ওমানের সাথে ভবিষ্যতে নৌ চলাচল নিয়ে হওয়া প্রস্তাবিত চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলেও পারস্য উপসাগরের কৌশলগত প্রবেশপথ হরমুজ প্রণালি খুলবে না বলে জানিয়েছে ইরান। বিষয়টি রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক দুই প্রতিনিধি। চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে তেহরানের জন্য এটিকে একটি বড় ধরনের কৌশলগত ও কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি শর্ত মেনে নেওয়ার আভাস দিলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘চুক্তি প্রায় নিশ্চিত’ সংক্রান্ত মন্তব্যকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রগুলো। তাদের মতে, চুক্তির মূল ও সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে এখনো সমঝোতা হওয়া বাকি।
রয়টার্সকে একটি সূত্র জানায়, প্রণালিতে কোনো না কোনোভাবে ইরানের নিয়ন্ত্রণ মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও ‘নিয়ন্ত্রণ’-এর পরিধি ঠিক কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। উপসাগরীয় মধ্যস্থতাকারীরা দাবি করছেন, জাহাজ তদারকির বিষয়টি যেন আঞ্চলিক দেশগুলোর যৌথ তত্ত্বাবধানে থাকে এবং যেকোনো ট্রানজিট ফি আদায় বাধ্যতামূলক না করে স্বেচ্ছাধীন রাখা হয়।
ইরানি কর্মকর্তার মতে, খসড়ায় কেবল পারস্য উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজের ওপর ইরানের নজরদারির সুযোগ রাখা হয়েছে, তবে প্রণালি দিয়ে বের হয়ে যাওয়া নৌযানের ওপর ইরানের অধিকার কতটুকু থাকবে তা নিয়ে এখনো তীব্র মতভেদ রয়েছে।
বিশ্ববাণিজ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ইরানের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার কঠোর বিরোধী হলেও, গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধের বিরুদ্ধে দেশে ব্যাপক রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন একটি চুক্তির দিকে এগোতে বাধ্য হচ্ছে।