
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী দুই দিনে রংপুর বিভাগ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উজানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর আরও তিন দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৩৬টি পয়েন্টে মোট ১১ দশমিক ২৪৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বর্তমানে তীব্র ভাঙন চলছে। ভাঙন আতঙ্কে নদীপাড়ের বাসিন্দারা রাত জেগে ঘরবাড়ি পাহারা দিচ্ছেন।

তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে পানির স্তর পরিমাপক নুরুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে তিস্তা নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। বিকেল ৩টায় বিপদসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। হঠাৎ করে পানি বাড়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিস্তাপাড়ের মানুষ।

উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টির প্রভাবে দ্রুত বাড়ছে তিস্তা নদীর পানি। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী বলেছেন, আগামী একনেক সভাতেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রকল্প পাশ হবে, তবে বিশেষজ্ঞ টিমের পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে কাজ শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্পকে অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে বিবেচনায় নিয়েছেন। তাই তিস্তাপারের বাসিন্দাদের আর কোনো চিন্তা নেই।

তিস্তা শুধু একটি নদী নয়, উত্তরবঙ্গের কোটি মানুষের জীবনরেখা। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে এই নদীই হয়ে উঠেছে ভাঙন, বন্যা আর পানিসংকটের প্রতীক। আর সেই সংকট থেকে মুক্তির লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা।

ভারত কখনো শুষ্ক মৌসুমে তিস্তার উজানের পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করে কোনো চুক্তি করেনি। ফলে ভাটিতে থাকা বাংলাদেশকে প্রতি বছর তার কৃষিভিত্তিক অঞ্চল আরও একটু করে শুকিয়ে যেতে দেখতে হচ্ছে।

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার দ্রুতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি জানান, প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য শিগগিরই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে।

জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোতে দিনের বেলা পানি জমিয়ে রাখা হয় এবং সন্ধ্যায় যখন বিদ্যুতের চাহিদা তুঙ্গে থাকে তখন তা ছাড়া হয়। এর ফলে নদীর স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হয়। এছাড়া, এই বাঁধগুলো পলি আটকে ফেলে। বাঁধ থেকে বেরিয়ে আসা পানি পলিহীন হওয়ায় তা ভাটির দিকে নদীর তলদেশ ও পাড় বেশি ক্ষয় করে থাকে।

দিল্লি সফর থেকে বাংলাদেশ কী পেল? পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর কী নিয়ে আলোচনা করলেন? ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক কি আগের জায়গায় যাবে? ফারাক্কা, তিস্তার মতো পানিবণ্টন চুক্তিগুলোর ভবিষ্যৎ কী?

পানি বণ্টন ইস্যু, বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা চুক্তি এবং গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়ন নিয়েও আলোচনা উঠবে।বাণিজ্য সহজীকরণ, শুল্ক-বহির্ভূত বাধা কমানো এবং লজিস্টিকস উন্নয়নও আলোচ্য সূচিতে রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার তিস্তা নদীর অবকাঠামো উন্নয়নে চীনা বিনিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, যার তীব্র বিরোধিতা করেছিল দিল্লি। এই উত্তেজনা নিরসন করতে পারলে দুই দেশই সম্পর্কের ক্ষেত্রে সদিচ্ছার সংকেত দিতে পারবে।

বিশ্বরাজনীতি, অর্থনীতি, সমরনীতিতে কি দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্ব বাড়ছে? ভারত, চীন–দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক খারাপ হওয়ার পেছনের কারণ কি বাজার নিয়ন্ত্রণ? নাকি ব্রিটিশদের করা বিভাজন?