্ছিল এই ম্যাচটা তিন দিনে যাবে, নাকি চারদিনেই শেষ হয়ে যাবে। বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা বলছিল তারা পাঁচদিন পর্যন্ত ম্যাচটা টেনে নিতে চায়। সেখান থেকে তারা যেটা করেছে সেটা অবিশ্বাস্য। কয়েকটি কারণেই আমি বাংলাদেশের এই পারফরম্যান্স দেখে উচ্ছ্বসিত।”
এরপর তিনি টেনে আনেন ২০ বছর আগে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার ফতুল্লা টেস্টের কথা, যেখানে ৩ উইকেটে জিতেছিল রিকি পন্টিংয়ের দল, “আমি তাদের এমন পরিস্থিতিতে আগেও দেখেছি, আমি মাঠে থেকেও সাক্ষী হয়েছি এমন কিছু ম্যাচের, যেখানে তারা জয়ের অবস্থানে ছিল। ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তারা জেতার অবস্থায় চলে গিয়েছিল। কিন্তু প্রায় অসম্ভব সমীকরণ থেকে বেরিয়ে এসে অস্ট্রেলিয়া ম্যাচটা জিতে যায়।”
সেই ম্যাচ আর এই ম্যাচের তফাৎ হল, সেবার বড় লিড নিয়েও দ্বিতীয় ইনিংসে খেই হারালেও এবার আর সেটা হয়নি। বরং ২২৮ রানের লিড নিয়েও দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে চেপে ধরে মাত্র ৫৭ রানের টার্গেট তাড়া করে জিতেছে।
হার্শার কাছে বাংলাদেশের এই বদলে যাওয়া মানসিকতা ইতিবাচক লেগেছে, “অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর তাদের প্রতিক্রিয়া কেমন হয়, সেটা দেখার জন্য উদগ্রীব ছিলাম। এরপর তরুণ তানজিদ হাসানের ব্যাটিং দেখে আমি খুব খুশি হয়েছি। তার ব্যাপারে আমরা আগেই শুনেছি। সাদা বলের ক্রিকেটে সে খুব ভালো, কিন্তু টেস্টে সে যে টেম্পারম্যান্ট দেখিয়েছে, দুর্দান্ত। আমার কাছে মনে হয় মুমিনুল হকের সঙ্গে তার জুটিটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ সেটা অস্ট্রেলিয়াকে একটা বার্তা দিয়েছিল যে, তোমরা ১৯৮ রান করার মানে এই না যে আমরা ১২০ রানেই শেষ হয়ে যাব। এরপর শান্ত, মিরাজ আর টেলএন্ডাররা মিলে যে লিড এনে দেয়, সেখান থেকে অস্ট্রেলিয়ার আর ফেরার সুযোগ ছিল না।”
বাংলাদেশের কাছ থেকে এমন আরও পারফরম্যান্স দেখার আশা ভোগলের, “বাংলাদেশ দলটা খুব আবেগি, ঠিক তাদের দেশের মানুষের মত। তাই আমি আশা করি তারা এই জয়টা উদযাপন করবে, কিন্তু এই জয়কেই সর্বোচ্চ অর্জন যেন না মনে করে। তারা যেন পরের ম্যাচে সব ভুলে আবার মাঠে নামে আর এই জয়কে এমন একটা প্রেরণা হিসেবে ব্যবহার করে, যা তাদের আরও উচ্চতায় নিয়ে যাবে।”