ইউটিলিটি বিল, চিকিৎসা ও শিক্ষার ফি, মোবাইল রিচার্জসহ জরুরি খরচ মেটাতে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষুদ্রঋণ চালুর নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সুদের পরিবর্তে নির্ধারিত ফি-ভিত্তিক ও সম্পূর্ণ ডিজিটাল এই ঋণের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’। এ সুবিধার আওতায় সাধারণ গ্রাহকরা কোনো ধরনের জামানত ও সরাসরি স্বাক্ষর ছাড়াই ব্যাংক অ্যাপের মাধ্যমে দ্রুত এই ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন।
আজ রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, ইন্টারনেট ও মোবাইল-ভিত্তিক প্রযুক্তির প্রসারে দেশে অনলাইন আর্থিক লেনদেন বৃদ্ধি পেলেও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খরচ পরিশোধে গ্রাহকরা মাঝে মাঝে সাময়িক আর্থিক সংকটে পড়েন। ফলে বিল পরিশোধে বিলম্ব, আর্থিক জরিমানা কিংবা সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। এই সংকট কাটানো এবং ডিজিটাল লেনদেন উৎসাহিত করতেই বিনা সুদে ফি-ভিত্তিক এই ‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ সুবিধা চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই ঋণ সুবিধাটি মোট ৯টি সুনির্দিষ্ট পরিষেবার খরচে ব্যবহার করা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে— বিভিন্ন ধরনের ইউটিলিটি বিল, মোবাইল রিচার্জ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ফি, টোল বা টিকিটের খরচ, করসহ সরকারি ফি, আমানতের ডিপিএস কিস্তি, বীমা প্রিমিয়াম এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনুমোদিত অন্যান্য পরিষেবা ফি। তবে এ ঋণের অর্থ গ্রাহক কখনোই নগদ টাকায় রূপান্তর করতে পারবেন না এবং ব্যাংক হিসাব বা ই-ওয়ালেটে স্থানান্তর বা ক্যাশ আউট করা যাবে না। সরাসরি পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের হিসাবে এই অর্থ চলে যাবে।
ই-পেমেন্ট ক্রেডিটের ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত হবে এবং মেয়াদের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ফি পরিশোধ করতে হবে। মেয়াদ শেষের আগে বকেয়া পরিশোধ করলে মূল ফির বাইরে কোনো অতিরিক্ত আগাম পরিশোধ ফি বা অন্য কোনো চার্জ কাটা যাবে না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি ব্যাংকগুলোর অনুমোদিত অ্যাপের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতে হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে ওটিপি ও মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি যেকোনো খেলাপি বা তথ্য গোপনকারী গ্রাহক যেন এই সুবিধা না পান, সে বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পুরোপুরি চালু করার আগে ন্যূনতম ৬ মাস এই সুবিধার পাইলটিং বা পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।