জাপানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হিরোশিমায় যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বোমা হামলার ৮১তম বার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শহরটির মেয়র কাজুমি মাতসুই যুদ্ধরত পরাশক্তিগুলোর সমালোচনা করে বলেন, প্রতিরোধের উপায় হিসেবে পারমাণবিক অস্ত্রের মালিকানাকে ন্যায্যতা দেওয়া বন্ধ করতে হবে।
হিরোশিমা পিস মেমোরিয়াল পার্কে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানসহ প্রায় ১২০টি দেশ ও অঞ্চলের প্রতিনিধিসহ প্রায় ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন।
বার্তা সংস্থা এপির বরাতে ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
অনুষ্ঠানে শান্তি ঘোষণা পাঠ করে মাতসুই বলেন, এখনো অনেক রাজনৈতিক নেতা পারমাণবিক প্রতিরোধনীতিকে বাস্তবসম্মত কৌশল হিসেবে বিবেচনা করেন এবং সহিংসতাকে বৈধতা দেন। এতে “পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্বের স্বপ্ন আরও দূরে সরে যাচ্ছে।” তিনি অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রত্যেক নাগরিককে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বানও জানান।
তিনি বলেন, “পারমাণবিক অস্ত্রের অমানবিকতাকে খাটো করে দেখা এবং নিজেদের সমৃদ্ধির জন্য শক্তি প্রয়োগকে গ্রহণযোগ্য মনে করা সহিংস প্রতিশোধের এক অন্তহীন চক্র তৈরি করতে পারে, যার পরিণতিতে আবারও হিরোশিমা বা নাগাসাকির মতো বিপর্যয় ঘটতে পারে।”
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো স্মরণানুষ্ঠানে অংশ নিয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, জাতিসংঘের পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তির (এনপিটি) কাঠামোর মধ্যে থেকে এমন একটি বিশ্ব গড়তে তিনি “বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি” গ্রহণ করবেন, যেখানে পারমাণবিক অস্ত্র কখনো ব্যবহার করা হবে না।
এবারের অনুষ্ঠান এমন সময় অনুষ্ঠিত হলো, যখন জল্পনা চলছে, পারমাণবিক প্রতিরোধনীতির সমর্থক তাকাইচির কট্টরপন্থী সরকার চলতি বছরের শেষ দিকে নতুন নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নথি প্রণয়নের সময় জাপানের যুদ্ধ-পরবর্তী ‘তিনটি অ–পারমাণবিক নীতি’ শিথিল করতে পারে।
তাকাইচি এর আগে এ নীতিগুলো পুনর্বিবেচনার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। বিশেষ করে তৃতীয় নীতি—জাপানের ভূখণ্ডে পারমাণবিক অস্ত্র প্রবেশ করতে না দেওয়া। এই নীতি বাতিলের সম্ভাবনার কথাও তিনি উল্লেখ করেছিলেন।
তিনি বলেন, জাপান এখন পর্যন্ত যুদ্ধ-পরবর্তী তিনটি অ-পারমাণবিক নীতি মেনে চলছে। তবে ভবিষ্যতেও এই নীতি অপরিবর্তিত থাকবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি তিনি দেননি।
১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট হিরোশিমায় যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বোমা হামলায় শহরটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় এবং প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ নিহত হয়। তিন দিন পর নাগাসাকিতে দ্বিতীয় পারমাণবিক বোমা হামলায় আরও ৭০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।