Advertisement Banner

ঢাকাকে ‘ক্লিন-গ্রিন সিটি’ বানাতে ১২ দফা পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
ঢাকাকে ‘ক্লিন-গ্রিন সিটি’ বানাতে ১২ দফা পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর
জাতীয় সংসদে তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

রাজধানীকে ‘ক্লিন-গ্রিন সিটি’ বানাতে ১২ দফা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। আজ বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ তথ্য জানান।

তারেক রহমান বলেন, “রাজধানী ঢাকাকে ‘ক্লিন এবং গ্রিন’ সিটি রূপে গড়ে তুলতে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে নানাবিধ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নাগরিক সচেতনতা ও সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের পাশাপাশি বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনসমূহ (বর্জ্য ফেলার স্থান) আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ল্যান্ডস্কেপিং, সবুজায়ন সচেতনতামূলক গ্রাফিতি কাজ অন্তর্ভুক্ত করে পরিবেশসম্মতভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্তৃক কোরিয়া ভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে সমন্বিত সার্কুলার ইকোনমি ভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তর করার মাধ্যমে সকল বর্জ্যকে ‘জিরো’ বর্জ্যতে রূপান্তর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করি, এ সকল কার্যক্রম ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা শহর গড়ে তোলা সম্ভব হবে।”

‘ক্লিন এবং গ্রিন সিটি’ করতে যেসব উদ্যোগ ও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, সবুজায়নের উদ্যোগ হিসেবে রাস্তার মিডিয়ান, উন্মুক্ত স্থান ও সড়ক দ্বীপে বৃক্ষরোপণ চলছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় পাঁচ বছরে পাঁচ লাখ গাছ লাগানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মেট্রোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের খালি জায়গাগুলোতেও গাছ লাগানো হবে।

এ ছাড়া বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে আধুনিক বাস সার্ভিস ও ২৫০টি ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন ও নির্মাণকাজের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে। ঢাকার সাভার উপজেলাকে ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষণা করা হয়েছে এবং অবৈধ ইটভাটা বন্ধেও কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

উদ্যোগের মধ্যে আরও রয়েছে, নদী ও জলাশয় দূষণ রোধে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং ২৪৮টি প্রতিষ্ঠানে ইটিপি স্থাপন করা হয়েছে। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালুসহ নদীগুলোর দূষণের উৎস চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগরে প্রবাহিত ১৯টি খালের দূষণের উৎস এবং প্রকৃতি নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বন অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থার যৌথ উদ্যোগে বিভিন্ন প্রজাতির ৪১ হাজার ৫ শত ৬৫টি ফলদ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়েছে।

সম্পর্কিত