মার্কিন সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রাগার ফাঁকা হয়ে যাওয়ার বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে খবরের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘বিপুল পরিমাণ’ গোলাবারুদের মজুত রয়েছে।
পেন্টাগনের গোলাবারুদের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে বলে জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তার তথ্য সিএনএন প্রকাশ করার পর ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই দাবি জানান। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে ট্রাম্প এই পোস্ট করেন।
গভীর রাতে দেওয়া বার্তায় ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রচুর পরিমাণ গোলাবারুদ রয়েছে, বিশেষ করে সুনির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরিতে। এছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী বড় ধরনের অস্ত্রের চালান তৈরি করে দেশে আনা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে কোন নির্দিষ্ট ধরনের গোলাবারুদের কথা তিনি বলছেন, তা পরিষ্কার করেননি। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক নতুন কারখানা নির্মাণ করছে বলেও তিনি জানান।
এর আগে সিএনএন একাধিক সূত্রের বরাতে জানায়, মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের অন্যতম প্রধান ‘থাড’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যবহার করে ফেলেছে। পেন্টাগনের অস্ত্র মজুত বিপজ্জনক মাত্রায় কমে আসার বিষয়ে সতর্ক করার কথা ওই প্রতিবেদনে উঠে আসে।
যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম ও প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইলের অবশিষ্ট মজুতের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ আগে কখনো প্রকাশ পায়নি। প্রতিটি ১০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের এই দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিরাপদে প্রতিপক্ষের ওপর আঘাত হানার জন্য অত্যন্ত কার্যকরী।
ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ভেতরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলায় আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল ব্যবহৃত হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে সরিয়ে তুলনামূলক আধুনিক প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ধরনের মিসাইল ফুরিয়ে এলে ট্রাম্প যদি পুনরায় ইরানের ওপর বড় আকারের হামলা চালাতে চান, তবে তাকে পাইলট চালিত বোমারু বিমানের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে, যা অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। মার্কিন অস্ত্রাগারে বর্তমানে ঠিক কতটি ক্ষেপণাস্ত্র বাকি রয়েছে, সে তথ্য দিতে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো অপরাগতা প্রকাশ করেছে।