২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম সফরের আগে সাবেক ক্রিকেটার ডেভিড হুকস বলেছিলেন, কীভাবে মাত্র একদিনেই প্রতিপক্ষকে হারাতে পারে অজিরা। সেবার তেমন কিছু হয়নি। তবে ম্যাকাই টেস্টে টানা ব্যাটিং ব্যর্থতায় দুই দিনেই হেরে গেল নাজমুল হোসেনের দল।
দ্বিতীয় দিনের উইকেটে ব্যাটিংয়ের জন্য তুলনামূলক সহজ হলেও ব্যাটিং ব্যর্থতা পিছু ছাড়েনি বাংলাদেশের। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৯৫ রানে গুটিয়ে গিয়ে তাই হারতে হয়েছে ইনিংস ও ৫১ রানের ব্যবধানে।
ম্যাচ শোচনীয়ভাবে হারলেও সিরিজ হারেনি বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের সিরিজ ড্র হয়েছে ১-১ ব্যবধানে। সিরিজের শুরুটা স্বপ্নের হলেও বাংলাদেশের জন্য শেষটা হল একরাশ হতাশা দিয়েই। বোলাররা অবিশ্বাস্য ভালো করলেও ব্যাটসম্যানদের সীমাহীন ব্যর্থতায় ঐতিহাসিক এক সিরিজ জয়ের সুবর্ণ সুযোগই হাতছাড়া হয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য দ্বিতীয় দিনের মূল লক্ষ্য ছিল যত দ্রুত সম্ভব অস্ট্রেলিয়াকে আটকে দেওয়া। ক্যামেরন গ্রিনকে ৬৭ রানে শরীফুল ইসলাম ফিরিয়ে শিকার করেন ইনিংসে তার সপ্তম উইকেট। তবে বাংলাদেশকে চিন্তায় ফেলে রান বাড়িয়ে নেন বোলার নাথান লায়ন।
চারটি চার ও এক ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ৩৪ রানে। অস্ট্রেলিয়া ১৪৬ রানের লিড পাওয়ার পর প্রায় অনুমিতই ছিল, এই ম্যাচ বাংলাদেশের হাত থেকে ছিটকে গেছে।
দ্বিতীয় দফায় ব্যাটিংয়ে নামতেই সেটা আরও স্পষ্ট হয়ে যায়। সিরিজে একটি সেঞ্চুরি করলেও আরও একবার বাজে শটে উইকেট বিলিয়ে দেন তানজিদ হাসান। তার আগেই সাজঘরের পথ ধরেন সাদমান ইসলাম এবং গোল্ডেন ডাক মারা মুমিনুল হক।
এই পরিস্থিতিতে দরকার ছিল ইতিবাচক ক্রিকেট খেলে রান বাড়িয়ে নেওয়া। নাজমুল ঠিক সেটাই করছিলেন চমৎকারভাবে। মিচেল স্টার্ককেও ছেড়ে কথা বলেননি। তবে ৩১ রান করে যখন সেট আর দলের চাওয়া দায়িত্বশীল ইনিংস, তখনই লায়নকে উইকেট স্রেফ উপহার দিয়ে আসেন।
আর লিটন দাস ভুলে যাওয়ার এক সফরে টানা তৃতীয় ইনিংসে ডাক মেরে দলকে বিপদে ফেলেন। ১০ বল সিরিজে তৃতীয়বার স্টার্কের শিকার হন তিনি।
বোলারদের নিয়ে এরপর মুশফিকুর রহিম (২৯) নিঃসঙ্গ লড়াই চালান হারের ব্যবধান কমানোর জন্য। চা বিরতির পর টানা দুই বলে দুই উইকেটে ম্যাচ শেষ করেন লায়ন।