প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সাময়িকভাবে কিছুটা কমলেও পরিস্থিতি এখনও অস্থিতিশীল। অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করেই সরকার জ্বালানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সাময়িকভাবে কিছুটা কমলেও সামনে আবার দাম বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। দুই-তিন দিনে কিছু টাকা সামান্য দুই-তিন পার্সেন্ট কমেছে। এখনও ১০০ ডলারের বেশি ক্রুড অয়েলের দাম আছে। কিছুটা কমেছে। কিন্তু এটা আসলে সাসটেইন করার সম্ভাবনা নেই।”
তিনি বলেন, “জ্বালানির দাম বাড়ানোর কারণে মানুষের কষ্ট হচ্ছে এবং হবে। আমরা আগেও যখন অয়েল নিয়ে কথা বলছি, এটা কোথায় হচ্ছে না? তবে সরকারকে একই সঙ্গে জ্বালানিতে ভর্তুকি, সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য করতে হচ্ছে। সব খাতে একসঙ্গে বিপুল অর্থ ব্যয় করা সম্ভব নয়। এ কারণে সরকারকে বিভিন্ন খাতের মধ্যে ভারসাম্য করতে হচ্ছে।”
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “একটা সরকারের খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ সরকার মনে করে ওয়েলফেয়ার (উন্নয়ন) খাতে ব্যয়, সেটা সোশ্যাল সেফটির (সামাজিক নিরাপত্তা) কথা আমরা বললাম। একই সঙ্গে আমরা স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় ব্যয় করতে চাই। তো সব যদি একসঙ্গে করার চেষ্টা করা হয় আসলে কঠিন হয়ে যায়। তো সরকারকে কিছু ব্যালেন্স করতে হয়েছে।”
তিনি বলেন, “চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির পরিকল্পনা থাকলেও আড়াই মাসেই এর প্রায় অর্ধেক দেওয়া হয়েছে। আপনি যদি এই গতিতে ভর্তুকি গ্যাস-বিদ্যুতে দেন, তাহলে বছর শেষে এটা সোয়া ১ লাখ কোটি টাকা থেকে দেড় লাখ কোটি টাকা দাঁড়াবে।”
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে পরিবহন খরচ বাড়বে। যৌক্তিক পরিমাণে পরিবহন ভাড়া সমন্বয় নিশ্চিতের চেষ্টা করবে সরকার।”
তিনি বলেন, “দেশে কনডেনসেট থেকে পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন হলেও তা দেশের মোট চাহিদা পূরণ করতে পারে না। ফলে আমদানি করা ক্রুড অয়েল থেকেও পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন করতে হয়। আমাদের বিরাট একটা অংশ পেট্রোল ও অকটেন আমদানিকৃত ক্রুডের ওপর ডিপেন্ড (নির্ভর) করে, সুতরাং ওখানে তো দাম বাড়ছেই।”
তার ভাষ্য, পেট্রোল ও অকটেনের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি দাম রাখার নীতিগত কারণও রয়েছে। কারণ এসব জ্বালানি তুলনামূলকভাবে সামর্থ্যবান মানুষ বেশি ব্যবহার করেন।
জ্বালানির দাম বাড়ানোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কোনো নির্দিষ্ট শর্ত আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, “না, এমন কোন শর্ত আসলে নেই। আইএমএফের বেসিক নিয়ম যেটা আছে, তারা চায় না একটা সরকার খুব বেশি ভর্তুকি দিক।”