বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো বৈদেশিক মুদ্রায় সার্বভৌম বন্ড বিক্রি করতে যাচ্ছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে এই বন্ড বাজারে ছাড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। এই বন্ড বিক্রি করে ৫০ কোটি থেকে ১০০ কোটি ডলার সংগ্রহ করার লক্ষ্য সরকারের।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে তারা লিখেছে, বাংলাদেশ সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তাদের এসব তথ্য জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি গত শনিবার রাতে এক সাক্ষাৎকারে ব্লুমবার্গকে বলেছেন, এই বন্ড ইস্যুর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকবে মার্কিন ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং কোম্পানি জেপি মরগান চেইজ অ্যান্ড কোং। তবে বন্ড বিক্রির এই পরিকল্পনার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তানভীর শাহরিয়ার গনি। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন জানাচ্ছে, তানভীর শাহরিয়ার গনি সরকারের এই বন্ড ইস্যু কমিটির প্রধান।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়িয়েছে, ফলে বিশ্বজুড়ে ঋণ নেওয়ার খরচ বেড়ে গেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোকেও এখন ঋণের ক্ষেত্রে সুদের হার বেশি দিতে হচ্ছে। তানভীর শাহরিয়ার গনিকে উদ্ধৃত করে ব্লুমবার্গ লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার বাড়ানো এবং এর ফলে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কী দামে বন্ড ছাড়বে, সেই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।
“সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বেড়েছে। এর প্রভাব উদীয়মান বাজারগুলোর সুদের হারের ওপরও পড়বে। তাই আমরা বন্ডের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকব এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব”–বলেছেন তানভীর শাহরিয়ার গনি।
সরকার অর্থায়নের প্রয়োজন মেটানোর ব্যাপারে তৎপর জানিয়ে তানভীর শাহরিয়ার গনি ব্লুমবার্গকে বলেছেন, তবে সরকার ‘কস্ট অব ক্যাপিটাল’ বা অর্থ সংগ্রহের খরচের বিষয়টি নিয়েও সতর্কভাবে ভাবছে।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ব্যাপারে গত সপ্তাহে ইউরোপে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হয়েছে। এরপর নিউইয়র্কে (জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সময়ে) বাংলাদেশ সরকারের দিক থেকে যে বৈঠকগুলো করেছে, সেগুলোতেও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ যাচাই করার দিকেই মূল নজর ছিল বলে ব্লুমবার্গকে বলেছেন তানভীর শাহরিয়ার গনি। এই বৈঠকগুলো শেষে তার দাবি, “সার্বভৌম বন্ডের ব্যাপারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ অনেক বেশি।”
তবে বন্ড ইস্যুর কাঠামো নিয়ে ব্লুমবার্গকে বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি তানভীর শাহরিয়ার গনি। এই বন্ড ইস্যুর প্রক্রিয়ার সঙ্গে কিছু ‘আইনি বিষয়’ জড়িত জানিয়ে গনি বলেছেন, সেগুলোকে ‘গুরুত্বের সঙ্গে’ বিবেচনায় নিতে হবে।
বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০১২ সালে প্রথমবারের মতো বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ঋণপত্র বা বন্ড বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিল। তৎকালীন সরকারও পরে বিষয়টি নিয়ে আবার কাজ শুরু করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।