দেশে চলমান জ্বালানি ঘাটতি মেটানো, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকারের কিছু সময়ের প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ প্রক্রিয়ায় সাধারণ জীবনযাত্রায় কিছুটা সাময়িক বিঘ্ন ঘটলেও তা মেনে নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতির পেছনে বিগত ১৭ বছরের দলীয় অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছেন মন্ত্রী।
আজ বুধবার দুপুরে সিলেট জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ওই অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ১৪টি শহিদ পরিবার এবং গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী যোদ্ধাদের সম্মাননা ও আর্থিক সহায়তা হস্তান্তর করা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির তার বক্তব্যে বলেন, ‘‘বাংলাদেশ মূলত আমদানিকৃত গ্যাসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল। ফলে হঠাৎ তৈরি হওয়া সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠা চ্যালেঞ্জিং। তবে জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে শতভাগ জবাবদিহি ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকলে দেশকে পরিবর্তন করা অসম্ভব নয়। তারুণ্যের শক্তিকে দেশের প্রধান সামাজিক শক্তিতে রূপান্তর করে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’’
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত জুলাই যোদ্ধারা সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে হয়রানি ও অসূলভ আচরণের অভিযোগ তোলেন। আন্দোলনে অংশ নেওয়া লিটন আহমদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘ভাতা বা কোনো ব্যক্তিস্বার্থের জন্য কেউ রাজপথে নামেননি। অথচ রাষ্ট্রীয় গেজেটে নাম আসার পর থেকে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল থেকে তাঁদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’’ গেজেট যদি নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়, তবে তা প্রত্যাহার করে নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
মামলার ধীরগতি ও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে লিটন আহমেদ আরও বলেন, ‘‘পুলিশ সদস্যরা ঘটনা তদন্তের নামে উল্টো আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের কাছেই ভিডিও ফুটেজ চেয়ে পাঠাচ্ছেন, যা হতাশাজনক।’’
রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধরে রাখতে ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর জোর দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক বলেন, ‘‘এই আন্দোলন সফল না হলে দেশের সার্বভৌমত্ব মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ত।’’ তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ধন্যবাদ জানিয়ে জুলাই যোদ্ধাদের দেশের গর্বিত সন্তান হিসেবে মূল্যায়ন করার আহ্বান জানান।
সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীমসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।