কাকতালীয়ভাবে লিটন দাসের চোট সমস্যার শুরু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, আর শেষটাও হতে যাচ্ছে সেই একই দলের বিপক্ষে। মাঝের এই সময়ে তিন বার ফিটনেসের কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে তাকে। অজিদের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে না থাকলেও নাটকীয়ভাবে ফেরানো হয়েছে লিটনকে, সম্ভাবনা জেগেছে খেলারও। শুরু থেকেই চোটের বিষয়টা এত বেশি জটিলতায় জর্জরিত, তাতে প্রক্রিয়াটা নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ রয়েছে যথেষ্টই।
সিঙ্গাপুর থেকে চিকিৎসা নিয়ে ফিরে লিটনের সেরে উঠতে বেশ সময় লাগবে বলেই তাকে রাখা হয়নি প্রথম টেস্টের দলে।
বলা হয়েছিল, আগামী ১২ আগস্ট ফিটনেস পরীক্ষা করা হবে। তবে এর ১০ দিন আগেই মিরপুরে হুট করেই অনুশীলনে নেমে পড়েন অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার। ব্যাটিং অনুশীলন করার পর সেদিন রাতেই লিটনকে প্রথম ম্যাচের স্কোয়াডে যুক্ত করা হয়।
একজন খেলোয়াড় নির্দিষ্ট সময়ের আগে চোট থেকে সেরে উঠতেই পারেন, অজস্র উদাহরণ রয়েছে এর। তবে লিটনের চোট নিয়ে শুরু থেকেই ধোঁয়াশা ছিল বলে এই ঘোষণা বিস্ময়ের জন্ম দেয়। তিনি কিপিং করতে পারবেন নাকি বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান হিসেবেই খেলতে পারবেন, সেটাও বলা হয়নি স্পষ্টভাবে।
প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার এর ব্যাখ্যায় বলেছিলেন, লিটন আগেই সুস্থ হয়ে যাওয়ায় তাকে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানো হচ্ছে। তবে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার নিশ্চয়তা দেননি।
অন্যদিকে সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, “টেস্ট ক্রিকেট ‘হাই ইনটেনসিটির’ না। লিটন তাই কিপিং না পারলেও ব্যাটিং করতে পারলেই ম্যাচ খেলবেন।”
তবে বিসিবির মেডিকেল বিভাগের একজন সদস্য চরচাকে যা বলেছেন, সেটা লিটনের ফিটনেস নিয়েই প্রশ্ন তুলতে পারে। তিনি বলেন, “লিটন বলেছে, তার ব্যথা নেই। এটা শুনেই তাকে দলে নেওয়া হয়েছে। আমরা ঝুঁকির কথা বলেছি। তবে ওপর মহল থেকে বলা হয়েছে, প্রথম টেস্ট না খেললেও তাকে দলে নেওয়ার জন্য।”
আর এখানেই মূল সমস্যা। লিটনের চোট গ্রেড-২-এর। সিঙ্গাপুরে গিয়ে পা ফুলে যাওয়ার চিকিৎসা নিয়েছেন। ১২ আগস্ট যার ফিটনেসের পরীক্ষা দেওয়ার কথা, তার একদিন বাদেই কিনা তিনি একটা টেস্ট ম্যাচ খেলে ফেলবেন। তাও তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ না খেলেই সরাসরি!
প্রথমত, হাবিবুল ও সালাহউদ্দিনের কথাতেই স্পষ্ট লিটনের ফিটনেস নিয়ে তাদেরও ধোঁয়াশার দিকটি। এমন অবস্থায় দেড় মাসেরও বেশি সময় ক্রিকেটের বাইরে থেকে সরাসরি একটা টেস্ট ম্যাচে নেমে যাওয়াটা কতটাই বা যৌক্তিক হতে পারে? কিপিং না করলেও লিটনকে দুই ইনিংসে ব্যাটিং করতে হবে, দৌঁড়াতে হবে এবং ফিল্ডিংও করতে হবে। শতভাগ ফিট না থেকে সেটা আদৌ সম্ভব?
এর চেয়েও বড় সমস্যা হল, নাহিদ রানার সঙ্গে যে ভুলটা হয়েছে, সেটারই যেন পুনরাবৃত্তি হচ্ছে আবারো। জিম্বাবুয়ে সফরে ভাল করেননি ব্যাটসম্যানরা, তাই জেতার জন্য মরিয়া হয়ে তাকে বেশি ম্যাচ খেলানো হয়েছে পরিকল্পনার বাইরে গিয়ে।
আর এবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নাহিদ রানা ও শরীফুল ইসলাম না থাকায় বোলিংয়ের ধার কমে গেছে।
অন্যদিকে, লিটন না খেললে খেলাতে হবে অনভিজ্ঞ অমিত হাসান বা এই বছর কোনো টেস্ট না খেলা জাকের আলিকে। সেই ঝুঁকি এড়াতেই কি তাহলে লিটনকে প্রথম টেস্ট খেলাতে এত তোড়জোড়?
যদি সেটা হয়, তাহলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) যেন এক ভুল আড়াল করতে গিয়ে আরেকটি ভুলের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে। তবে লিটন যদি সবাইকে ভুল প্রমাণ করে ব্যাটিং এবং কিপিং করতে পারেন, তাহলে বর্তে যাবে প্রচণ্ড চাপের মুখে থাকা বিসিবির মেডিকেল বিভাগ। লিটন কি তাদের ত্রাতা হবেন? নাকি আরও বিপদ বাড়াবেন?