ভারতের গঙ্গায় নৌকা উল্টে অন্তত ১৩ জনের প্রাণহানি হয়েছে। নিহতের সবার বয়স ১৫ বছরের নিচে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮। স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার রাতে দেশটির বিহারের বৈশালী জেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। নৌকাটি কীভাবে উল্টে গেল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দুর্ঘটনায় মৃত ও আহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জানার চেষ্টা করছে প্রশাসন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, নৌকায় প্রায় ১৫-২০ জন যাত্রী ছিলেন। প্রত্যেকেই পাশের গ্রামের একটি বাড়িতে দাওয়াতে যাচ্ছিলেন। রামপুর শ্যামচন্দ গ্রামের কাছে নৌকাটি উল্টে যায়। এসময় স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে উপস্থিত হয় রাঘোপুর থানার পুলিশ। কিছুক্ষণের মধ্যে ঘটনাস্থলে আসে উদ্ধারকারী দল। গঙ্গায় ডুবুরি নামিয়ে শুরু হয় তল্লাশি।তারপরেই একের পর এক মরদেহ উঠতে শুরু করে।
নিউজ১৮ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় নৌকাটিতে যাত্রীদের বেশির ভাগই ছিল রামপুর শ্যামচাঁদ গ্রামের শিশু। তারা নদী পার হয়ে একটি ভোজের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিল। এ সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
ভারতের বিহার রাজ্যের বৈশালীর জেলাশাসক বর্ষা সিং বলেন, এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। তিনি জানান, নৌকাটি ডুবে যাওয়ার সময় তাতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন শিশু ছিল। এখন পর্যন্ত সাতজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
বর্ষা সিং জানান, উদ্ধারকাজে রাজ্যের দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এসডিআরএফ) সঙ্গে স্থানীয় ডুবুরিরাও কাজ করছেন। নৌকাটিতে ঠিক কতজন যাত্রী ছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি আরও জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনাস্থলটি জেলা সদর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে রাঘোপুর থানার আওতাধীন এলাকায়।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত বেদনাদায়ক’ বলে উল্লেখ করেছেন। নিহত প্রত্যেকের পরিবারের নিকটাত্মীয়কে ২ লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীও নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে অতিরিক্ত ৪ লাখ রুপি করে সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।