ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ কারণে তিস্তার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সতর্ক করে জানিয়েছে, নদী অববাহিকায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বরাতে বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, আজ বুধবার বিকেল ৩টার দিকে তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীটির পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে। ওই পয়েন্টে তিস্তার পানির বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার হলেও ওই সময়ে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ২১ মিটার। পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতোমধ্যে নদীসংলগ্ন নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে।
অন্যদিকে, লালমনিরহাটের অন্যান্য নদ-নদীর মধ্যে ধলা নদীর পানি শিমুলবাড়ী পয়েন্টে ২৯ দশমিক ৪৮ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছে। এই পয়েন্টে বিপৎসীমা ৩০ দশমিক ৮৭ মিটার, অর্থাৎ পানি এখনো বিপৎসীমার ১ দশমিক ৩৯ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, নদীর পানি বাড়ায় নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বসতবাড়িতে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। তবে এই মুহূর্তে কৃষি জমিতে উল্লেখযোগ্য কোনো মৌসুমী ফসল না থাকায় বড় ধরনের ফসলি ক্ষতির আশঙ্কা কম।
উজান থেকে আসা অতিরিক্ত পানির চাপ ও অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে নদ-নদীর পানি আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছে পাউবো। এর ফলে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লালমনিরহাটসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।
লালমনিরহাট পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, “পাহাড়ি ঢল এবং টানা বৃষ্টির কারণেই নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য বন্যা মোকাবেলায় পাউবো প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।”