সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে কিশোরদের ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পাঁচ গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।
আজ বুধবার দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মধ্য তাহিরপুর গ্রামে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি)-এর কার্যালয়ের সামনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের আগে মঙ্গলবার মধ্যরাতে মাইকিং করে প্রস্তুতি নেওয়ার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় সপ্তাহখানেক আগে মধ্য তাহিরপুর এলাকার একটি মাঠে কয়েকজন কিশোর ক্রিকেট খেলছিল। এ সময় সড়ক দিয়ে যাওয়া একটি ইজিবাইকের কাচে বল লাগাকে কেন্দ্র করে মধ্য তাহিরপুরের ইজিবাইকচালকের সঙ্গে বীরনগর গ্রামের এক কিশোরের কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়।
এর জের ধরে পরদিন তাহিরপুর বাজারে বীরনগর গ্রামের এক যুবককে মারধর করেন মধ্য তাহিরপুর গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি। এই ঘটনার পর মধ্য তাহিরপুরের বাসিন্দাদের সঙ্গে বীরনগর, ধুতমা, জয়নগর ও লক্ষ্মীপুর—এই চার গ্রামের মানুষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
গত মঙ্গলবার রাতে বাজারে উভয় পক্ষের দুই যুবকের মধ্যে পুনরায় হাতাহাতি হয়। এর পরপরই রাত ১২টার দিকে বীরনগর গ্রামের একটি মসজিদের মাইক থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়—‘বুধবার সকালে যার কাছে যা আছে, তা নিয়ে মাঠে উপস্থিত থাকার জন্য।’ মাইকিংয়ের সেই ভিডিওটি রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
বুধবার সকালে ঘোষিত সূচি অনুযায়ী উভয় পক্ষের বিপুলসংখ্যক মানুষ লাঠিসোটা নিয়ে ঘটনাস্থলে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে পুলিশ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। বেলা ১২টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলা সংঘর্ষে ইটপাটকেলের আঘাতে উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন। পুরো এলাকায় দেখা দেয় তীব্র আতঙ্ক। গুরুতর আহত তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক আহমদ বলেন, “মাইকিংয়ের খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ফোর্স নিয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু সকালে বহু লোক জমায়েত হয়ে হঠাৎ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনও কাউকে আটক করা হয়নি এবং মামলা দায়ের হয়নি।”